| শিরোনাম: |

ছবি : খোলা কাগজ
ঘড়িতে সময় তখন ঠিক ছয়টা। এ সময়টাতে বাসার মধ্যে চলে সকালের নাস্তার আয়োজন। ভোরে স্কুলে যাওয়ার তাড়া। সবকিছু ছাড়িয়ে এখন খোকার ঘরে আজ ভূতের আতঙ্ক। না এটা কোনো ভয় না, এটা সকাল বেলার ভূত। যে ভূত শুধু আসে খোকার কাছে। ঘুম পাড়ানো ভূত নাম দিয়েছে খোকার বাবা। কারণ স্কুলের জন্য তাকে ডাকলেই ভূতের কাল্পনিক গল্প বলে স্কুল ফাঁকির আয়োজন করে খোকা। যার কারণে তাকে আর ঘুম ভাঙানো কঠিন হয়ে উঠেছে বাবার। বাবার ডাকে ঘুম থেকে না উঠেই শুরু করে দেয় চোখ বন্ধ করে ভূতের কথা। ফলে খোকার ঘুম ভাঙানোর দায়িত্ব এখন মায়ের কাঁধে। বাবাকে ফাঁকি দিতে পারলেও মায়ের এক ডাকে এখন খোকার ঘুম ভাঙে। তবে মাঝে মাঝে ভূতের ভয়ে সত্যি সত্যি ঘুমিয়ে স্কুল ফাঁকি দেয় খোকা।
আগে বাসার পাশে স্কুলে খোকার যাতায়াত। এ বছরে আনুষ্ঠানিক স্কুল যাত্রা শুরু হয়েছে। কোনো দিন বাবার সঙ্গে তো আবার কোনো দিন মায়ের সঙ্গে খোকার স্কুলে যাওয়া। স্কুলে আসা-যাওয়াতে বেশ ভালো লাগে তার। নতুন নতুন বন্ধু পাচ্ছে খোকা। বন্ধুদের সঙ্গে ভাবও জমেছে বেশ। বন্ধুদের জন্য টিফিন নেওয়া, পেন্সিল শেয়ার করা সব করে। তবে খোকার সমস্যা হচ্ছে ঘুম থেকে উঠা। ঘুম থেকে না উঠার জন্য শত বাহানা জমিয়ে রাখে মনে। তবে মায়ের কাছে কোনো বাহানা টিকতে না পারলেও বাবার কাছে ঠিকই টিকে যায়। ফলে মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে বাবা-ছেলের দুষ্টুমি। বাসায় আইসক্রিম খাওয়া নিষিদ্ধ হলেও স্কুল থেকে ফিরতে আইসক্রিম খোকার লাগবেই। আবার বন্ধুদের সঙ্গে স্কুল ছুটির পর জমিয়ে খেলাও করবে।
হাসি খুশি স্কুলে থাকলেও ভোর বেলা যেন তাকে ভূতে পেয়ে বসে। প্রায় প্রতিদিন ঘুম থেকে না উঠার শত বাহানা। বেশ কিছুদিন ধরে ভূতের ভয় পেয়ে বসেছে তাকে। ঘুম থেকে নাকি তাকে ভূতে উঠতেই দেয় না। ভূতের সঙ্গে তার বেশ বন্ধুত্ব হয়েছে। স্কুলে না গেলেও স্কুলের পড়া নাকি ভূতে শিখিয়ে দিবে। ভূতের এমন কথা খোকা তো বেশ খুশি। ভোরে ভোরে আর তার ঘুম ভাঙতে হবে না। ভূতের সঙ্গে ঘুমাতে ঘুমাতে স্কুলের পড়া শিখে নিবে খোকা। বাবার কাছে স্কুল থেকে ফিরতে ফিরতে এসব কথা বলছে খোকা। ভূত নাকি তার সঙ্গে নানা কথা বলিয়ে খালি ঘুম পাড়িয়ে দেয়। তাই খোকা এটাকে ‘ঘুমু ভূত’ নাম দিয়েছে খোকা। বাবাও বলছে বেশ, ঘুমু ভূতকে আমার কাছে একটু দিও, আমিও একটু ঘুমাব। বাবা ছেলে এমন সব গল্প করতে করতে বাসায় ফিরেছে।
তবে মায়ের সামনে খোকা ভূতের কথা মুখে আনার সাহস নেই। কারণ ভূত-তূত মায়ের কাছে আসেই না। বাবাকে বোকা বানানো যতটা সহজ মাকে ভুলানো তত কঠিন। নতুন করে এবার মায়ের কাছে তাই খোকার ঘুম ভাঙানোর দায়িত্ব বাবার পরিবর্তে মায়ের কাছে। যার কারণে এখন আর সকালে ভূত আসে না খোকার কাছে। মায়ের ডাকেই ঘুম ভাঙে খোকার। ঘুম থেকে উঠে মায়ের কোলেই ব্রাশ করে নাস্তা করে স্কুল যাত্রা হয় খোকার। স্কুল ফিরতে ফিরতে বাবা খোকার কাছে জিজ্ঞস করে, ভূত আসে কি না এখন। খোকার জবাব-ভূতকে ছুটিতে পাঠিয়েছি। তুমি মাকে ঘুম ভাঙানোর দায়িত্ব দেওয়াতে খোকা রাগ করেছে। তাই তাকে ছুটিতে পাঠিয়েছি, ঈদের বন্ধে আসবে আবার। তখন ভূতের সঙ্গে ঘুমিয়ে বন্ধের পড়া শিখে নিব।
কেকে/ এমএস