অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণ, আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং একের পর এক অধ্যাদেশ জারিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই গভীর হচ্ছে। এসব সিদ্ধান্তের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য নীতি-প্রয়োগ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, নির্বাচনের আগে নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের জন্য একদিকে যেমন আর্থিক চাপ ও নীতিগত জটিলতা তৈরি করতে পারে, তেমনি সংস্কার, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রশ্নেও নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত- বিশেষ করে বড় ঋণ, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সরকারি প্রকল্প অনুমোদন- দেশের বাজেট ও আর্থিক নীতি নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াতে পারে।
তারা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এসব পদক্ষেপের প্রভাব পরবর্তী সরকারের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি নির্বাচনের পর নতুন সরকার এ সিদ্ধান্তগুলো পরিবর্তন বা সংশোধনের চেষ্টা করে, তবে তা নীতি বিরোধ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জনমতের চাপের মুখোমুখি হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের রেকর্ড ঋণ গ্রহণ :
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই ক্ষমতায় বসেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপর সরকার নিজেই ঋণের রেকর্ড গড়েছে। এই ঋণের বেশিভাগই ব্যয় হয়েছে পরিচালন ব্যয় বা সরকারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে। নির্বাচিত যে সরকার আসবে এই ঋণের ধাক্কা সামলানো অসম্ভব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আয় বাড়ানোর কোনো নতুন পরিকল্পনা না করেই ঋণ করে পরিচালন ব্যয় মিটিয়েছে বর্তমান সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় ব্যয় সীমিত রাখার সঙ্গে সঙ্গে ঋণ গ্রহণে সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে ১৮ মাসে ঋণগ্রহণ অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এ সময়ে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১১ মাসে (আগস্ট-জুন) ৩ লাখ ২৫ হাজার কোটি এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ৪ লাখ কোটি টাকার ওপরে পৌঁছাতে পারে।
১১৬টি অধ্যাদেশ জারি :
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৮ মাসে ব্যাপক প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে মোট ১১৬টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। বর্তমানে আরও ১৬টি অধ্যাদেশ চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যার মধ্যে ৩টি ইতোমধ্যেই নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিভিন্ন সংস্কার কমিশন অধ্যাদেশ ও খসড়া আইনগুলো মূলত আমলাতন্ত্রের একাংশ ও সংস্কার-প্রতিরোধী গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত। অংশীজনদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ আলোচনা ছাড়াই প্রণীত এসব অধ্যাদেশে স্বাধীন কমিশন গঠনের পরিবর্তে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রবণতা রয়েছে।
যেসব অধ্যাদেশ প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ও এনজিও খাতের জন্য প্রযোজ্য ফরেইন ডোনেশনস (ভলান্টারি অ্যাক্টিভিটিজ) রেগুলেশন সংশোধনমূলক অধ্যাদেশের মতো ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সকল ক্ষেত্রে প্রতিরোধক মহল, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী মহলের অন্তর্ঘাতমূলক অপশক্তির কাছে সরকারের নতি স্বীকারের ফলে সংস্কার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের মূলমন্ত্র তথা জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার অভীষ্টের পরিপন্থি অনেক বিধান রচিত হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সাইবার সুরক্ষা, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা, জাতীয় উপার ব্যবস্থাপনা, ইত্যাদি অধ্যাদেশসমূহের প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের তুলনায় আমলাতন্ত্রসহ ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র এ জবাবদিহিহীন কর্তৃত্বের চর্চা অব্যাহত রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সইয়ের হিড়িক :
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৪টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। তবে এই সময়কালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য চুক্তি নিয়ে নানা মহলে অসন্তষ তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে। ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে চুক্তি সই হওয়ার কথা। সরকারের বিদায়কালীন সময়ে এই চুক্তি করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বড় সমস্যা হলো, চুক্তির খসড়া এবং এর বিস্তারিত শর্তাবলি জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়নি। চুক্তি সংক্রান্ত সব তথ্য গোপন রাখার জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) সই করেছে। চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পরে নির্বাচিত সরকারের ওপর পড়বে।
চুক্তির ফলে বাংলাদেশের কী সুবিধা হবে, কোন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে- এসব বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এর শর্তাবলি ও অন্যান্য বিষয় জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে। তিনি জানান, নির্বাচিত সরকারকে চাপমুক্ত রাখতে এবং রপ্তানি-বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা আনার উদ্দেশ্যে নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এই বাণিজ্য চুক্তি করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনার অংশ হিসেবে বায়িংয়ের কাছে উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল, যা আলোচনার মাধ্যমে কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা সম্ভব হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা নিরসন এবং প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ প্রধান রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে পোশাক শিল্পের ওপর শূন্য শুল্ক নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের মতে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা এসব চুক্তিতে স্পষ্ট স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে এবং যে প্রক্রিয়ায় সেগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে, তা অনেকটাই পতিত শাসনামলের চর্চার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তড়িঘড়ি করে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং রাজনৈতিক দল ও জনগণের মতামত উপেক্ষা করা আগের স্বৈরাচারী শাসনের স্মৃতি উসকে দেয়। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংস্কার ও স্থিতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সরকারের কর্মকাণ্ডে সেই সংস্কারমূলক অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
সুপারিশেই আটকে আছে সংস্কার :
রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশন নিয়ে শুরুতে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা এখন ধীরে ধীরে অনিশ্চয়তায় পরিণত হচ্ছে। সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ, দুর্নীতি দমন, গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, শ্রম ও স্থানীয় সরকারসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অধিকাংশ সংস্কার এখনো প্রস্তাব বা প্রাথমিক উদ্যোগের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। আইনগত বাধ্যবাধকতা, নির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন কাঠামোর অভাবে এই প্রক্রিয়া কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অন্যদিকে, সরকারের দাবি, তাদের মেয়াদে যথেষ্ট সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং এত কম সময়ে দেশের ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি সংস্কার আর হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের করা সংস্কারের অনেকটাই বাস্তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। তাদের মতে, কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার প্রধান বাধা হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। সংবিধান বা বিদ্যমান আইনে কোনো বাধ্যতামূলক বিধান না থাকায় সরকার চাইলে সুপারিশ গ্রহণ করতে পারে, আবার চাইলে উপেক্ষা করতে পারে। ফলস্বরূপ, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো কেবল কাগজেই আটকে থেকে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যদি সংস্কার প্রক্রিয়া শুধু সুপারিশভিত্তিক ও অনিশ্চিত থাকে, তা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার বদলে জনসাধারণের হতাশা বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে স্পষ্ট ও কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ না নিলে কমিশনের প্রভাব ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হবে।
১৮ মাসেও আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক সংস্কারে অগ্রগতি নেই :
গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামরিক বাহিনী সংস্কারে কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং নিরাপত্তা খাতে কাঠামোগত সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব সীমিতই দেখা গেছে। অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাহিনীগুলোর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান সংস্কার উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পুলিশ বাহিনীর পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা পুনরুদ্ধারে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন হয়নি। বরং বিভিন্ন সময় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ সামনে এসেছে। একইভাবে সামরিক বাহিনী সংস্কারের ক্ষেত্রেও নীতিগত ঘোষণা থাকলেও বাস্তবায়নের কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ বা কাঠামোগত পরিবর্তন দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে সংস্কার শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনা দিয়ে সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই তিনটিরই ঘাটতি ছিল। ফলে নিরাপত্তা খাতে কাক্সিক্ষত সংস্কার না হওয়ায় জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছে এবং আগামী নির্বাচিত সরকারের জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বিদায়ের আগে বিতর্কিত প্রকল্প :
অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরের মধ্যে মোট ১৩৫টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, প্রধানত গ্যাস কূপ খনন, অনুসন্ধান ও সরবরাহ সংক্রান্ত প্রকল্পে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, নৌ, রেল ও সড়ক, পানিসম্পদ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে, তবে স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্প শুরুতে পিছিয়ে ছিল।
বিদায়বেলায় অনুমোদিত কিছু প্রকল্প বিতর্কিত বা কম জরুরি হিসেবে ধরা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জেলার রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো প্রকল্পের রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চট্টগ্রাম জেলায় বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি হয়েছে, যেখানে মোট ১২টি নতুন প্রকল্পের ব্যয় ৭৬ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বন্দরের বে টার্মিনাল সম্প্রসারণ, ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকীকরণ, কর ভবন নির্মাণ ও কর্ণফুলী নদীর ওপর রেলসেতু নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন ঘোষণার পর প্রকল্প অনুমোদন করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসাধনের ছাপ রাখছে। তফসিলের আগে কিছু প্রকল্প নেওয়া হলেও তা জনসাধারণের উপকারিতার তুলনায় বিতর্কিত। অন্তর্বর্তী সরকারের এ ধরনের প্রকল্প অনুমোদন অন্যায় ও ব্যর্থতার পরিচয় বহন করে।
কেকে/এমএ