সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,
২৭ মাঘ ১৪৩২
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিরোনাম: ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল নিতে বাধা নেই      নির্বাচনের ফল প্রকাশ কবে, জানাল ইসি      ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ হাসিনার নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে : হামিম      ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি      অচলাবস্থা কাটিয়ে অপারেশনে ফিরল চট্টগ্রাম বন্দর      নাকভিকে কৃতজ্ঞতা জানালেন বুলবুল, যেসব বিষয়ে আলোচনা হলো লাহোরে      দূরপাল্লার বাস চলাচল নিয়ে যা জানা গেল      
খোলাকাগজ স্পেশাল
নাগরিক শোকসভায় বিশিষ্টজনরা
খালেদা জিয়ার আদর্শে দেশ গড়ার আহ্বান
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:১১ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

বেগম জিয়ার আদর্শ ধারণ করেই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে হবে। তার দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে সবাইকে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বিশিষ্টজনরা। 

বিশিষ্টজনরা বলেন, যে মহীয়সী আজীবন মানুষকে ভালোবাসার মায়াজালে বেঁধেছেন, নিজের পরিবারের কথা না ভেবে সংগ্রাম করেছেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়। খালেদা জিয়া কেবল একটি জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন, যা দল-মত-নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষের জানাজায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও সংগ্রামের পতাকা আজ তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। এটি যেমন গর্বের বিষয়, তেমনি এক গভীর দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জেরও বিষয়। 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। যেখানে দর্শক সারিতে বসে নাগরিক সমাজের কথা শুনেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ডাক্তার জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও জিয়া পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া শোকসভায় বেগম জিয়ার জীবন ও আপসহীন সংগ্রাম নিয়ে কথা বলেন, দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।  

ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, খালেদা জিয়া কেবল একটি জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন, যা দল-মত-নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষের জানাজায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে।
নূরুল কবীর বলেন, ‘মানুষ ও রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার যে গুণটি আমাকে বরাবরই আকৃষ্ট করেছে, তা হলো তার রুচিশীলতা ও পরিমিতিবোধ। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শালীনতা ও সংযমের ঘাটতি প্রকট ছিল। তখন আমি লক্ষ করেছি, তিনি নিরন্তর ও বিনা ব্যতিক্রমে একজন রাজনীতিক হিসেবে নিজের ওপর ও তার পরিবারের ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে যে আঘাত ও দুর্ভোগ নেমে এসেছে, সেসবের প্রতিক্রিয়ায় তিনি কখনোই প্রকাশ্যে নিজের বেদনা, ক্ষোভ কিংবা নিন্দাসূচক কোনো বক্তব্য উচ্চারণ করেননি।

নিউ এজ সম্পাদক বলেন, ‘আপাতদৃষ্টিতে এটি খুব সহজ কথা হতে পারে। কিন্তু এই যে সংযম, পরিমিতিবোধ এবং আত্মমর্যাদা, রাজনীতিতে অনেক অনুসারী থাকতে পারেন, অনেক মত ও পথদর্শন থাকতে পারে; কিন্তু যিনি যেই রাজনীতির, যেই সংস্কৃতিরই অনুসারী হন না কেন, বিষয়টি আজকের বাংলাদেশের অসহিষ্ণুতার সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।’

খালেদা জিয়ার জানাজার প্রসঙ্গ তুলে নূরুল কবীর বলেন, সেদিন বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বিএনপির এক নেতা লাখ লাখ মানুষকে কথা দিয়েছিলেন যে তাদের রাজনীতি খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আদর্শে পরিচালিত হবে। এ কথা রাখতে বিএনপিকে অনুরোধও করেন তিনি।

আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও সংগ্রামের পতাকা আজ তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। এটি যেমন গর্বের বিষয়, তেমনি এক গভীর দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জেরও বিষয়।’

বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের সন্তান হওয়া নিঃসন্দেহে গর্বের। কিন্তু একইসঙ্গে এটি ভয় ও শঙ্কার বিষয়ও। কারণ বাংলাদেশের মানুষ সবসময় তারেক রহমানকে তার বাবা ও মায়ের সঙ্গে তুলনা করবে। এ তুলনা অত্যন্ত কঠিনÑ যে কোনো মানুষের জন্যই। 

তিনি বলেন, শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার সেই অবিস্মরণীয় পতাকা, সেই শক্তি ও স্বাধীনতার পতাকা আজ তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। আল্লাহ যেন তারেক রহমানকে এই ঐতিহাসিক পতাকা বহন করার শক্তি ও সামর্থ্য দান করেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া বাংলাদেশের শত বছরের ইতিহাসে একমাত্র স্বামী-স্ত্রী, যারা সারা জীবন জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করেছেন। তারা যে জনপ্রিয়তা নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন, সেই একই জনপ্রিয়তা নিয়েই আল্লাহর কাছে ফিরে গেছেন।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবিত অবস্থায় বন্দি ছিলেন তখন আমি কথা বলেছি, তখন তার পক্ষে কথা বলার লোক ছিল না। আজ দেশের মানুষ মুক্তভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করতে পারছে এবং এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে যে জনগণের ভালোবাসা কার প্রতি রয়েছে। 

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দুই নেত্রীর অবস্থানের তুলনা করে আসিফ নজরুল বলেন, আজকে আমার ভালো লাগছে যে সবাই আমরা মুক্তভাবে বেগম জিয়াকে স্বরণ করতে পারছি। এজন্যই এক নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আর একজনের ঠাঁই হয়েছে দেশের বাহিরে।
 
দেশের সামগ্রিক কল্যাণে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয় তবে বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে। বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে।’

ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, দেশপ্রেম, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র সবকিছুই আমাদের জন্য মূল্যবান। কিন্তু ভবিষ্যৎ হচ্ছে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, আগামী নেতৃত্বকে বলব যে খালেদা জিয়ার শেষ বাণী হলো জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। আমরা যেন এটা সবার অন্তরের ভেতরে উপলব্ধি করি।

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৭ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির এক সভায় ভাষণ দিলেন এবং সেখানে উনি যে মূল বাণীটা আমাদেরকে দিলেন ধ্বংস নয়, প্রতিরোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়, প্রতিশোধ নয়। উনি কিন্তু ইজিলি বলতে পারতেন যে আমি প্রতিশোধ চাই না কিন্তু আমি ন্যায়বিচার চাই, আমার বিরুদ্ধে যা করা হয়েছে। এটা উনি বললেন না। এই যে উদারতা তিনি সেদিন দেখিয়েছেন এটা অসাধারণ গুণ।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি বেগম জিয়ার এ উদারতা যদি আমাদের রাজনীতিতে আমরা এখন অন্তঃস্থ করতে পারি, যদি আমরা নিজের মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের একটা বিরাট অবদান থাকবে।’

আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার সরকারের সময় অবকাঠামো উন্নয়ন, আইনের শাসন, বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার নীতি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সাহায্য করেছে। 

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিলেন না। তিনি পারিবারিক গণ্ডি পেরিয়ে যখন রাজনীতিতে আসেন, তখন তিনি পুরো পরিবারকে ভুলে যাননি। পুরো সমাজকে ভুলে যাননি। পুরো সিস্টেমকে ভুলে যাননি। সেখানে একটা নতুন দিগন্ত তিনি তৈরি করেছিলেন।’

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘উত্থানপর্বে বেগম খালেদা জিয়া বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে দলকে উত্তরণ করেন। সরকার পরিচালনায় আরেকটি অবস্থায় তাকে দেখা গেছে। আর ২০০৭ পরবর্তী সময়ে তাকে নিগৃহীত হতে হয়েছে, তিনি ভিকটিম হয়েছেন নানাভাবে। তবে উত্থানপর্বেই আপসহীনতার তকমা তিনি পেয়ে গেছেন। শেষপর্বে তিনি যে ভিকটিম হয়েছেন, সেটা মানুষের কাছে সহানুভূতির সৃষ্টি করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বক্তব্য প্রতিহিংসা থেকে সরে আসার বার্তা দেয়। মনে রাখতে হবে, অন্যকে আলো দিতে হলে নিজেকে মোমবাতি হতে হয়।’

কেকে/  এমএস
আরও সংবাদ   বিষয়:  নাগরিক শোকসভা   বিশিষ্টজন   খালেদা জিয়ার আদর্শ  
মতামত লিখুন:

সর্বশেষ সংবাদ

বিএনপির প্রার্থী মিন্টু নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে : জামায়াত প্রার্থী ফখরুদ্দিন
ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল নিতে বাধা নেই
মাদারীপুর-৩ আসনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতার দাবিতে জামায়াত প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন
সরকার গঠন করতে পারলে প্রথমেই আইনশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ : তারেক রহমান
বিএনপি প্রার্থী তুহিনের পক্ষে আহসান হাবীব লেলিনের নির্বাচনি মিছিল

সর্বাধিক পঠিত

শারজাহে প্রবাসী সনাতনী ঐক্য পরিষদের জমজমাট পিঠা উৎসব
মোবাইল নিয়ে সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশ্বাস ইসির
মৌলভীবাজার-৪ আসনে নুরে আলম হামিদীর ইশতেহার ঘোষণা
রংপুর-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী সুজনের নির্বাচনি পথসভা
ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল বহনে নিষেধাজ্ঞায় বিওজেএর উদ্বেগ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close