শনিবার, ৬ জুন ২০২৬,
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
শিরোনাম: অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ভারত : রণধীর জয়সওয়াল      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু      গোপালপুরে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে হামলা-ভাঙচুর, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ      প্রতিরক্ষা শিল্পে পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর      ডিএমপির ৭ কর্মকর্তাকে বদলি      ভারতের অরুণাচল প্রদেশে একসঙ্গে ১৫ মসজিদ সিলগালা      বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ      
খোলাকাগজ স্পেশাল
দেশে খুনের রেকর্ড
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৭ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

দেশজুড়ে প্রকাশ্যে খুন, মব সহিংসতা ও ভয়াবহ অপরাধের ঘটনা যেন বেড়েই চলছে। যার প্রভাব পড়েছে জনসাধারণের মধ্যে। ফলে নতুন করে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা। বিশেষ করে টার্গেট কিলিং, গণপিটুনি ও প্রকাশ্য হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। হাসিনার পতনের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান চললেও থামেনি খুনোখুনি, ডাকাতি ও সহিংসতা।

পুলিশের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে বিদায়ি বছরে সারা দেশে খুনের শিকার হন ৩৭৮৫ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১২৩ জন। বিভিন্ন অপরাধে মামলা হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৩৭টি। এ ছাড়া মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এগারো মাসে (জানুয়ারি-নভেম্বর) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মব সহিংসতায় নিহত হয় অন্তত ১৮৪ জন। এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই নিহত হয়েছেন ৭৮ জন। এসব মামলার বিশ্লেষণে দেখা যায় ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং দস্যুতার ঘটনা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত বছরের জানুয়ারিতে অপরাধের মামলা হয়েছে ১৪ হাজার ৫৭২টি ও ফেব্রুয়ারিতে ১৩ হাজার ২টি। মার্চে ১৬ হাজার ২৪০টি। এপ্রিলে ১৬ হাজার ৩৬৮টি। মে মাসে ১৬ হাজার ৪৫টি। জুন মাসে ১৫ হাজার ১৬৭টি। জুলাই মাসে ১৫ হাজার ৩৮৯টি। আগস্টে ১৫ হাজার ৬৫৬টি। সেপ্টেম্বরে ১৫ হাজার ৪৩১টি। অক্টোবরে ১৬ হাজার ১৭০টি ও নভেম্বরে ১৪ হাজার ৪৬৫টি ও ডিসেম্বরে ১৩ হাজার ২৩২টি। ২০২৪ সালে দেশে মোট অপরাধে মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭২ হাজার ৫টি এবং ২০২৩ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৬টি। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে অপরাধের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়তি ছিল। বর্তমান সময়ে কিছু কিছু অপরাধ কমে এলেও প্রতিনিয়ত ভয়ংকর ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে মানুষ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সামনে রয়েছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। অপরাধীদের দমানো না গেলে অপরাধের মাত্রা আরও বেড়ে যাবে। অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্রিয়তা আরও বেশি জরুরি। আরও বেশি কঠোর হতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে অপরাধ প্রবণতা, ডাকাতি, অপহরণ, সহিংসতা, সংঘাত, খুন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ- এই ধরনের অপরাধগুলো অনেক কমে আসার কথা, এটাই আমরা প্রত্যাশা করেছি কিন্তু বাস্তবতা তার বিপরীত। 

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, দেশে সব ধরনের অপরাধ দমাতে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে কয়েক দফায় পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা আরও বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।

উল্লেখ্য, তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। পরে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গত ২ জানুয়ারি সকালে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় একদল সন্ত্রাসী। চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের নির্দেশে তার সহযোগীরা এ ঘটনা ঘটায়।

এর আগের দিন ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নগর বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন।

২৯ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তরা পারভেজ নামে এক যুবদল কর্মীকে পেটানোর পর ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। ৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে একই উপজেলার রাউজানে জানে আলম সিকদার নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলটি ছিল পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে। একই দিন সন্ধ্যায় যশোরের মণিরামপুরে রানা প্রতাপ বৈরাগী নামে এক বরফকল ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।

গত ৯ ডিসেম্বর কক্সবাজার শহরের বাইপাস সড়কে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা হেলমেট পরে এসে মোহাম্মদ ফারুক নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে। পরে ২৮ ডিসেম্বর ভোরে তার মৃত্যু হয়। ২২ ডিসেম্বর খুলনার সোনাডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠনের এক কেন্দ্রীয় নেতা মোতালেব শিকদার গুলিতে নিহত হন।

১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশের হামজারবাগ এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের মালিকের কাছে ৮০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। চাঁদা না পেয়ে তারা দিনদুপুরে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ঘটনাস্থলে আসা তিন সন্ত্রাসীর দুজনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

১৭ ডিসেম্বর পাবনার ঈশ্বরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের গুলিতে বীরু মণ্ডল নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হন। ১৩ নভেম্বর রাতে গাজীপুরের টঙ্গীর আনারকলি রোড এলাকায় এক বিকাশ কর্মীকে গুলি করে ১৪ লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়। ১১ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমাকালেঙ্গা সংরক্ষিত বনে দুর্বৃত্তরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে বনপ্রহরীদের ভয় দেখিয়ে ২০-২৫টি গাছ কেটে নিয়ে যায়।

সর্বশেষ রাজধানী ঢাকায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রভাবশালী নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বিরসহ দুজনকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে ওই স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত হন। গত বুধবার রাত আটটার দিকে কারওয়ান বাজারে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরে এনসিপির এক কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি করে তার মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  দেশ   খুন   রেকর্ড   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close