কর আদায় না বাড়িয়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে ব্যাংক ঋণের বোঝা সরকারের আবারও বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আহসান মনসুর আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার অভাবে প্রত্যাশার তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে। সরকার বাজেটে কাটছাঁট করার পরও ব্যাংকখাত থেকে ঋণের হার বেড়েছে।’
‘ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন প্রয়োজন। সব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে বাংলাদেশ ব্যাংককেও চাপে থাকতে হয়, আশাকরি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে আর্থিকখাত নিয়ে সংস্কারের বিষয়ে দলগুলাে কথা রাখবেন।’
বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সব শর্ত পূরণ করেছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, ‘৪ বছরে আইএমএফ যে ঋণ দেয়ার কথা তার থেকে বেশি ডলার রিজার্ভে কেনা হয়েছে। অন্যের মুখাপেক্ষী আমরা থাকতে চাই না।’
চলতি অর্থবছরে বাজার থেকে চার বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গত ১ বছরে ডলার কেনা হয়েছে, তবে কোনো ডলার রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা হয়নি।’
দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রসঙ্গে আহসান মনসুর বলেন, ‘রেমিট্যান্সের প্রবাহ ১৮ শতাংশের বেশি। চলতি অর্থবছর ৩৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসতে পারে।’
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি হারে কিছু ব্যাংক আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার বা বেসরকারি খাতে ঋণ দেয়ার পরিবর্তে তাদের অতিরিক্ত তারল্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। এতে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে, মুদ্রানীতি কাঠামোর ইন্টারেস্ট রেট করিডোরের আওতায় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা আরও বেশি সুসংহত করার লক্ষ্যে নীতি সুদহার করিডোরের নিম্নসীমা-স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি শতকরা ৮ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি বিদ্যমান শতকরা ১১ দশমিক ৫০ শতাংশে এবং ওভার নাইট রেপো নীতি সুদহার বিদ্যমান শতকরা ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন এ সিদ্ধান্ত আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
কেকে/এমএ