দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের সহযোগী হিসেবে ক্ষমতার অংশ ছিল জাতীয় পার্টি (জাপা)। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছাড়াও আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও দলটির প্রচারণা একদম নির্জীব। রংপুর বিভাগকে তাদের ঘাঁটি হিসেবে মনে করা হলেও এবারের নির্বাচনে সেখানে নেই চোখে পড়ার মতো কোনো কার্যক্রম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলত ‘মব আতঙ্ক’ এবং বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমকে বৈধতা দেওয়ার কারণে দলটি নির্বাচনের মাঠ থেকে ছিটকে পড়েছে।
গত বছর ১২ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার।
এর পর থেকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধেরও দাবি তোলা হয়। ওই বছর ৩০ আগস্ট ঢাকার কাকরাইলে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর ৫ দিন পর আবারো দলীয় কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। এরপর থেকে দলটিকে মাঠের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
তবে সব বাধা উৎরে দলটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেয়েছে। দলটির অভিযোগ, নির্বাচনি মাঠে তাদের সমান সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এবারের নির্বাচনে ১৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তাদের প্রার্থীরা। এর মধ্যে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনকে তাদের জন্য সুবিধাজনক ধরা হয়।
এর কারণ এ অঞ্চলে তাদের ভোটব্যাংক রয়েছে। তবে অতীত কর্মকাণ্ড এবং বর্তমান সক্রিয়তা বিবেচনায় এবারের নির্বাচনে হাতছাড়া হতে পারে তাদের আসনগুলো।
বিশেষত জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি জোট এই অঞ্চলটিতে বিএনপির বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিযোগিতা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। গত রোববার রংপুরে এনসিপির এক নির্বাচনি প্রচারণা সভায় সংগঠনটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ভারতের রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশ শাখা জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই জাতীয় পার্টিকে ১২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক দাফন সম্পন্ন করতে হবে। তারা অলরেডি মৃত। ১২ তারিখ ভোটের মধ্য দিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক জানাজা হবে।’
এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ১৯৯০ সালে দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পদত্যাগের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অনেক রাজনৈতিক নেতা জাতীয় পার্টির কবর রচনার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আল্লাহর রহমত ও জনগণের ভালোবাসার কারণে, বিশেষ করে রংপুরের মানুষ যেভাবে দলটিকে নিজেদের সন্তানের মতো আগলে রেখেছে, তার ফলে এসব প্রচেষ্টা কখনোই সফল হয়নি। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করার নানা চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু জাতীয় পার্টি নতুন উদ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ দলটিকে দমন করতে পারেনি। হুমকি, ধামকি, জুলুম ও ষড়যন্ত্র চলছে এবং চলবে, এটা জেনেই তারা এগিয়ে যাচ্ছেন।
কেকে/এমএফ