ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম মীর এমদাদুল হক শাহমীর। এলাকায় তার ভয়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে একাধিক ব্যক্তি কোর্টে মামলা দায়ের ও থানায় অভিযোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলামের ছেলে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মীর এমদাদুল হক শাহমীর ঢাকা মহানগর পুলিশের বংশাল থানার হামলা-ভাঙচুর মামলার (মামলা নং ৪৩/২০২৫) আসামি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি নিজেকে যুবলীগ কর্মী পরিচয় দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে থেকে এলাকায় সালিশ বাণিজ্য, থানার দালালি ও মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত আগস্টের পর তিনি রূপ পাল্টে নিজেকে বিএনপির কর্মী দাবি করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে মারধর ও পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা তার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের চাচা একরামুল হকের জায়গা জোরপূর্বক দখল, বাড়িতে প্রবেশে বাধা প্রদান, নিজের ফুফা হাজী আবদু রবের চলাচলের পথ বন্ধ করা, মসজিদের জায়গা দখল করে অন্যত্র বিক্রি করা, সমাজে প্রভাব বিস্তার এবং পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতিকে মারধরসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা তিনি করেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জয়নাল আবেদিন নামের এক অভিভাবক জানান, মীর এমদাদুল হক শাহমীর নিজেকে থানার সোর্স পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এতে এলাকার যুবসমাজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। অভিভাবকেরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার যুবসমাজ তার ডাকে সাড়া না দিলে তাদের মারধর করে নিজের সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা হয়। তার এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে হামলা, মামলা ও পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, মীর এমদাদুল হক শাহমীর এখন এলাকায় আতঙ্কের নাম। এমনকি এলাকার বিএনপির নেতারাও তার ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পান না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মীর এমদাদুল হক শাহমীরের বিরুদ্ধে দাগনভূঞা থানায় এফআইআর নং ২০ (জিআর-১২৮) এবং ডিএমপির বংশাল থানায় হত্যা চেষ্টা মামলাসহ (এফআইআর নং ৪২, জিআর-৪২) একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে সচেতন এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরা জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলায় বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি শতাধিক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদেরও শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে।
কেকে/এলএ