ফরিদপুর–৪ (ভাঙ্গা–সদরপুর–চরভদ্রাসন) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচারণা ও গণসংযোগে এলাকা সরগরম। পথসভা, জনসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তারা ভোটারদের কাছে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের একটাই দাবি—যে প্রার্থী এলাকায় বেশি উন্নয়ন করবেন এবং সুখ–দুঃখে পাশে থাকবেন, তাকে ভোট দেবেন।
এবার নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন: বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মো. সরোয়ার হোসেন (দাড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী স্থপতি মুজাহিদ বেগ (ফুটবল প্রতীক), ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মোঃ ইসহাক চোকদার (হাতপাখা প্রতীক), স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী এম. এম. হোসাইন (ঘোড়া), জাতীয় পার্টি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা রায়হান জামিল (লাঙ্গল) এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আতাউর রহমান কালু (কাস্তে প্রতীক)।
ফরিদপুর–৪ আসনটি তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৯০ হাজার ৯৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ৫৭৩ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৪০৩ জন। ভাঙ্গা উপজেলার ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮১৬, সদরপুর ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৬৩ এবং চরভদ্রাসন ৬৫ হাজার ৭২৬।
স্বাধীনতার পর এই আসনে ৫ বার আওয়ামী লীগ, ২ বার জাতীয় পার্টি, ১ বার বিএনপি এবং ২ বার স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি মনোনীত মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাওলানা মো. সরোয়ার হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রতীকের ফুটবল প্রতীকের স্থপতি মুজাহিদ বেগ।
শেষ মুহূর্তে এই তিন প্রার্থী জনসমাগম, পথসভা, উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের আশ্বাস দিচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের ধারণা, লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম খান বাবুল জানিয়েছেন, এবারে ধানের শীষে ভরধ্বস বিজয় হবে। নির্বাচিত হলে তিনি এলাকায় নানামুখী উন্নয়ন করবেন। এর মধ্যে ভাঙ্গার গোলচত্বর সংলগ্ন স্থানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাঙ্গায় একটি ট্রমা সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্য।
অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন নদীভাঙ্গন কবলিত এলাকার উন্নয়ন এবং একটি উচ্চমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
কেকে/এলএ