ফ্রয়েড ‘সভ্যতা’কে রুখে দিয়া ‘অসভ্যতারে’ রে দাওয়াত দিছেন। অবচেতনের তলায় মার খাওয়া ইচ্ছা, ইচ্ছারা ডিম পাড়ে তা-ও ফেটে। ইচ্ছার বাচ্চারা স্বপ্নের মইধ্যে দোল খায়- বউ পোলাপান একসাথে। মায়ের সাথে মেয়ের তফাত অসভ্যরা করিতে রাজি নয়।
স্বপ্ন শব্দব্রহ্মবৎ। যেন সব কিছুর একটাই মানে। আমরা আলাদা মানে আরোপ করি সভ্য হইতে থাকি। স্বপ্ন চেতন-পাহাড়ের তলদেশ ফুটা করি অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়। সেন্সরশীপ উল্টাইয়া ফেলে। স্বপ্ন ঘোমটা খোলে সেন্সরশীপের বালাই ফালাই দেয়। তার সভ্যতার মুখোশ নাই ভালা লাগে। তখন সে পাল্টায় নিজেরে প্রচার করবার লাগি। প্রচার না হইলে বাচ্চা বাহির হয় না কিছুর।
স্বপ্নে কভু কভু ইচ্ছারা সরাসরি বাহির না হই অল্প অল্প মুখোশ ছিড়ে তাতে ইচ্ছার কিছু দেখন যায় উঁকি দিয়া। নিপতিত ইচ্ছারা স্বপ্নের তলায় কাজ-কাম চালায়ে যায়। তারা বাইচালি, ইয়ার্কি, জোকস্, হাস্য রসের দৃশ্য হই উঠে। অবচেতনের তলায় ফুটা করি স্বপ্নের মধ্যে ভাইসা উঠে। আমরা তখন হাসি স্বপ্নের ভিতর। আমরা হাসি দুঃখরে ভোলার লাগি, তারে মাটি চাপা দেওয়ার লাগি। আমাদের ভয়-ভীতিরে সরাইয়া দেওয়ার লাগি। কিন্তু ভয়-ভীতি কোথায় চালান হয় তখন? ভয়-ভীতির সেন্সটা হাসিতে বিকশিত হয়।
এইসব হইল ব্যাখ্যা। তার জন্য চাই মডেল। এই মডেল না হইলে কোনো কিছুর চেহারা পরিষ্কার বুঝা যায় না। আহা ইহা বটে ফ্রয়েডের কঠিন আবিষ্কার। আনকনশাস জিনিসটাই আধুনিক জগতের জন্য বিশাল এক রিলিফ। আধুনিক মানুষ ঈশ্বরের রাজ্যে খোদার বাদশাহী আনকনশাস-এর উপ্রে ছাড়ি দিছে। তখন তারা তার নাম দিতেছে সহজ মানুষ। আরশি নগর। বিভক্ত সহজ মানুষের (সাবজেক্ট) হদিস মিলে এইখানে। মানুষের সত্তা চৈতন্য ও অবচৈতন্যে অধঃপতিত হয়। এই নিপতিত মানুষই ইনসটিংক্ট চালিত। সে বস্তুর স্বরূপের কাছাকাছি রহেন। ভালো-মন্দের বাইরে রহেন। কারণ বস্তু ঠিক যা তার মতন থাকতে পারাটাই ভালো-মন্দের বাইরে থাকা। তাই তারে মহামানব ইশারা করে সদা! সীমানা বদলাও। মানচিত্র বদলাও! অবচেতন জিনিসটা এক অর্থে অজ্ঞাতের ইশারা দেয়। আবার যেহেতু তা প্রবৃত্তি তারে নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিন্তু ধ্বংস করা যায় না। তা নৈতিকতাধীন হইতে চায় না। যারে সোজা বাংলায় বলে পশুবৃত্তির উৎস। ফ্রয়েডের আনকনশাস যেন কান্টের থিঙ-ইন-ইটসেল্ফ। ঐ প্রদেশে মানুষের আধিগম্যতা সীমিত।
কচুপাতারে বুঝি না জগৎ কেমনে বুঝি। কচুপাতার পানি তবু ভালো, সে জানে একটু পরেই সে কারো লাথি খাই পড়ি যাইব। কান্ট বুঝে এমন ভালো প্রফেসর খোদ জর্মন দেশেই কম আছেন। অতএব, মায়া জগতের ভুল ইন্দ্রিয়ে ভুল দরজা দিই ঢুকি সঠিক ঘরে ঘুমাই আসার অভ্যাস তো বাঙালির আছেই! সেই অভ্যাসেই শুরু করা যায়, কান্টের মতে থিঙ-ইন-ইটসেল্ফ বা বস্তুর স্বরূপ দেখা জিনিসটা হইল মানুষ যখন পাঁচ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে জগৎ বিষয়ে অনুমান লইতে যায় তখন সে-ও সেই দেখার অংশ হই পড়ে। সেই দেখার ভিতর তার হাজিরায় বস্তু বিষয়ে যে অভিজ্ঞতা হয় তা অবজেক্টিভ হয় না। আর এইটারেই কান্ট ফেনোমেনন নামে ডাক দিছেন। ঠিক উল্টা তথা বস্তুর প্রকৃত স্বরূপ যে কী মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব হয় না কোনোকালে, তাহা অজ্ঞেয় থাকি যায়।
কেকে/এমএ