বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ধারাবাহিক মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের নির্দেশনায় আনসার-ভিডিপির সদস্য-সদস্যা ও তাদের পরিবারবর্গের জন্য দেশব্যাপী বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
২৭ ডিসেম্বর- ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বগুড়া, জামালপুর, ভোলা ও লালমনিরহাট—এই চারটি জেলায় পর্যায়ক্রমে তিন দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গ সরাসরি চিকিৎসা সেবা পাবেন।
এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপে বগুড়া জেলার গাবতলী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়। বগুড়াতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বগুড়া জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সাদ্দাম হোসেন।
আনসার-ভিডিপি সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও আত্মত্যাগের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এসব সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে বাহিনী একটি নৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবে বিবেচনা করে, যার বাস্তব প্রতিফলন হিসেবেই এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।
এই চিকিৎসাসেবা কর্মসূচির আওতায় চক্ষু ও দন্ত চিকিৎসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চোখের যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে আধুনিক দাঁতের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও সাধারণ রোগে আক্রান্তদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
আয়োজিত এই মেডিকেল ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারী সদস্য-সদস্যা ও তাদের পরিবারবর্গ চিকিৎসা সেবা পেয়ে সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমই নয়, বরং সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের কল্যাণে বাহিনীর মানবিক দায়বদ্ধতা, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও সামাজিক অঙ্গীকারের একটি দৃঢ় বহিঃপ্রকাশ। এই কর্মসূচি বাহিনীর ভেতরে পারস্পরিক আস্থা ও মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজে আনসার-ভিডিপির ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও সুসংহত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কেকে/এমএ