বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ ৬ মাসের (জানুয়ারি-জুন) জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। নতুন এই মুদ্রানীতিতে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে নীতি সুদের হার।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার অভাবে প্রত্যাশার তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে। সরকার বাজেটে কাটছাঁট করার পরও ব্যাংক খাত থেকে ঋণের হার বেড়েছে। আইএমএফের সব শর্ত পূরণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘
বাজার থেকে চার বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে ডলার কেনা হয়েছে, তবে কোনো ডলার রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা হয়নি।’
দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রসঙ্গে আহসান এইচ মনসুর বলেন,
‘রেমিট্যান্সের প্রবাহ ১৮ শতাংশের বেশি। চলতি অর্থবছর ৩৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসতে পারে।’
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি হারে কিছু ব্যাংক আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার বা বেসরকারি খাতে ঋণ দেয়ার পরিবর্তে তাদের অতিরিক্ত তারল্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। এতে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে, মুদ্রানীতি কাঠামোর ইন্টারেস্ট রেট করিডোরের আওতায় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা আরও বেশি সুসংহত করার লক্ষ্যে নীতি সুদহার করিডোরের নিম্নসীমা-স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি শতকরা ৮ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি বিদ্যমান শতকরা ১১ দশমিক ৫০ শতাংশে এবং ওভার নাইট রেপো নীতি সুদহার বিদ্যমান শতকরা ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন এই সিদ্ধান্ত আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
কেকে/এমএ