দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। চলছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু না হলেও প্রার্থীরা অনানুষ্ঠানিক জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের প্রচারের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও তোপ দাগাচ্ছেন। এতে উত্তাপ ছাড়াচ্ছে ভোটের মাঠে। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতার বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এনসিপির কয়েকজন নেতার আক্রমণাত্মক বক্তব্য নির্বাচনি পরিবেশকে নষ্ট করছেন। তারা পরিকল্পিতভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে সংঘাত উসকে দিতে চাইছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি আগেই পথ হারিয়েছে। নয়া বন্দোবস্তের কথা বললেও তারা পুরোনো ধারার রাজনীতিই করছে। নির্বাচনি জনসংযোগে তাদের আগ্রাসী বক্তব্য, প্রতিপক্ষ নিয়ে মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডা ছাড়ানো কোনোভাবেই নতুন দিনের রাজনীতি হতে পারে না। কিন্তু তারা ধারাবাহিকভাবে তারা করে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে জোট করার আগে তারা জামায়াত নিয়েও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিত। কিন্তু দেখা গেল সেই জামায়াতের সঙ্গে জোট করল। এবা বিএনপি ও দলটির নেতাদের চরিত্র হননে নেমেছে এনসিপির নেতারা।
প্রতিপক্ষকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্যে এগিয়ে আছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। জনসংযোগে গিয়ে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে গডফাদার, চাঁদাবাজ, উদ্বাস্তু হিসেবে আখ্যাতিত করে বক্তৃতা দিচ্ছেন। যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে মন্তব্য করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এনসিপির কিছু প্রার্থী সংঘাত সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন। তাই তারা ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানিমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। মনে হচ্ছে তারা চাচ্ছেন, বিএনপির কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করুক। আর তারা তখন এর ফায়দা নেবে।
নাসিরউদ্দীন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি দুই টাকার কমিশনার ছিলেন। উদ্বাস্তু হিসেবে ঢাকায় এসেছেন। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করে জনগণের পকেটের টাকা কেটে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছেন। এনসিপির এই নেতা মানুষের পালস বুঝে মির্জা আব্বাসকে রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তাহলে তিনি মানুষের ভোট পাবেন।
এদিকে কিছু প্রার্থী ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা আব্বাস। গতকাল বুধবার দুপুরে নয়া পল্টনে সাংবাদিকদের সামনে এ অভিযোগ তুলে ধরে তিনি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কারও নাম না নিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘কিছু কিছু প্রার্থী এমন কথাবার্তা বলছেন, ওইগুলো উসকানিমূলক কথাবার্তা। তাদের যে কাজকর্ম, তাদের কথাবার্তা অত্যন্ত উসকানিমূলক। তারা নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা লঙ্ঘন করে অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে কথা বলছেন। আপনি খেয়াল করে দেখবেন, আমি যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি সেই আসনের কিছু কিছু প্রার্থী আমার সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলতেছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলছে, যাতে আমরা একটু ইরিটেটেড হই। এ ব্যাপারে আমি নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানাব, তারা যেন একটু খেয়াল রাখেন।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চাই না, দিবও না। আমরা চাই, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হোক এবং সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হোক।’
এদিকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিএনপিতে আক্রমণ করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর দায়িত্ব সকল রাজনৈতিক দলেরই ছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল, তারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলা শুরু করছে। তারা ইনিয়েবিনিয়ে না ভোটের পক্ষে মানুষ যাতে ভোট দেয়, সেই প্রচারণার চেষ্টা করছে ... এই বিশেষ দলই যখন সংস্কার কমিশন হয়েছিল, তখন বলেছিল, এই সরকার কেন সংস্কার করবে? বলেছিল, গণঅভ্যুত্থানের পরে কোনো সংস্কারেরই প্রয়োজন নেই।’
বিএনপির কর্মসূচির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘একটি দল এখন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড- এমন বিভিন্ন কার্ড দেওয়ার কথা বলছে। কিন্তু এই কার্ডের বিনিময়ে যে টাকা দেবে, সেই টাকা কোত্থেকে আসবে, তা বলছে না। শুধু খরচ কোথায় করবে, সেটা বলছে। ফলে দেখা যাবে, এই কার্ড দিতে গিয়ে তারা আবার ভ্যাট বাড়াবে, জনগণের ওপর চাপ বাড়বে। অথবা এই কার্ড শুধু দলীয় লোকেরাই পাবেন, সাধারণ মানুষ পাবেন না। আবার দলীয়করণ হবে, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি হবে।’
কেকে/এমএ