পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম থেকে দশম শ্রেণির প্রমোশন পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিভাবকরা।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষক সিন্ডিকেট এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এইচ.এম. নাজমুল হোসাইন। তিনি জানান, ২০২৫ সালের নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্যতার ঘটনা ঘটেছে। কারও কারও ক্ষেত্রে ১ থেকে ৭–৮টি বিষয়ে ফেল হয়েছে, যা তাদের মতে অস্বাভাবিক এবং প্রশ্নবিদ্ধ। অভিভাবকরা দাবি করেন, কিছু শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়ার কারণে শিক্ষার্থীদের নাজেহাল করা হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে ফেল করানো হয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, করোনাকাল ও পরবর্তী সময়ে শিক্ষাব্যবস্থার অটোপাস, মোবাইলভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্ট ও পরিবর্তনশীল কারিকুলামের কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারেনি, কিন্তু এর দায় তাদের উপর চাপানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কিছু শিক্ষক ক্লাস নেওয়া বা ক্লাস টিচার হওয়ার সুযোগকে কেন্দ্র করে প্রাইভেট পড়াতে চাপ সৃষ্টি করতেন। যারা প্রাইভেট পড়েনি, তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলা হয়, তৃতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো বিষয়ে ফেল না করা শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করে প্রমোশন পরীক্ষায় গণহারে অকৃতকার্য কেন হলো। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ছাড়া অন্য শিক্ষকদের দ্বারা খাতা মূল্যায়ন, পরীক্ষার খাতা না দেখানো এবং ফলাফল প্রকাশে অস্পষ্টতাকেও তারা তুলে ধরেন।
অভিভাবকরা জানান, সাবেক অধ্যক্ষের অপসারণ এবং কয়েকজন মেধাবী শিক্ষকের বদলির ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলস্বরূপ বরিশাল বিভাগের অন্যতম সেরা বিদ্যালয়টি বর্তমানে শিক্ষা সংকটে পড়েছে। তারা আরও বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না, একই শ্রেণিতে দীর্ঘদিন আটকে রয়েছে এবং নিবন্ধন পরিবর্তনের জটিলতায় তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সম্প্রতি ১৮ জন ছাত্রী ও ৮ জন ছাত্রকে প্রমোশন দেওয়া হলেও অধিকাংশ অকৃতকার্য শিক্ষার্থী তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অভিভাবকদের আন্দোলন এবং গণমাধ্যমের ভূমিকার কারণে একটি শিক্ষা সফরও স্থগিত করা হয়েছে। এডিসি (শিক্ষা) এর নির্দেশে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে আরও ভেঙে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।
শেষে অভিভাবকরা সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, শিশুদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য। একই সঙ্গে নবম থেকে দশম শ্রেণিতে শর্তবিহীন প্রমোশনের দাবি জানান এবং প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেওয়ার কথাও বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আ. জলিল, নাহরিন আক্তার, কাকন কর্মকার ও নাজমুল নাহার অনু। এডিসি শিক্ষা এবং বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষকে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
কেকে/এলএ