বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, ‘এবার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে একটি মৃত্যুকূপে পরিণত করা হয়েছিল। মানুষের কণ্ঠরোধ করতে গুম করা হয়েছে অসংখ্য মানুষকে এবং নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে বহু ওলামায়ে কেরামকে।’
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ভূইয়াগাঁতীতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, ‘সারাদেশে প্রায় চার কোটি ছাত্র-জনতা জুলুম ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেমেছিল। এই সংগ্রাম সহজ ছিল না। অনেক রক্ত ঝরেছে, বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অসংখ্য পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে।’
তিনি দাবি করেন, দেড় হাজার মানুষ শাহাদাত বরণ করেছেন এবং ৩০ হাজারের বেশি জুলাইযোদ্ধা আহত হয়েছেন। এত ত্যাগের পর দেশের মানুষ আশা করেছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু বাস্তবতা হলো-একটি গোষ্ঠী এখনো লুটপাট ও চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত। দেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা ভঙ্গ হচ্ছে।’
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে শাসকের পরিবর্তন হয়েছে বারবার। কিন্তু শোষণের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্বাধীনতার আগে বিদেশি শাসকেরা এদেশের সম্পদ লুট করে নিয়ে যেত। আর এখন দেশের শাসকরাই সেই সম্পদ বিদেশে পাচার করছে।’
সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এদেশের ইসলামপন্থীরা কারও ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকবে না। দেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি করলে বাংলাদেশে টিকে থাকা সম্ভব হবে না। এটি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের বাংলাদেশ। রক্ত দিয়ে আমরা এই দেশ কিনেছি। বাংলাদেশ থেকে দুটি ভূত দূর করতেই আমরা মাঠে নেমেছি।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখে ১১ দলীয় জোটের ভূমিধস জয় হবে।’
সন্ত্রাস ও দুর্নীতিকে চিরতরে বিদায় জানাতে এবং টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত দেশের রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করার লক্ষ্যে ১১টি দল আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
জনসভায় উপজেলা খেলাফত মজলিসের আমির মো. আলী মর্তুজার সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি এসএম মুনসুর আলী ও মাওলানা আব্দুল লতিফ খানের যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর শায়খ আব্দুস সামাদ, ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী মুফতি আব্দুর রউফ প্রমুখ।
কেকে/এসএএস