প্র্যাচ্যের অক্সফোর্ড-খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিভাগে বিবিএ ও এমবিএ করা ইফতেসা অরনী। প্রায় এক দশক চাকরিও করেছেন একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু কিছুতেই মন বসাতে পারছেন না চাকরিতে। উদ্যোক্তা হওয়ার বাসনা যার মনে, নিয়ম বাধা ৯-৫টার অফিসে কোনোভাবে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। তাই চাকরি ছেড়ে শুরু করেন ছোট্ট একটা নার্সারি। সবুজায়নের ব্যবসা। শুরুর এক বছরের মাথাতে নার্সারি থেকে অরনীর মাসিক আয় ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। এরপর আরও বিনিয়োগ করেন তিনি। সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসাটাই করবেন, অন্যের প্রতিষ্ঠানে আর চাকরি করবেন না।
অরনী জানান, শুরুটা ছিল মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে। সেই ব্যবসায় এখন পর্যন্ত তার বিনিয়োগ ১৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে কিছু টাকা গেছে জমি উন্নয়নে, একটা বড় খরচ হয়েছে পিকআপ ভ্যান কিনতে। তবে ব্যবসার অবস্থা বর্তমানে ভালো। ভবিষ্যতে এই ব্যবসাকে আরও বড় করতে চান তিনি।
অরনী আরও জানান, আমার ১০ বছরের সঞ্চয় দিয়ে ব্যবসাটা শুরু করেছি। প্রথম দিকে পরিবারের সহযোগিতা না পেলেও এখন বেশ ভালোভাবেই সাপোর্ট পাচ্ছি, যা আমার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। অরনী তার সবুজায়ন ব্যবসার নার্সারির নামও দিয়েছেন ‘অরনী’। নার্সারিতে যেসব গাছ রয়েছে তার বেশির ভাগই পাতাবাহার।
তরুণ নারী উদ্যোক্তা অরনী জানান, বাড়ি ফিরলাম পাঁচ হাজার টাকার গৃহসজ্জার গাছ নিয়ে। তা দিয়েই শুরু। ফেসবুকে পেজ খোলা হলো। ছবি তুলে দেয়া শুরু করলাম। মাত্র তিন মাসের মধ্যে এত বেশি অর্ডার আসতে শুরু করল যে পাশের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করতে হলো। তিন মাস পর দেখা গেল তাতেও হচ্ছে না। তখন বাধ্য হয়েই আমিনবাজারের জমিতে চলে আসি। শুরুতে ফেসবুকে ‘অরনী’ পেজের মাধ্যমেই ব্যবসা শুরু করলেও এখন ঢাকার অদূরে আমিনবাজারে পাঁচ কাঠা জমির ওপর নার্সারি তৈরি করেছেন তিনি। অরনী মূলত ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ করেন। আমার মূল ব্যবসা হচ্ছে কোথায় কোন গাছ রাখা যাবে বা বসানো দরকার তা নির্ধারণ করা। তিনি আরও জানান, একটা অফিসে কতটা আলো আসে, রাতে কতক্ষণ বাতি জ্বলে, প্রাকৃতিক বাতাস চলাচল করে কিনা, নাকি এসি চলে ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে সে অনুযায়ী ক্রেতাকে গাছ পাঠানো হয়। ভবিষ্যতে ‘অরনী’ নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চাইলে জানান, ভবিষ্যতে গাছ ও গাছের পরিচর্যা সরঞ্জাম নিয়ে এক ছাদের নিচে একটি শপ দিতে চাই। যেখানে ক্রেতারা আসবেন, গাছ সম্পর্কে জানবেন, এরপর সিদ্ধান্ত নিয়ে গাছ কিনবেন। অরনী আরও বলেন, আমার ব্যবসা যদি পরিবেশের ওপর একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, সেটাই আমার বড় সাফল্য।
কেকে/ আরআই