সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, কৃষি সমাজের সার্বিক উন্নয়নে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-কে একটি উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি।
তিনি বলেন, ‘সর্বস্তরের কৃষিবিদ ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন যাত্রায় ম্যানেজমেন্টকে এগিয়ে নিতে হবে।’
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত “কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা, সংস্কার ও পরিচালনায় অর্জিত সাফল্য” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেআইবির প্রশাসক লে. কর্নেল (অব.) মো. আব্দুর রব খান, পিএসসি; কেআইবির আহ্বায়ক ও সাবেক সভাপতি কৃষিবিদ ইব্রাহীম খলিল; সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ফিরাদুল হক; কেআইবির সাবেক মহাসচিব কৃষিবিদ আনোয়ারুন নবী মজুমদার বাবলা; এগ্রিকালচার ফোরামের সদস্য প্রফেসর ড. এটিএস মাহবুব-ই-এলাহীসহ কৃষিবিদ ড. মো. কামরুজ্জামান কায়সার, কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব, কৃষিবিদ শেখ মুহাম্মদ মাসউদ, কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম, কৃষিবিদ মো. তৌহিদ আহমেদ আশিকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিবৃন্দ।
উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, ‘‘গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তদারকির অভাবে কেআইবির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির প্রভাব থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে মুক্ত করতে একজন দক্ষ প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনায় ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকল স্টেকহোল্ডারের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।’
‘বর্তমানে যে অংশগ্রহণমূলক মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে কেআইবি ভবিষ্যতে সকল কৃষিবিদের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে। এই মডেল ভবিষ্যতে যেকোনো সংকটে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠনের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
সংবাদ সম্মেলনে কৃষিবিদরা জানান, বিগত সরকারের সময়ে কেআইবিতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা কমিটি গঠনের পর প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে কেআইবির আয় ছিল ২৫ কোটি ৬২ লাখ ৪ হাজার ১২৬ টাকা ৮৬ পয়সা, ২০২৩ সালে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার ২০৭ টাকা ৬৫ পয়সা এবং ২০২৪ সালে ১ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ৬৭৩ টাকা ৪৫ পয়সা। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭৭ হাজার ২০০ টাকা ৫৯ পয়সা, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ আগামীতে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনার আহ্বান জানান।
কেকে/এলএ