রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬,
১ চৈত্র ১৪৩২
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম: জ্বালানি তেল নিয়ে মিলছে স্বস্তির খবর      রিয়ালের জয়ের রাতে গুলেরের ইতিহাস গড়া গোল      ঢাকায় বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস      আন্দোলনের পথেই হাঁটছে বিরোধীরা      সরকারকে আস্থা ধরে রাখতে হবে      হাতের কালি মোছার আগেই তিন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন      ইরানের দুই শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত, দাবি ইসরায়েলের       
দেশজুড়ে
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে প্রচারণায় সরব বিএনপি, কৌশলী জামায়াত
মাহবুব আলম প্রিয়, রূপগঞ্জ
প্রকাশ: রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৪ এএম আপডেট: ০৮.০২.২০২৬ ৮:৩৬ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, অপরাধ দমনসহ পরিবর্তনের দাবি-দাওয়া বেশ আলোচনায় রয়েছে।

আসনটিতে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই অনেকটা জমজমাট নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছে। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে সমর্থন জানিয়ে ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল হোসেন ও গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন নির্বাচনের প্রায় এক সপ্তাহ আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

ফলে এই আসনে প্রচারণায় সরব বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), কৌশলী পথে হাঁটছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অপরদিকে বিএনপিকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান স্বতন্ত্র ও গণঅধিকারের দুই প্রার্থী। চরমোনাই পীর মনোনীত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর নীরব প্রচারণাও লক্ষ্য করা গেছে। তবে গণভোটের প্রচারণা কোনো প্রার্থীর মধ্যেই দেখা যায়নি।

আসনটিতে ভূমিদস্যুতা, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রূপগঞ্জ চান ভোটাররা। এসব বিষয় নিয়ে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে তাদের ইশতেহারে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পছন্দের প্রার্থীকে মূল্যবান ভোট দেওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে বইছে নির্বাচনি হাওয়া।

সূত্রমতে, প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই ভোটারদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন এবং দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, মাদক নির্মূল ও অপরাধ দমনসহ নানা বিষয়ে পরিবর্তন চান ভোটাররা।

আসনটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত রূপগঞ্জ উপজেলা শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর উভয় পাড়ে বিস্তৃত। এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় তিন হাজারের বেশি শিল্পকারখানা রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে পাইকারি বাজারসহ নানা ধরনের হাট-বাজার।

দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ এখানে কর্মসংস্থানের জন্য এসে বসবাস করছেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে নামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এই উপজেলার মধ্য দিয়ে গেছে। রয়েছে পূর্বাচল উপশহর, জলসিঁড়িসহ নানা আবাসন প্রকল্প। লাখ লাখ মানুষের বসবাসের এই উপজেলায় স্বাধীনতা-পূর্ব সময় থেকেই একজন দক্ষ জনপ্রতিনিধির দাবি উঠে আসছে।

এর আগে এই আসনে জনপ্রতিনিধি ছিলেন প্রয়াত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মতিন চৌধুরী (বিএনপি), প্রয়াত এমপি ও সাবেক তিন বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ (বীর উত্তম) এবং সর্বশেষ আওয়ামী লীগের সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক)।

সূত্রমতে, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী ছিলেন। তারা হলেন— বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ইমদাদুল্লাহ হাশেমী, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাজ প্রতীকের দুলাল হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী মনিরুজ্জামান চন্দন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতীকের প্রার্থী রেহান আফজাল।

তবে রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) ও মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান দুলাল হোসেন ও ওয়াসিম উদ্দিন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এই আসনে ১২৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮ হাজার ৮২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৮৫০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৯ হাজার ৭৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন।

বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু প্রচারণা ও জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন বলে ভোটাররা দাবি করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষের পাশে কাজ করে আসছেন। রূপগঞ্জের সন্তান হিসেবে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ও জনপ্রিয়। প্রথমবারের মতো এমপি প্রার্থী হয়ে তিনি গণসংযোগ, সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও মিছিল করছেন এবং ভালো সাড়া পাচ্ছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা কৌশলীভাবে নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। তিনি ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত এবং ভূমিদস্যুমুক্ত রূপগঞ্জ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ের নৈরাজ্য ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে তিনি ভোটারদের কাছে দাড়িপাল্লায় ভোট চান। যদিও অতীতে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও উল্লেখযোগ্য সাড়া পাননি তিনি।

ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ইমদাদুল্লাহ হাশেমীও এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। চরমোনাই পীর মনোনীত হওয়ায় কিছু এলাকায় তার সমর্থন থাকলেও সামগ্রিক প্রভাব সীমিত হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

বাকি প্রার্থীদের প্রচারণা তেমন চোখে পড়েনি। পোস্টারবিহীন হলেও বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের পরিবেশবান্ধব ব্যানার দেখা গেলেও অন্যদের প্রচারণা বা গণসংযোগ দেখা যায়নি।

ভোটাররা জানান, নতুন সরকার যেন দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ ও মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ শতভাগ দমন দেখতে চান তারা।

এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, “আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা অবৈধ গ্যাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এলে অবৈধ গ্যাস লাইন বৈধ করার চেষ্টা করব এবং মাদক ও ভূমিদস্যুতা প্রতিরোধ করব।”

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “রূপগঞ্জে একটি সরকারি মাদরাসা প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনা হবে। ভূমিদস্যুতা ও আবাসন কোম্পানির অত্যাচার বন্ধ করে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ লিটন জানান, বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। পোস্টাল ব্যালটে ভোট গ্রহণও চলছে।

এর আগে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে গণঅধিকার পরিষদ, গাউছিয়া হক কমিটি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি সংবাদ সম্মেলন করে। স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল হোসেনও নিজেকে বিএনপি কর্মী পরিচয় দিয়ে ধানের শীষে ভোট চান।

অনেকের ধারণা, এই আসনে বিএনপি একতরফা জয় পেতে পারে। ফলে জামায়াতের কৌশলী প্রচারণা শেষ পর্যন্ত কী প্রভাব ফেলে, তা জানতে ভোটের দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন রূপগঞ্জবাসী।

কেকে/এলএ
আরও সংবাদ   বিষয়:  বিএনপি   তারেক রহমান   নারায়ণগঞ্জ   জামায়াত  
মতামত লিখুন:

সর্বশেষ সংবাদ

বয়স বিবেচনাতেই ৪ মামলায় জামিন পান খায়রুল হক: হাইকোর্ট
কাউনিয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
কবি সমর চক্রবর্তীর ৫৪তম জন্মদিন আজ
ফেনীতে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, যুবক নিহত
ইরান যুদ্ধে রণতরি পাঠানোর খবর নাকচ করল ফ্রান্স

সর্বাধিক পঠিত

ঈদের পর ছাত্রদলের নতুন কমিটি
দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশের প্রয়োজন : আইজিপি
শ্রীমঙ্গল থানায় ইফতার মাহফিল
বাংলাদেশের দৃশ্যমান উন্নয়নের কারিগর প্রকৌশলী সমাজ : গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী
সরকারকে আস্থা ধরে রাখতে হবে

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close