মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬,
৩ চৈত্র ১৪৩২
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম: আগামী মাসে চালু হচ্ছে কৃষক কার্ড : প্রধানমন্ত্রী      কাউন্টারে ঘরমুখো মানুষের ভিড়, চাপ বেড়েছে দূরপাল্লার বাসে      আল-আকসা খোলা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাল ইসরায়েল      শেকড় ভুলে গেলে ৫ আগস্ট বারবার ফিরে আসবে : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী      ইউজিসি চেয়ারম্যান ও ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদে রদবদল      খাল খনন কর্মসূচিকে আরও প্রসারিত করা হবে : প্রতিমন্ত্রী নুর      স্কুল ভর্তিতে থাকছে না লটারি : শিক্ষামন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
ভোটের উত্তাপে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ
মোতাহার হোসেন
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

বহুল প্রত্যাশিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন দ্বারে সমাগত। এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ হোক এটা সবার প্রত্যাশা। নির্বাচন কমিশন এবং অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টারা বিভিন্ন সময় তাদের বক্তব্যে অনুরূপ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই শঙ্কা ও ভয় বাড়ছে নির্বাচন এবং নির্বাচনপরবর্তী সংঘাত, সহিংসতা নিয়ে। কারণ নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৭ জন রাজনৈতিক কর্মী নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত হওয়ায় আশঙ্কা বাড়ছে। 

এ মুহূর্তে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র‌্যাব সদ্য পরিবর্তিত নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ), আনসার, গ্রাম পুলিশসহ রয়েছে বেসামরিক প্রশাসকে সহায়তায় সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য। তবুও এসব বাহিনীর সদস্যদের নজর এড়িয়ে চলছে সংঘাত, সহিংসতা। এ কারণে সাধারণ মানুষের  আশঙ্কা নির্বচনের দিন এবং নির্বাচনপরবর্তী সংঘাত, সহিংসতার।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির কারও কারও অভিমত হচ্ছে, আমরা কারও সঙ্গে হত্যা বা সংঘর্ষ চাই না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নির্বাচনের সময় সহিংসতা অনিবার্য বলে মনে হচ্ছে। ১৭০ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য। ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড, হুমকি এবং রাস্তাঘাটে সংঘর্ষের ফলে অতীতের নির্বাচনি সহিংসতার আশঙ্কা জাগছে নুতন করে। অবশ্য স্বাধীনতাপরবর্তী সব কয়টি নির্বাচনে কম বেশি সংঘাত, সহিংসতার নজির রয়েছে। মূলত প্রতিদ্বন্দ্বি প্রাথীর সমর্থক, অনুসারীদের মধ্যে পাল্টা পাল্টি বক্তব্য, বিবৃতি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়ে তা পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়। 

তা ছাড়া কোনো হত্যাকাণ্ডকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আনুষ্ঠানিকং শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি। তবুও, দলীয় কর্মীদের জন্য, এ পার্থক্য খুব একটা আশ্বাস দেয় না। স্থানীয় গণমাধ্যম এবং অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জন বিএনপির কর্মী। অন্যদের মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি, জামায়াত নেতা আনোয়ারুল্লাহ এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুব শাখা যুবলীগের একজন নেতা রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, যা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাপক উপস্থিতির প্রমাণ দেয়।

ঢাকাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর অলটারনেটিভস পরিচালিত ‘বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরি’র তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় দেশে সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ৪৯ জন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ২১ জন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৪২ জন নিহত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি ও জামায়াত বর্জন করেছিল। ওই নির্বাচনের দিনই অন্তত ২১ জন নিহত হন এবং প্রায় ৪০০টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে মাত্র চার দিনের মধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা ৪৭টি সহিংস ঘটনার নথি প্রকাশ করে। এসব ঘটনায় আটজন নিহত হন এবং ৫৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হন।

এমনি অবস্থায় এবারের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে এমন আশাবদ মানুষের। কিন্তু নির্বাচন নিয়েও মানুষের ভয় কাটছে না। কিছু এলাকায় সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে। কারণ অনেক নির্বাচনি আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলের স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় নিজদের মধ্যে বিরোধ সংঘাতে জড়ানোর আশঙ্কা ক্রমশ প্রবল হয়ে উঠছে। 

ইতোমধ্যে টাঙ্গাইলে এক সিনিয়র বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন তাকে হুমকি দিয়ে অপর প্রার্থীও পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রচারে সক্রিয় থাকলে তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে। মূলত এ দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে রয়েছে একটি আসনের মনোনয়ন। সেখানে সাবেক মন্ত্রী বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যিনি দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়ছেন। এ পর্যায়ে তার দাবি, ভোটের দিন প্রতিপক্ষের কর্মীদের ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখতেই এই ভয় দেখানো হচ্ছে।

গণমাধ্যমের তথ্যমতে, বিএনপির ৯২ জন নেতা বর্তমানে ৭৯টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন। জামায়াতের রয়েছে একজন। 

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি থাকা আসনগুলোতে সহিংসতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে সংঘাত, সহিংসতার আশঙ্কা। নির্বাচনি উত্তেজনা এখন প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই একে অপরের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। জামায়াত নেতা অভিযোগ করেন, সারা দেশে তাদের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, প্রচার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে এবং মিরপুরে তাদের নারী কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির নেতা অভিযোগ করেন, জামায়াত কর্মীরা অবৈধভাবে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করছে। 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলো দলীয় কোন্দল নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে, যার উদ্দেশ্য নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করা। তার মতে, অনলাইনে ছড়ানো ভুয়া তথ্য বাস্তব সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে এবং নির্বাচন যদি নিয়ন্ত্রিত মনে হয়, তবে সহিংসতা আরও বাড়বে। 

অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় মাঠে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অপরদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের সহিংসতায় লুট হওয়া কিছু অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। একারণে এবারের নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারে নির্বাচনি সহিংসতার আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। দব পুলিশ বলছে নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার যাতে হতে না পারে সেটাই তাদের অগ্রাধিকার। 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার ৭৩০ জন সামরিক সদস্য রয়েছেন। দেশের ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকের বেশি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে। 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষগুলো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আশ্বাস দিয়েছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নেতা ড. ইউনূসের দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, আগের জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এবারের সহিংসতা এখনো কম এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।

প্রত্যাশা থাকবে সংঘাত, সহিংতার আগাম আশঙ্কাকে পেছনে ফেলে নির্বিঘ্নে ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। সবার নিরন্তর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচন এবং নির্বাচনপরবর্তী সময়ে শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাতে ভূমিকা রাখা দরকার।

কেকে/এমএ
আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোটের উত্তাপ   উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ   মোতাহার হোসেন  
মতামত লিখুন:

সর্বশেষ সংবাদ

‘শপিং, গ্রামে ফেরার তাড়া যেন রমজানের শেষ মুহূর্তের তাৎপর্য ভুলিয়ে না দেয়’
আমরা উন্নতি করতে চাই, তবে প্রকৃতি ধ্বংস করে নয় : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
গোপালপুরে সৌদি আরবের উপহার খেজুর বিতরণ
‘কিশোরগঞ্জ ভলান্টিয়ার্স’-এর ‘দুই টাকায় ইফতার’
বুড়িচংয়ে সারের অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ন্যাশনাল ট্রেডার্সকে জরিমানা

সর্বাধিক পঠিত

চবির নতুন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান
মৌলভীবাজারে ছোট ভাইকে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই গ্রেপ্তার
মহম্মদপুরে ব্যবসায়ীর ঘরে ভিজিএফের চাল, সিলগালা ও জরিমানা
মৌলভীবাজারে কাটাগাং খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন
শ্বশুরের নির্দেশে ২৮ বছর ধরে ঈদ উপহার বিতরণ করছেন বিএনপি নেত্রী

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close