শনিবার, ৬ জুন ২০২৬,
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
শিরোনাম: এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী      ভারতের কাছে হেরে হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের      ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স      মেসির চোখে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা নয় ব্রাজিলই ফেভারিট      ঋতুপর্ণার গোলে সমতা নিয়ে বিরতিতে বাংলাদেশ      বিএনপি যেভাবে ফল্ট করছে, তাদের বেশিদিন সময় নেই : আসিফ মাহমুদ      বিশ্বকাপে খেলা সব ফুটবলারের সম্মিলিত অর্জন এক মেসির সাফল্যের সমান      
অর্থনীতি
বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য শিল্পে ফার্টিফাইড আটা-ময়দার ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম আপডেট: ১৫.০১.২০২৬ ৪:১২ পিএম
ছবি : প্রতিবেদক

ছবি : প্রতিবেদক

মিলার্স ফর নিউট্রিশন কোয়ালিশনের উদ্যোগে (টেকনোসার্ভ কর্তৃক বাস্তবায়িত ও গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত) বাংলাদেশে ফর্টিফাইড আটার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা, ব্যবহার ও পুষ্টিগত প্রভাব পর্যালোচনার লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার গুলশানস্থ লেকশোর হাইটস হোটেলে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। 

কর্মশালায় বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য শিল্পে ফর্টিফাইড আটার বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং এর পুষ্টিগত প্রভাব নিয়ে বিদ্যমান সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শীর্ষস্থানীয় প্রক্রিয়াজাত খাদ্য প্রস্তুতকারক, ফ্লাওয়ার মিল মালিক, আধুনিক খাদ্যপ্রযুক্তি সরবরাহকারী, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল—ফর্টিফাইড আটা কীভাবে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য শিল্পে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে একদিকে অপুষ্টি সমস্যা মোকাবিলা করা যায় এবং অন্যদিকে দেশীয় বাজার ও রপ্তানি শিল্পে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব—সে বিষয়টি শিল্পখাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল—এসিআই ফুডস্, ইফাদ মাল্টি প্রডাক্টস, আকিজ এসেনশিয়াল, আকিজ এফএমসিজি, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, আমান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ কুপারস, গোল্ডেন হারভেস্ট, জনতা বিস্কুট কোম্পানি, ড্যান ফুড, ইউরো ফুড, রূপসি বিডি গ্রুপ, প্রাণ গ্রুপ, কিউএএম (কেএফসি ও পিজ্জা হাট), ইগলু আইসক্রিম অ্যান্ড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ, মীম শরত গ্রুপ, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, গ্রামীন ডানোন, ইউরেশিয়া ফুড। তাদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে বিস্কুট, বেকারি, দুগ্ধজাত খাদ্য, স্ন্যাকস, নুডলস ও রেডি-টু-ইট পণ্য উৎপাদনে ফর্টিফাইড আটা ব্যবহারে বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য শিল্প এখন বাস্তবিকভাবেই প্রস্তুত।

উদ্বোধনী অধিবেশনে টেকনোসার্ভের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. গুলজার আহমেদ বলেন, ‘প্রক্রিয়াজাত খাদ্য শিল্প হচ্ছে জনগণের কাছে অপরিহার্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর ও সহজ সম্প্রসারণযোগ্য মাধ্যম।’

‘ফর্টিফাইড আটা ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে যেমন কোম্পানির ব্র্যান্ড ভ্যালু ও বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে জাতীয় পুষ্টি লক্ষ্য অর্জনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—যা শিল্পখাতের জন্য একটি দ্বিমুখী সুফল।’

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজিজ এবং টেকনোসার্ভে  সিনিয়র ফুড ফর্টিফিকেশন স্পেশালিস্ট মো. নাঈম জোবায়ের।

‘পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে?’ শীর্ষক একটি সঞ্চালিত আলোচনায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), গেইন (হিএআইএন) ও নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের (এনআই) মত উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার পাশাপাশি বিএএসএফ, বুলার বাংলাদেশের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় জাতীয় পর্যায়ে ফর্টিফাইড আটা সম্প্রসারণে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সরবরাহ শৃঙ্খলার সমন্বয় ও কার্যকর অংশীদারিত্ব কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত উপস্থাপন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রেজা মোহাম্মদ মহসিন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি সময়োপযোগী উদ্ভাবন। বর্তমানে ফর্টিফাইড আটা বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও অদূর ভবিষ্যতে এটি অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।’

রেজা মোহাম্মদ ভোক্তা পর্যায়ে ফর্টিফাইড খাদ্যপণ্যের দ্রুত বিস্তারের কথা উল্লেখ করে পুষ্টিসংবেদনশীল খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বেসরকারি খাতের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেন। 

পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘খোলা বাজারে ফর্টিফাইড আটার ক্রমবর্ধমান বিস্তার ও সম্ভাবনাকে সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই উদ্যোগ জাতীয় পর্যায়ে প্রসারিত করতে যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে, তা প্রশংসনীয়।’

একই সঙ্গে তিনি ফুড ফর্টিফিকেশন ইকোসিস্টেম জোরদারে টেকনোসার্ভের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। 

তিনি বলেন, ‘ফর্টিফাইড আটা শুধু একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান নয়, বরং এটি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও টেকসই জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের একটি কার্যকর মাধ্যম।’

‘প্রক্রিয়াজাত খাদ্য শিল্পে ফর্টিফাইড আটার ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে একদিকে যেমন ভোক্তাদের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখবে, তেমনি অন্যদিকে খাদ্য শিল্পের গুণগত মান ও বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।’

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে টেকনোসার্ভের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. গুলজার আহমেদ বাংলাদেশে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক খাদ্য ফটিফিকেশন সম্প্রসারণে শিল্প, সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। 

কেকে/এমএ



আরও সংবাদ   বিষয়:  সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিত   সরকারের বিবেচনা   ফর্টিফাইড আটা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

অর্থনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close