রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও যুবসমাজ। ‘দিনবদল’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৩ আসনের বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) মোহাম্মদপুর- ৩ রাস্তার মোড়ে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং, নবোদয় হাউজিং, চন্দ্রিমা মডেল টাউন, বেড়িবাঁধ, চাঁদ উদ্যান ও রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
‘প্রতিধ্বনি মৌলিক সংস্কার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে ‘মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুমুক্ত সমাজ গড়ি’—এই স্লোগানে স্থানীয়রা একত্রিত হন।
মানববন্ধনে বক্তারা মৌলিক সংস্কার ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
মানববন্ধনে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের মানুষ এখন সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের কারণে অতিষ্ঠ। চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। এই অন্ধকার শক্তির কালো হাত ভেঙে দিতে আজ আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। আমি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আছি।’
‘দিন বদলের এখনই সময়। নবীনগর হাউজিং, চন্দ্রিমা মডেল টাউন, বেড়িবাঁধ, চাঁদ উদ্যান ও রায়েরবাজার এলাকায় একটি সড়ক রয়েছে, যেটিকে সন্ত্রাসীরা ‘ক্যানসার গলি’ নামে পরিচিত করেছে। এসব এলাকায় সন্ত্রাস দমনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ববি বলেন, ‘মোহাম্মদপুর একটি মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত মানুষের এলাকা। এখানে সুশিক্ষিত নাগরিক, সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ বসবাস করেন। এই এলাকায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান হতে পারে না। আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ মোহাম্মদপুর গড়ে তুলতে চাই।’
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মোহাম্মদপুরের হাউজিং, প্লট, ফ্ল্যাট, সরকারি খাস জমি, ফুটপাতে চাঁদাবাজি, সিটি করপোরেশনের মাঠ দখল করে মেলা বসানোর নামে চাঁদাবাজি, রাস্তা দখল করে কোটি কোটি টাকা চাঁদা তোলা, সরকারি খাল দখল করে গৃহ নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে টাকা আদায়, চুরি ছিনতাই ও মাদকের অভয়ারণ্য।
কেকে/এমএ