লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের নির্বাচনি প্রচারণার শেষ লগ্নে এসে এক অভূতপূর্ব জনবিস্ফোরণ দেখল সীমান্তঘেঁষা জেলা শহর লালমনিরহাট। বিএনপি প্রার্থী ও দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর সমর্থনে আয়োজিত ভোটার যাত্রা কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং পরিণত হয়েছিল সর্বস্তরের মানুষের এক বিশাল সম্প্রীতির মহোৎসবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের এমটি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
শোভাযাত্রায় পুরো শহর ধানের শীষের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে কয়েক হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসেন।
রাজপথে একাকার ভিক্ষুক ও পেশাজীবী
এই মিছিলের সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল এর অংশগ্রহণকারীদের বৈচিত্র্য। মিছিলে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত ভিক্ষুক সমাজ থেকে শুরু করে শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা একই কাতারে পা মিলিয়েছেন। প্রায় অর্ধ শতাধিক সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন এই মিছিলে একাত্মতা প্রকাশ করে যোগ দেন। ঢাক-ঢোলের বাদ্যি আর সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই নির্বাচনি প্রচারণাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি যখন শেষ হয়, তখনো মানুষের ভিড় কমেনি।
সাধারণ ভোটারদের মতে, লালমনিরহাটের ইতিহাসে কোনো একক প্রার্থীর পক্ষে সর্বস্তরের মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত সমাগম আগে কখনো দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, এই ভোটার যাত্রার মাধ্যমে আসাদুল হাবিব দুলু কেবল নিজের শক্তিমত্তাই প্রদর্শন করেননি, বরং সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে এক নতুন আশার আলো জ্বেলে দিয়েছেন।
মিছিলের আগে বক্তব্য রাখেন আসাদুল হাবিব দুলু। উপস্থিত জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আজকের এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে যে, লালমনিরহাটের মানুষ আর শৃঙ্খলিত থাকতে চায় না। এই ভোটার যাত্রা কেবল ভোট চাওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই। আমি আজ আপ্লুত কারণ আমার ডান পাশে যেমন বসে আছেন সমাজের উঁচুতলার পেশাজীবীরা, তেমনি বাম পাশে হাত মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আমার সেই ভাইটি—যিনি হয় তো দুই বেলা খাবারের জন্য অন্যের কাছে হাত পাতেন। এই যে ধনী-দরিদ্রের দেয়াল ভেঙে আমরা এক কাতারে দাঁড়িয়েছি, এটাই আমার স্বপ্নের লালমনিরহাট।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন এক আলোকিত লালমনিরহাট গড়ার অঙ্গীকার করছি, যেখানে কোনো মা তার সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে হিমশিম খাবে না। যেখানে শিক্ষা হবে সবার জন্য সমান, আর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাবে প্রতিটি দুয়ারে। আমরা এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়তে চাই যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাই-বোনেরা একে অপরের হাত ধরে নির্ভয়ে বসবাস করবে। আপনাদের এই ভালোবাসা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমি কথা দিচ্ছি, যদি ধানের শীষের বিজয় হয়, তবে সেই বিজয় হবে লালমনিরহাটের প্রতিটি মেহনতি মানুষের বিজয়।’
কেকে/এসএএস