রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা। রাশিয়ার তদন্ত কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এ হামলার ঘটনা ঘটে।
কমিটির মুখপাত্র স্বেতলানা পেত্রেঙ্কো টেলিগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি আবাসিক ভবনের সামনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভ্লাদিমির আলেক্সেয়েভকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়া হয়। হামলার পর হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টা ও অবৈধ অস্ত্র পাচারসংক্রান্ত ধারায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পেত্রেঙ্কো বলেন, ‘মস্কো তদন্ত কমিটির তদন্তকারী ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
হামলায় জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্তে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানান তিনি।
ভ্লাদিমির আলেক্সেয়েভ ২০১১ সাল থেকে রাশিয়ার জেনারেল স্টাফের প্রধান গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রথম উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এ হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে একে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন।
ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (ওএসসিই) চেয়ারম্যান-ইন-অফিস ইগনাসিও ক্যাসিস এবং মহাসচিব ফেরিদুন সিনিরলিওগলুর সাথে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ল্যাভরভ দাবি করেন, এ হামলা প্রমাণ করে যে, ইউক্রেন প্রায় ৪ বছর ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চলমান শান্তি আলোচনাকে ব্যাহত করতে ধারাবাহিক উসকানিতে লিপ্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেন ‘যে-কোনো কিছু করতে প্রস্তুত’ যাতে তাদের পশ্চিমা মিত্ররা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থন অব্যাহত রাখে এবং একটি ‘ন্যায্য সমাধান’ অর্জনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া যায়।’
তবে, এ হামলা বা রাশিয়ার অভিযোগের ব্যাপারে এখনও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
প্রসঙ্গত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিক শীর্ষ রুশ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার জন্য মস্কো ইউক্রেনকে দায়ী করলেও, কিছু ক্ষেত্রে কিয়েভ দায় স্বীকার করেছে।
এর পূর্বে, গেল ডিসেম্বরে মস্কোতে একটি গাড়ি বিস্ফোরণে নিহত হন আরেক জ্যেষ্ঠ রুশ সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফানিল সারভারভ।
কেকে/এমএ