দারুণ জমজমাট অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ কাপের দ্বিতীয় ম্যাচ হয়েছে। চাপের মুখে ৪৪ বলে ৭৬ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে দুর্বার একাদশকে দুই উইকেটে জিতিয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। ধূমকেতু একাদশকে দুই উইকেটে হারিয়েছে দুর্বার। ধূমকেতুর হয়ে ব্যাট হাতে ২৭ বলে ৩১ রানের হার না মানা ইনিংসের পর বল হাতে ১১ রান খরচায় চার উইকেট তুলেছেন মেহেদী। তবুও জেতাতে পারেননি দলকে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে ধূমকেতু। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং সাইফ হাসানের জুটি বেশিক্ষণ টেকেনি। প্রথম ওভারেই দলের ১ রানের মাথাতে বিদায় নেন তানজিদ। মেরেছেন গোল্ডেন ডাক। এরপর ক্রিজে জুটি বাঁধেন সাইফ এবং অধিনায়ক লিটন দাস। দুজনের কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছে ধূমকেতু।
সাইফ সাবলীল ব্যাটিংয়ে খেলেছেন ২০ বলে ২৮ রানের ইনিংস। দলের ৩৭ রানের মাথাতে সাজঘরে ফিরে যান সাইফ। এরপর চারে নামেন ইমপ্যাক্ট সাব পারভেজ হোসেন ইমন। যদিও তেমন সুবিধা করতে পারেননি তিনি। ১৫ বলে ১৩ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন ইমন।
এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন লিটন দাস। আরেক প্রান্তে ব্যাটাররা সেভাবে থিতু হতে পারছিলেন না। ৬ বলে ৭ রান করেছেন তাওহিদ হৃদয়। শেখ মেহেদী হাসান নেমে দলের হাল ধরেছেন শক্ত হাতে। লিটন ছুটেছেন ফিফটির দিকে। যদিও ফিফটির আগেই থেমেছেন তিনি। ৩৭ বলে ৪৩ রান করে বিদায় নেন লিটন, দলের রান তখন ১১৯।
শেষ দিকে কিছুটা কমে যায় ধূমকেতুর রানের গতি। ব্যাট হাতে লড়াই চালিয়ে গেছেন মেহেদী। শামীম হোসেন পাটোয়ারী ৮ বলে ১৭ রানের ক্যামিও খেলেছেন। রিশাদ হোসেন ১ বলে ০ রান করেন। শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে মেহেদী খেলেন ২৭ বলে ৩১ রানের ইনিংস। নাসুম আহমেদ ৫ বলে ৯ রান করেছেন। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান তোলে ধূমকেতু একাদশ।
দুর্বার একাদশের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন হাসান মাহমুদ এবং তানভীর ইসলাম। ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন সাইফ উদ্দিন এবং আলিস আল ইসলাম।
জবাব দিতে নেমে হাবিবুর রহমান সোহান এবং নাজমুল হোসেন শান্তর ওপেনিং জুটিতে আসে ১৫ রান। ৭ বলে ২ রান করে বিদায় নেন অধিনায়ক শান্ত। এরপর তিনে নামেন মাহমুদুল হাসান জয়। সোহান খেলেছেন ৯ বলে ১৭ রানের ক্যামিও। শান্ত ফেরার পরের ওভারেই বিদায় নেন সোহান। তার পরের ওভারে সাজঘরে ফিরেছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। ৪ বলে ১ রান করে বিদায় নেন তিনি। ২০ রানের মধ্যে হাওয়া ৪ উইকেট।
জয় ধুঁকেছেন। ২০ বলে ১৩ রান করে দলের ৪৬ রানের মাথাতে থামেন তিনি। ঝিমিয়ে পড়া ইনিংসকে জাগানোর চেষ্টা চালিয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। দারুণ সব শটে রান বের করেছেন। রানের চাকা সচল করেছেন। হাঁকিয়েছেন একের পর এক বাউন্ডারি।
মাঝে জাকের আলী অনিক ১২ বলে ১১ রান করেছেন। মেহেদী হাসান রানা ৪ বলে ১ রানের বেশি করতে পারেননি। সোহান এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন। শেষ দিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন খেলেছেন ১৩ বলে ১৯ রানের ক্যামিও।
দারুণ সব শটে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে ফিফটির কাছে চলে যান সোহান। শেষ পর্যন্ত ফিফটিটা ছুঁয়েও ফেলেন তিনি। চাপের মুখে দারুণ এক ফিফটি হাঁকান সোহান। শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ৩৩ রান। প্রথম দুই বলে দুই ছক্কায় সমীকরণ ১০ বলে ২১ রানে নিয়ে আসেন সোহান। পরের বলে ২ রান। পরের বলে আবার ছক্কা। ৮ বলে দরকার ১৩ রান। পরের বল ডট। পরের বলে দারুণ এক ছক্কা। ৪ ছক্কায় ১৯তম ওভারে চলে আসে ২৬ রান। শেষ ওভারে দরকার মাত্র ৭ রান।
শেষ ওভারে বোলিংয়ে আসেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। স্ট্রাইকে খালেদ আহমেদ। প্রথম বলে বাই থেকে আসে ১ রান। তবে সেই বল ছিল নো। পরের বলে ফ্রি হিটটা কাজে লাগাতে পারেননি সোহান। ১ রান নেন। স্ট্রাইকে আবারও খালেদ। ৫ বলে দরকার ৪ রান। সেই বল থেকে বাই রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে যান সোহান। ৪৪ বলে ৭৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান নুরুল হাসান সোহান।
চার বলে দরকার চার রান। হাসান মাহমুদ এসেই চার মেরে দেন। দুই উইকেটে জয়লাভ করে দুর্বার একাদশ।
ধূমকেতু একাদশের হয়ে চার উইকেট নেন শেখ মেহেদী হাসান। একটি করে উইকেট তোলেন নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।
কেকে/এমএ