ঠাকুরগাঁও ২৫০ শর্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নেওয়া কর্মীদের নিয়োগ নিয়ম বহির্ভুতভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে তদারকি করতে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত ৭ মাস আগে আউটসোর্সিংয়ের লোকেদের চাকরিচ্যুত করার বিষয়টি তদারকি করার জন্য আমার এখানে এসেছি। আমরা দেখেছি- তাতে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের চাকুরিচ্যুত করা হয়নি। এর পরেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তাদের চাকরি পুনর্বহালের নির্দেশনা আসার পরও তা কেনো বাস্তবায়ন হয়নি- এটা দেখার জন্য। আমরা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, যারা চাকরিচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন, দ্রুতই তাদের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বাবু, সিনিয়র সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক রাজু, দপ্তর সম্পাদক আওলাদ হোসেন প্রমুখ।
জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ‘মেসার্স সারমী ট্রেডার্স’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ে ক্লিনার, আয়া, ওয়ার্ডবয়, ট্রলি বয়, ওটি বয় ও নিরাপত্তা প্রহরীসহ বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ৭ মাস আগে হঠাৎ হাজিরা খাতা ও ডিউটি রেজিস্টার থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। চাকরিচ্যুতির কোনো লিখিত নোটিশও দেওয়া হয়নি তাদের। পরবর্তী চাকরিচ্যুত ৩৫ জন কর্মী বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, সাংবাদ সম্মেলন, প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচী পালন করলে গত ২৩ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংসথান মন্ত্রণালয় থেকে চাকরিচ্যুত কর্মীদের চাকরিতে পুনবর্হালের একটি নির্দেশপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, ‘যেহেতু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ এবং সে প্রতিষ্ঠান তাদের চাকরিচ্যুত করেছে, সেক্ষেত্রে আমরা বিষয়টি দেখবো। মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকারিভাবে লোকবল বাড়ানো হলে আমরা তাদের বিষয় নিয়ে কাজ করবো।’
কেকে/এমএ