মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬,
৩ চৈত্র ১৪৩২
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম: আগামী মাসে চালু হচ্ছে কৃষক কার্ড : প্রধানমন্ত্রী      কাউন্টারে ঘরমুখো মানুষের ভিড়, চাপ বেড়েছে দূরপাল্লার বাসে      আল-আকসা খোলা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাল ইসরায়েল      শেকড় ভুলে গেলে ৫ আগস্ট বারবার ফিরে আসবে : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী      ইউজিসি চেয়ারম্যান ও ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদে রদবদল      খাল খনন কর্মসূচিকে আরও প্রসারিত করা হবে : প্রতিমন্ত্রী নুর      স্কুল ভর্তিতে থাকছে না লটারি : শিক্ষামন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
রাষ্ট্রভাষার দাবিতে বিশ্বজুড়ে যত রক্তপাত, ঢাকা থেকে সোয়েটা
রাকিবুল ইসলাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:১০ এএম আপডেট: ০৬.০২.২০২৬ ২:১৭ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

১৯৬১ সালের ১৯ মে। ভারতের আসামের বরাক উপত্যকায় মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় যে অভূতপূর্ব ও আত্মত্যাগের ইতিহাস রচিত হয়েছিল। আজ সেই ইতিহাস বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য এবং চিরস্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৫২ সালের ঢাকার রক্তাক্ত ভাষা আন্দোলনের ঠিক নয় বছর পর আসামের মাটিতে পুনরায় বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ। 

আসামের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ‘অসমীয়া’ ভাষাকে প্রদেশের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা করার একপাক্ষিক ও বৈষম্যমূলক সরকারি অপচেষ্টা শুরু হলে বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অস্তিত্ব রক্ষার সংকট দেখা দেয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রসাদ চলিহা কর্তৃক বিধানসভায় ‘রাজ্য ভাষা বিল’ উত্থাপনের প্রতিবাদে করিমগঞ্জ, শিলচর ও হাইলাকান্দির সাধারণ মানুষ ‘কাছাড় গণসংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে এক বিশাল গণআন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। 

আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯ মে শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে সমবেত হাজার হাজার সত্যাগ্রহীদের ওপর আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ নির্বিচারে ১৭ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করলে মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় চারপাশ। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে কমলা ভট্টাচার্য, শচীন্দ্র পাল, কানাইলাল নিয়োগী, কুমুদ দাস, তরণী দেবনাথ, হীতেশ বিশ্বাস, চণ্ডীচরণ সূত্রধর, সুনীল সরকার, সুকোমল পুরকায়স্থ, বীরেন্দ্র সূত্রধর ও সত্যেন্দ্রকুমার দেব শহীদ হন। তাদের এই বীরত্বপূর্ণ ত্যাগের ফলেই শেষ পর্যন্ত আসাম সরকার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং বরাক উপত্যকার তিনটি জেলায় বাংলাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা প্রদান করা হয়। এই শহীদদের অধিকাংশই ছিলেন দেশভাগের বলি হওয়া অত্যন্ত সাধারণ ও শরণার্থী পরিবার থেকে আসা মানুষ, যারা নিজেদের জমি হারানোর যন্ত্রণার চেয়েও মাতৃভাষার সম্মানকে বড় করে দেখেছিলেন। 

বিশেষ করে ষোলো বছর বয়সি কিশোরী কমলা ভট্টাচার্য ছিলেন বিশ্বের প্রথম নারী ভাষা শহীদ, যিনি মাত্র ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়েই ভাষার টানে অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। এই মহান আত্মত্যাগের স্মৃতিতে প্রতি বছর ১৯ মে ‘বাংলা ভাষা শহীদ দিবস’ হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পালিত হয়ে আসছে।

বরাক উপত্যকার এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত জটিল। ১৯৬০ সালের এপ্রিল মাসে যখন আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিতে অসমীয়া ভাষাকে একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা করার প্রস্তাব আসে, তখন থেকেই শুরু হয় সংঘাত। জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে এবং বহু বাঙালি পরিবারকে ঘরছাড়া হতে হয়। ন্যায়াধীশ গোপাল মেহরোত্রার তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল ভয়াবহ সব তথ্য। হাজার হাজার বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছিল এবং বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই রাষ্ট্রীয় অবিচারের বিরুদ্ধেই ১৯ মে শিলচর স্টেশনে সাধারণ মানুষ একজোট হয়েছিলেন। সেদিন বিকাল চারটার ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল, কিন্তু শান্তিপূর্ণ সত্যাগ্রহ চলাকালীন পুলিশি ট্রাক ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বচসা শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়। আধাসামরিক বাহিনীর গুলিবর্ষণে লুটিয়ে পড়েন এগারোজন অকুতোভয় তরুণ-তরুণী। 

পরবর্তীকালে ১৯৮৫ সালে চব্বিশ বছর শারীরিক যন্ত্রণা ভোগের পর আরও একজন আন্দোলনকারী কৃষ্ণকান্ত বিশ্বাস মৃত্যুবরণ করেন। এই ত্যাগ বৃথা যায়নি। ১৯৬১ সালের সেই লড়াইয়ের ফলেই আজ আসামের বাঙালিরা সরকারিভাবে নিজ ভাষায় কথা বলার ও দাপ্তরিক কাজ করার অধিকার ভোগ করছেন। ভাষার অধিকার আদায়ের এই গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রাম কেবল বাঙালি জাতির গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানুষ নিজ নিজ ভাষার অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে রফিক, শফিক, জব্বার, বরকত ও সালামের আত্মত্যাগ আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের সেই বীরোচিত রুখে দাঁড়ানো সারা বিশ্বের শোষিত ও ভাষাগত সংখ্যালঘু মানুষের জন্য এক অবিস্মরণীয় প্রেরণা হয়ে আছে। ঢাকার সেই আন্দোলন ছিল মূলত একটি জাতির স্বকীয়তা রক্ষার লড়াই, যা পরবর্তীতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মের পথ প্রশস্ত করেছিল। ভারতের মানভূম অঞ্চলেও ১৯৫৬ সালে বাংলা ভাষার জন্য দীর্ঘ ও সুশৃঙ্খল আন্দোলন হয়েছিল।

তৎকালীন বিহার রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত মানভূমে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে অতুলচন্দ্র ঘোষ ও লাবণ্যপ্রভা ঘোষের নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ পদযাত্রা করে আন্দোলনের শক্তি বৃদ্ধি করেছিলেন। ‘টুসু’ গানের মাধ্যমে সেই লড়াই ছড়িয়ে পড়েছিল সাধারণ মানুষের মাঝে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর বিহারের মানভূম জেলা থেকে কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন করে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলা গঠিত হয়, যা ছিল ভাষার ভিত্তিতে এলাকা পুনর্বিন্যাসের এক বড় জয়।

ভারতের বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনের কালো সময়েও ভাষার লড়াই প্রাণ কেড়েছে বহু তরুণের। ১৯৭৬ সালের ১৬ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার সোয়েটোতে স্কুল শিক্ষার্থীদের এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে হেক্টর পিটারসনসহ বহু ছাত্র শহীদ হয়েছিলেন। মূলত কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের ওপর তাদের নিজস্ব ভাষার পরিবর্তে ‘আফ্রিকান’ ভাষা বা ‘শোষকের ভাষা’ চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সেই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। হেক্টর পিটারসনের সেই রক্তাক্ত মরদেহ নিয়ে তার বোনের দৌড়ে পালানোর ছবি আজও বিশ্ববাসীর কাছে ভাষার প্রতি মমত্বের এক জীবন্ত সাক্ষী হয়ে আছে। সোয়েটোর সেই বিদ্রোহ দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তিকামী মানুষের চেতনাকে নতুন করে জাগ্রত করেছিল এবং আন্তর্জাতিক মহলে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ধিক্কার ছড়িয়েছিল।

একইভাবে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায়ও বিভিন্ন সময়ে বালুচ ও পশতু ভাষার স্বকীয়তা রক্ষায় বহু রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ জেল-জুলুম এবং জীবন উৎসর্গের শিকার হয়েছেন। পাঞ্জাবি ভাষার আধিপত্যের বিরুদ্ধে এই পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ আজও তাদের সাংস্কৃতিক অধিকারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালে নেওয়ারি ভাষা এবং শ্রীলঙ্কায় তামিল ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির লড়াইয়ে অগণিত মানুষ তাদের জীবন ও যৌবন বিলিয়ে দিয়েছেন। ১৯৫৬ সালে শ্রীলঙ্কায় ‘অনলি সিনহালা’ আইন পাসের পর থেকে শুরু হয় তামিলদের দীর্ঘ বঞ্চনা, যা একসময় সশস্ত্র সংগ্রামের রূপ নেয়। কয়েক দশক ধরে চলা এই লড়াইয়ে হাজার হাজার তামিল প্রাণ দিয়েছেন কেবল তাদের ভাষার অধিকার ও স্বাধিকার নিশ্চিত করতে।

ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলে ব্রেটন ভাষার অস্তিত্ব রক্ষায় কিংবা স্পেনের কাতালোনিয়া ও বাস্ক অঞ্চলে নিজ ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় শত বছর ধরে মানুষ লড়াই করে আসছে। ফ্রাঙ্কোর একনায়কতন্ত্রের সময় স্পেনে ক্যাটালান ভাষা নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে বহু মানুষ আত্মাহুতি দিয়েছেন। উত্তর আমেরিকায় কানাডার কুইবেক প্রদেশে ফরাসি ভাষার মর্যাদা রক্ষায় শান্তিকামী অথচ দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলন লক্ষ্য করা যায়, যা শেষ পর্যন্ত ফরাসি ভাষাকে সেখানকার দাপ্তরিক মর্যাদা এনে দিয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোও তাদের নিজস্ব প্রাচীন ভাষাগুলো টিকিয়ে রাখতে আজও নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিটি সংগ্রাম ও প্রতিটি রক্তপাত আমাদের বারংবার মনে করিয়ে দেয় যে, ভাষা কেবল ভাব বিনিময়ের মাধ্যম নয়। এটি একটি জাতির আত্মা, পরিচয় এবং বেঁচে থাকার অধিকার। এই প্রতিটি আত্মত্যাগের কাহিনি আমাদের হৃদয়ে এই সত্য প্রতিষ্ঠা করে যে, কামানের গোলা বা বন্দুকের গুলিতে কোনো জনগোষ্ঠীর মুখের ভাষাকে কখনো চিরতরে স্তব্ধ করা যায় না। 

শহীদদের রক্তে ভেজা এই ইতিহাসগুলো আমাদের দায়িত্ব দেয় নিজ ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং পৃথিবীর সকল মাতৃভাষার বৈচিত্র্যকে রক্ষা করতে। শিলচর থেকে সোয়েটো, ঢাকা থেকে মানভূম সব জায়গার ভাষা শহীদরা একই সূত্রে গাঁথা, তারা প্রত্যেকেই ছিলেন নিজ মায়ের বুলি রক্ষায় আপসহীন যোদ্ধা। আজ সেই সকল বীরদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের শপথ নিতে হবে যেন ভাষার জন্য আর কোনো প্রাণ অকালে ঝরে না পড়ে এবং প্রতিটি ভাষা পৃথিবীতে তার প্রাপ্য সম্মান নিয়ে টিকে থাকতে পারে। প্রতিটি ভাষার টিকে থাকা মানে এক একটি সংস্কৃতির বেঁচে থাকা, আর এই বৈচিত্র্যই হলো পৃথিবীর সৌন্দর্য। ১১ জন বীরের সেই ত্যাগ বরাক উপত্যকাকে যে আলোর দিশা দেখিয়েছিল, তা অনন্তকাল সারা বিশ্বের শোষিত মানুষের হৃদয়ে ভাষার প্রতি প্রেম ও অধিকারের শিখা জ্বালিয়ে রাখবে।

লেখক : সংগঠক ও সাংবাদিক

কেকে/এজে
আরও সংবাদ   বিষয়:  রাষ্ট্রভাষা   বিশ্বজুড়ে যত রক্তপাত   ঢাকা থেকে সোয়েটা  
মতামত লিখুন:

সর্বশেষ সংবাদ

‘শপিং, গ্রামে ফেরার তাড়া যেন রমজানের শেষ মুহূর্তের তাৎপর্য ভুলিয়ে না দেয়’
আমরা উন্নতি করতে চাই, তবে প্রকৃতি ধ্বংস করে নয় : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
গোপালপুরে সৌদি আরবের উপহার খেজুর বিতরণ
‘কিশোরগঞ্জ ভলান্টিয়ার্স’-এর ‘দুই টাকায় ইফতার’
বুড়িচংয়ে সারের অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ন্যাশনাল ট্রেডার্সকে জরিমানা

সর্বাধিক পঠিত

চবির নতুন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান
মৌলভীবাজারে ছোট ভাইকে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই গ্রেপ্তার
মহম্মদপুরে ব্যবসায়ীর ঘরে ভিজিএফের চাল, সিলগালা ও জরিমানা
মৌলভীবাজারে কাটাগাং খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন
শ্বশুরের নির্দেশে ২৮ বছর ধরে ঈদ উপহার বিতরণ করছেন বিএনপি নেত্রী

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close