ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতাদের আহ্বান এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে শাহবাগে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলমান ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে যান চলাচল।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় ছেড়ে যান।
ডাকসুর নেতৃবৃন্দ আন্দোলনকারীদের প্রতি জনদুর্ভোগ কমানোর আহ্বান জানান। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা রাস্তা ছেড়ে দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে শাহবাগ মোড় পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়ায় সব দিকের সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবি আদায়ে ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিত কর্মসূচি দেয়া হবে। তবে আপাতত জনস্বার্থ বিবেচনায় আজকের কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে।
এর আগে, রাতে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করা হয়, ‘লীগ সক্রিয় হয়েছে। তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’
এদিন দুপুরের পর হাদি হত্যার তদন্ত ও জড়িতদের বিচার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।
বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে যমুনা অভিমুখে রওনা করেন নেতাকর্মীরা। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। ছত্রভঙ্গ হয়ে তারা বাংলামোটর মোড়ে অবস্থানের চেষ্টা করলে সেখানেও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এরপর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শাহবাগ থেকে আন্দোলনকারীদের একাংশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা ফের শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়।
কেকে/ এমএস