চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক)-এ আগত রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা চালু করেছে দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন। মানবিক এই উদ্যোগের ফলে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মানুষ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করার সুযোগ পাবেন।
চমেক একটি বৃহৎ সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় প্রতিদিন এখানে বিপুল সংখ্যক রোগী ও স্বজনের ভিড় থাকে। অনেক সময় পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগান্তিতে পড়তে হতো তাদের।
রোববার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ভবনের নিচতলায় পানির প্ল্যান্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু আবিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ মো. শামসুল আলম। এ সময় ফিতা কেটে ও পানি পান করে প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন চমেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুল আলম বলেন, “এমন একটি মহৎ উদ্যোগে আমাদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানাই। এটি সম্পূর্ণ সদকায়ে জারিয়াহ। মানুষকে পানি পান করানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে চমেক কর্তৃপক্ষও সহযোগিতা করেছেন, এজন্য তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা। আমরা সবাই আল্লাহকে খুশি করার উদ্দেশ্যেই এই কাজটি করেছি। আল্লাহ যেন আমাদের এই উদ্যোগ কবুল করেন—আমিন। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কর্মকাণ্ডে আমরা ফাউন্ডেশনের পাশে থাকব।”
প্রজেক্টের মূল উদ্যোক্তা ও দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু আবিদ বলেন, “মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে বিশুদ্ধ পানি অন্যতম। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো একটি বৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াত। রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীরা অনেক সময় বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সেই জায়গা থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন—বিশেষ করে প্রধান অতিথি আলহাজ মো. শামসুল আলম, চমেক কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আমাদের সকল স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন মানুষের কল্যাণে ও মানবতার সেবায় কাজ করে যাবে।”
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, “প্রয়োজনের তুলনায় চমেকে অনেক সুযোগ-সুবিধাই অপ্রতুল। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। তাদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা এতদিন চ্যালেঞ্জ ছিল। দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন যে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আজ বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে রোগী ও তাদের স্বজনরা উপকৃত হবেন এবং হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে আসবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আগে বিশুদ্ধ পানি বাইরে থেকে কিনে আনতে হতো। এখন প্রতিটি ফ্লোরে সহজেই বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি পাওয়া যাচ্ছে, যা অনেক স্বস্তির। বিশুদ্ধ পানির জন্য দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটেছে।”
প্ল্যান্টটি থেকে হাসপাতালের ভবনের প্রতিটি ফ্লোর মিলিয়ে মোট ৪০টি পানির পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে রোগী ও স্বজনদের পানির জন্য বাইরে যেতে না হয় বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে না হয়। এই বিশুদ্ধ খাবার পানি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। পুরো প্রকল্পটি সচল রাখতে একজন কর্মীকে মাসিক বেতনভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্ল্যান্টটি প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মানুষের পানির চাহিদা পূরণে সক্ষম। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের আশপাশের দোকানগুলোতে পানির বোতলের অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ ছিল। দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ সেই সমস্যার কার্যকর সমাধান এনে দিয়েছে।
সুত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক
কেকে/এলএ