সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,
২৭ মাঘ ১৪৩২
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিরোনাম: ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল নিতে বাধা নেই      নির্বাচনের ফল প্রকাশ কবে, জানাল ইসি      ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ হাসিনার নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে : হামিম      ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি      অচলাবস্থা কাটিয়ে অপারেশনে ফিরল চট্টগ্রাম বন্দর      নাকভিকে কৃতজ্ঞতা জানালেন বুলবুল, যেসব বিষয়ে আলোচনা হলো লাহোরে      দূরপাল্লার বাস চলাচল নিয়ে যা জানা গেল      
খোলাকাগজ স্পেশাল
জামায়াতের মোড়লগিরি, নতুন জোটের ইঙ্গিত ইসলামী আন্দোলনের
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামি রাজনৈতিক জোট ভাঙনের মুখে পড়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতানৈক্যের বিষয়টি সামনে উঠে আসছে। পাশাপাশি জামায়াতের মোড়লগিরি তথা একক আধিপত্যের বিষয়টিও রয়েছে। এ ছাড়াও জোটের সভায় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অন্যদলগুলোকে জামায়াতের উপেক্ষা, মিডিয়ায় পরিকল্পিত অপপ্রচার ও এনসিপিসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে আঁতাত-বিষয়গুলোকে ভালোভাবে নেয়নি জোটের অন্যগুলো। বিশেষ করে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের কঠোর অবস্থানের কারণেই জোটগত নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দলগুলো। সর্বশেষ গতকাল বুধবার আসন সমঝোতা নিয়ে ১১ দলের একটি সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামপন্থি দলগুলোর জোট থাকবে কি-না বলা যাচ্ছে না। জোটটি টিকে গেলেও আসলে বেনিফিটেড হবে জামায়াত আর এনসিপি। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে অন্যদলগুলো। 

ইসলামী আন্দোলন মনে করে, ১০টি দলের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান জাতীয় সরকার গঠনের পক্ষে কথা বলেন। এটিকে ইসলামী আন্দোলনের অনেকে দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছেন।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা যখন জটিলতায়, তখন নতুন জোটের ইঙ্গিত দিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। 

তিনি বলেন, ‘২০ তারিখ (২০ জানুয়ারি) হলো মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচন হলো ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ। তা-ই না? ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের আগপর্যন্ত যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।’

গতকাল বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন চরমোনাই পীরের দলটির মুখপাত্র। তার ভাষ্যে, তাদের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা রয়েছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলটির জামায়াতের জোটে থেকে অংশ নেওয়ার কথা চলছিল। গতকাল বিকেলে এই জোটের ১১টি দলের কে কোন আসনে প্রার্থী হবেন, তা ঘোষণা করার সংবাদ সম্মেলন হওয়ারও কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।

আসন নিয়ে মতৈক্য না হওয়ার কারণেই এ সংবাদ সম্মেলন ভেস্তে গেছে বলে দলটির সূত্র থেকে জানা যায়। ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসন চাইছে, কিন্তু জামায়াত ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়। এ নিয়ে ইসলামী দল দুটির সমঝোতা আটকে যায়।

জোটের আসন ভাগাভাগির টানাপোড়েন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর বলেন, আশা করা হয়েছিল, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সেটি হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বৈঠক করে দলের সব স্তরের নেতাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। মাঠের তথ্য নেওয়া হয়েছে, প্রার্থীদের কথা শোনা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আজ (গতকাল) তাদের মজলিসে আমেলার (দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম) বৈঠক হয়েছিল। যাদের নিয়ে শুরু থেকে পথচলা, তাদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন যোগাযোগ করছে।

‘ওয়ান বক্স’ পলিসির আওতায় আগামীর পথচলা কেমন হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, দু-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

নতুন জোট প্রসঙ্গে গাজী আতাউর বলেন, এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অনেকের সঙ্গেই তাদের আলোচনা চলছে। আলোচনার পর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অগ্রসর হবেন তারা। যাদের ইসলামী আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, তাদের নিয়ে পথ চলবেন বলে জানান তিনি। সে ক্ষেত্রে শুরুতে আসন সমঝোতার আলোচনায় থাকা পাঁচটি ইসলামী দলের জোট হবে কি না, তা-ও তিনি স্পষ্ট করেননি। তিনি বলেন, ‘পাঁচ দলের বাইরেও অনেকেরই আমাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। তা-ই না? ১২ দলের মধ্যে যারা আছে, এদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। এর বাইরে আরও আলোচনা হচ্ছে। আলোচনা হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে।’

বিভিন্ন জনমত জরিপের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে দাবি করে গাজী আতাউর রহমান বলেন, অনেকে সমীক্ষাকে মানদণ্ড ধরেন। এসব জরিপ কারা করছে, মানুষ সেটি বোঝে। এগুলো বেইনসাফি করার পথ উন্মুক্ত করছে। এসব ভাঁওতাবাজি জরিপ দিয়ে নির্বাচনের পথরেখা নির্ধারণ করলে সেখানে বিপর্যয় হবে।

এরআগে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্যে- ‘ওয়ান বক্স’ নীতিতে নির্বাচনি ঐক্যের উদ্যোগ নেয় ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি ইসলামী দল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল- ইসলামপন্থি ভোট বিভক্ত না করে একটি প্ল্যাটফর্মে কেন্দ্রীভূত করা, যাতে নির্বাচনে ইসলামী দলগুলো একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।

শুরুর দিকে এই আলোচনায় কয়েকটি দল থাকলেও পরবর্তীতে এতে যুক্ত হয় জামায়াতে ইসলামীসহ আরও কয়েকটি দল। সর্বশেষ কয়েক দিন আগে এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। এতে করে ১১ দলের একটি বৃহৎ নির্বাচনি ঐক্যের তৈরি হয়।
তবে ‘ওয়ান বক্স’ নীতিতে এই ঐক্য সংগঠিত হলেও এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আসন বণ্টন নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দলগুলো। 

সূত্র বলছে, শুরু থেকেই জামায়াতে ইসলামী নিজেদের জন্য প্রায় ১৯০টি আসন ধরে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। বাকি আসনগুলো শরিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টনের প্রস্তাব দেয় দলটি। এই প্রস্তাবের মাধ্যমেই সমঝোতার টেবিলে শুরু হয় অস্বস্তি। এরমধ্যে জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি ইসলামী আন্দোলনকেও প্রথম ধাপে মাত্র ৩৫টি আসনের প্রস্তাব দেওয়া হলে দলটির ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। এ অবস্থায় দুই দলের মধ্যকার আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটাকে জামায়াতের ‘মোড়লগিরি’ হিসেবে দেখেছেন। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জোটের অন্য ছোট দলগুলোর ক্ষেত্রেও। প্রত্যাশিত আসন না পাওয়ায় তাদের মধ্যেও এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘ওয়ান বক্স’ নীতি শুরুতে যতটা আন্তরিক ছিল, এখন তা ততটাই জটিল হয়ে উঠছে। তাদের মতে, এই ঐক্য এখন আর শুধু ভোট এক বাক্সে আনার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই, এখানে নিয়ন্ত্রণ ও মোড়লগিরির দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছে।

তাদের ভাষ্য, জামায়াতের এককভাবে ১৯০ আসন দাবি করার বিষয়টি অন্য দলগুলোর মধ্যে একধরনের সংকট তৈরি করছে। এতে করে ইসলামী আন্দোলনসহ বাকি দলগুলো নিজেদের সহযোগী নয়, অনুগত হিসেবে দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করছে। ফলে আসন বণ্টনে ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত না হওয়ায় ‘ওয়ান বক্স’ নীতি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে যাচ্ছে।

কেকে/এমএ

আরও সংবাদ   বিষয়:  জামায়াতের মোড়লগিরি   নতুন জোট   ইসলামী আন্দোলনের  
মতামত লিখুন:

সর্বশেষ সংবাদ

ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল নিতে বাধা নেই
মাদারীপুর-৩ আসনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতার দাবিতে জামায়াত প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন
সরকার গঠন করতে পারলে প্রথমেই আইনশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ : তারেক রহমান
বিএনপি প্রার্থী তুহিনের পক্ষে আহসান হাবীব লেলিনের নির্বাচনি মিছিল
হোসেনপুরে ফ্রিজে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার সময় যুবকের মৃত্যু

সর্বাধিক পঠিত

শারজাহে প্রবাসী সনাতনী ঐক্য পরিষদের জমজমাট পিঠা উৎসব
মোবাইল নিয়ে সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশ্বাস ইসির
মৌলভীবাজার-৪ আসনে নুরে আলম হামিদীর ইশতেহার ঘোষণা
রংপুর-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী সুজনের নির্বাচনি পথসভা
গুরুদাসপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মা-মেয়ের মৃত্যু
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close