রংপুর–৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) আসনে গ্রাম, পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার এমনকি বাড়ি বাড়ি নির্বাচনি প্রচারণা এখন তুঙ্গে। কোথাও হচ্ছে খিচুড়ি রান্না, কোথাও বিস্কুট-চা, আবার কোথাও খোরমা বিতরণ। পরিস্থিতি বুঝে ভোটের প্রচারণায় নানাভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। সব মিলিয়ে ভোটের মাঠ এখন পুরোপুরি সরগরম।
এদিকে বছরের এই সময়টায় কৃষকদের হাতে তেমন কাজ না থাকায় তারাও নেতাদের আহ্বানে মাঠে-ময়দানে ভোটের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এলাকা ঘুরে জানা গেছে, সবার মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—কে হচ্ছেন এমপি? উত্তরের জেলা রংপুর শহরের খুব কাছের এই আসনটি কাউনিয়া ও পীরগাছা—এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মাঠ দখলে রেখেছেন ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা এবং জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ্ মো. মাহবুবার রহমান।
ফলে নির্বাচনি লড়াই মূলত শাপলা কলি, ধানের শীষ ও লাঙ্গল—এই তিন প্রতীকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নিজ নিজ বাক্সে ভোট টানতে নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিসহ লোভনীয় প্রস্তাব তুলে ধরছেন ভোটারদের সামনে। যদিও নারী ভোটাররা এসব আয়োজনের বাইরে থাকলেও পুরুষ ভোটারদের কাছে লোভনীয় প্রতিশ্রুতি, উন্নয়ন ভাবনা এবং ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দিন-রাত মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।
দীর্ঘদিন ভোটের মাঠে নানা অনিশ্চয়তা থাকলেও এবার এলাকার ভোটাররা হিসাব কষতে শুরু করেছেন—কে হবেন এমপি? প্রত্যেকে নিজ নিজ রাজনৈতিক অবস্থান থেকে দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ভোটের মাঠে সরাসরি সক্রিয় নন, এমন অনেক ভোটার বলছেন—তারুণ্যের জোয়ার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক হিসেবে শাপলা কলি প্রতীকের আখতার হোসেনের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বিগত দেড় দশক ভোট দিতে না পারায় এবার নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপির এমদাদুল হক ভরসার ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়ী হবে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির সমর্থকদের ভাষ্য—‘ছাফ কথা, আমরা এরশাদের; এরশাদ আমাদের। তাই এবার লাঙ্গলের শাহ্ মাহবুবার রহমানই এমপি হবেন।’
সব মিলিয়ে এখন দেখার পালা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কার ভাগ্য খুলে, কে পরবেন জয়ের মালা আর শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন রংপুর–৪ আসনের সংসদ সদস্য।
কেকে/এলএ