ফরিদপুরের সালথায় বাড়ছে শীতের তীব্রতা, এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। গত পাঁচ দিন ধরে তাপমাত্রা ক্রমশ নিচের দিকে নামছে এ জেলায়। এছাড়া তিন দিন ধরে নেই সূর্যের দেখা। শীত ও কুয়াশার হিমেল হাওয়ায় জমে থাকা অতিরিক্ত আর্দ্রতা মানুষকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ।
এর আগে, সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকালের চেয়ে আজ তাপমাত্রা আরও কম। তারও আগের দিন রোববার ছিল ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ধারাবাহিকভাবে তাপমাত্রা কমতে থাকায় শীতের তীব্রতা বেড়েই চলছে।
সালথা বাজারের ব্যবসায়ী বিপুল সাহা বলেন, “সকালে দোকান খুলতেই ঠান্ডায় হাত-পা জমে যাচ্ছে। সারাদিন একই অবস্থা থাকায় লোকজনও খুব একটা বের হয় না। এতে ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়ছে।”
কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, “বাড়ি থেকে বের হয়ে কৃষি কাজের জন্য মাঠে গেলেই মনে হয় বরফের বাতাস লাগছে গায়ে। আজ তিনদিন ধরে সুর্য্য ওঠে না। শীত বেশি পড়ায় কৃষি কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে।”
ভ্যানচালক মোকলেছুর রহমান বলেন, “শীত বেশি পড়ায় রোডে যাত্রী নেই। কামাই কমে গেছে। লোকজন ঠান্ডায় বের হচ্ছে না। তারপরও মোটা কাপড় পরে ভ্যান নিয়ে বের হতে হয়েছে।”
এদিকে, গত পাঁচ দিন আগে থেকে টানা ১০ দিনের শীত ও ঠান্ডা পড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক জানান, “ফরিদপুরে মঙ্গলবার ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল যেটি ছিল ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।”
তিনি আরও বলেন, “উত্তর দিক থেকে আসা শীতল বাতাস এবং আকাশে মেঘ থাকার কারণে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়েছে। এ কারণে টানা কয়েকদিন সূর্যের দেখা মিলছে না। আগামী এক থেকে দুইদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এরপর আকাশ আংশিক পরিষ্কার হলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
কেকে/ আরআই