দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শোকসভা শেষে ১২ তলা বিশিষ্ট ‘বেগম খালেদা জিয়া’ নামে একটি ছাত্রী হল এবং ‘অমর একুশে’ নামে একটি ছাত্র হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-দুইয়ে উক্ত শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মরহুমা খুরশীদ জাহান হকের (সাবেক মন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার) জ্যেষ্ঠ পুত্র জনাব শাহরিয়ার আক্তার হক ডন ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির। শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান।
উক্ত অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মহিদুল হাসান।
মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জীবনীর উপর একটি বিশেষ ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করেন এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ফারুক হাসান।
আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, বিভিন্ন শাখার পরিচালক, হল সুপারসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
শোকসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর শাসন আমলের অর্থনৈতিক সূচকের অগ্রগতি বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দেড়গুণ হওয়ার বিষয়ে আলোকপাত করেন। পাশাপাশি নারী শিক্ষার অগ্রগতি এবং শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিচারণ করেন।
তিনি জানান, সর্বশেষ গত বছরের ১৮ নভেম্বর ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। সেই সময় তিনি হাবিপ্রবির বিভিন্ন বিষয় তাকে অবহিত করেন এবং তার নামে একটি ছাত্রী হলের নামকরণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এ সময় ম্যাডাম হাবিপ্রবির বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর স্মৃতিচারণ করেন। আজ মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তার নামে একটি ছাত্রী হলের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, ‘মজুমদার পরিবার বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় আপনাদের সকলকে দোয়া করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
আমন্ত্রিত অতিথি জনাব শাহরিয়ার আক্তার হক ডন বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষাক্ষেত্রে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিনাজপুরবাসীর নিকট একটি স্বপ্ন, এই স্বপ্নের সারথি ছিলেন আমার খালা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও মা মরহুমা খুরশীদ জাহান হক।’
তিনি বলেন, ‘আমার খালাকে আমি কখনও রাগ করতে দেখিনি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীলা, পরহেজগার ও কোমল হৃদয়ের একজন মহীয়সী নারী। শত বিপদেও নিজেকে স্থির রাখতেন। মহান আল্লাহ এ দেশের কল্যাণে তার স্বামী ও সন্তানকে দিয়ে বার বার পরীক্ষা নিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তৎকালীন সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণের কারণে আমরা ঠিক মতো শোক পালন করতে পারিনি।’
পরিশেষে শোকসভা আয়োজন করায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি তিনি দিনাজপুরের উন্নয়নে তার মা ও খালার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
কেকে/এসএএস