আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ডাকযোগে পাঠানো একটি চিঠিতে তাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে—নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রওসমান হাদির মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে। চিঠির সঙ্গে একটি কাফনের কাপড় পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফোনে শাহজাহান চৌধুরীর খোঁজখবর নেন এবং তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহজাহান চৌধুরী।
তিনি জানান, একটি অজ্ঞাতনামা চিঠির মাধ্যমে তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয় এবং ওসমান হাদির হত্যার প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়।
একই সঙ্গে ‘উপহার’ হিসেবে একটি কাফনের কাপড় পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন শাহজাহান চৌধুরী।
চিঠিতে প্রেরকের কোনো পরিচয় উল্লেখ না থাকলেও সেখানে বলা হয়েছে, প্রার্থী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চিঠির ভাষা ও বিষয়বস্তু অত্যন্ত আতঙ্কজনক বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে টেকনাফ পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। এটি গণতন্ত্র ও নির্বাচনি পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। ইতোমধ্যে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করছি।’
হুমকির প্রতিক্রিয়ায় শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘এ ধরনের হুমকিতে আমি মোটেও বিচলিত নই। প্রতিপক্ষ আমার জনপ্রিয়তা ও সম্ভাব্য বিজয়ের বিষয়টি বুঝতে পেরে ভয় দেখানোর পথ বেছে নিয়েছে। আমি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টি মোকাবিলা করব।’
‘বিষয়টি উখিয়া থানায় এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকেও জানানো হয়েছে।’
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াবুল হক বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হত্যার হুমকির বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ