শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেই ছোট্টবেলায় ভীষণ সাড়া ফেলেছিলেন মো. সাইফ খান স্বচ্ছ। তবে সবাই তাকে স্বচ্ছ নামে চেনে না। দেশের মধ্যে স্কুল-কলেজের পড়াশুনা শেষ করে তিনি এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। সেখানে একটি কলেজে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিষয়ে পড়াশুনা করছেন তিনি। ছুটিতে কিছুদিন আগে তিনি দেশে এসেছেন।
দেশে আসার পর যারা মূলত স্বচ্ছকে চেনেন, তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন নাটক ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য। এরই মধ্যে স্বচ্ছ মো. সামছুল হুদার সঙ্গে বেশ কয়েকটি নাটক ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। কিছুদিনের মধ্যেই স্বচ্ছ নাটক ও চলচ্চিত্রের শুটিং-এ অংশ নেবেন। এছাড়াও ফটোগ্রাফার আলিফ রিফাত প্রথমবারের মতো নাটক নির্মাণ করতে যাচ্ছেন। তার নির্দেশনাতেও স্বচ্ছ অভিনয় করতে যাচ্ছেন।
স্বচ্ছ বলেন, ‘ছুটিতে দেশে এসেও কিছু কাজ হাতে নিয়েছি। কাজগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী সময় নিয়ে শেষ করা হবে। তবে দেশে আসার পর এখনো আমাকে অনেকে মনে রেখেছেন, এটাই আমার অনেক ভালো লাগার বিষয়। আগামীতে আরও ভালো কাজ করে দর্শকের ভালোবাসা পেতে চাই। যুক্তরাষ্ট্রে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিষয়ে ভালোভাবে পড়াশুনা শেষ করতে চাই।’
২০১৩ সালে কাজী মোরশেদ পরিচালিত ‘একই বৃত্তে’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন স্বচ্ছ। এছাড়াও তিনি ‘একাত্তরের খুদিরাম’, ‘মুক্তি’, ‘একাত্তরের খণ্ডগল্প’ সিনেমাতে অভিনয় করে দর্শককে মুগ্ধ করেছেন। একজন শিশুশিল্পী হিসেবে ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন স্বচ্ছ। তিনি শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন এবং প্রায় সব নাটকেরই কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন। উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘ভুতের বাচ্চা সোলায়মান’ ‘ছুটি’ ‘বলাই’ ‘সাতকাহন’ ইত্যাদি।
দেশের প্রতিভাবান বহু শিল্পীর সঙ্গে অভিনয় করার সৌভাগ্য হয়েছে তার। ‘গ্রামীণ ফোন’ প্রিয় প্রাঙ্গনসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনেও মডেল হিসেবে কাজ করেছেন স্বচ্ছ।
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করার পর স্বচ্ছ দেশের বাইরে চলে যান পড়াশুনার জন্য। স্বচ্ছের মা শম্পা নিজাম এদেশের গুণী একজন অভিনেত্রী। তার বাবা মো. নিজাম উদ্দিন খান ২০১৮ সালে ইন্তেকাল করেন।
কেকে/এলএ