শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬,
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিদায় ২০২৫, স্বাগত ২০২৬      ভারতের এক কূটনীতিকের সঙ্গে গোপনে বৈঠক হয়, রয়টার্সকে ডা. শফিকুর      খালেদা জিয়ার জানাজায় মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে      নির্বাচনের আগে হচ্ছে না বিশ্ব ইজতেমা, খোলা হচ্ছে প্যান্ডেল       হাদি হত্যার মূল আসামি ফয়সালের ভিডিওবার্তা এআই দিয়ে তৈরি নয়      জানাজা শেষে হেঁটে গন্তব্যে ফিরেছে মানুষ      স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত ‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া      
দেশজুড়ে
কালাইয়ে আমন ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষকরা
কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:১৬ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ধানের উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এবং বাজারের দাম কম থাকায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

সার, সেচ এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ধানের বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধান কাটার শুরুতে ধানের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায় ছিল। কিন্তু এলাকার ফড়িয়া ধান ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিদিন ধানের দাম মণ প্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা হারে কমছে। এর ফলে অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছেন এবং তাদের ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

জানা যায়, সরকার চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা এবং প্রতি মণ ১,৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু স্থানীয় কালাই পাঁচশিরা, পুনট, মোলামগাড়ী, নুনুজ, হাতিয়রসহ কয়েকটি হাটবাজারে কৃষকেরা জানাচ্ছেন, প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১,০৫০ থেকে ১,১০০ টাকায়, যা ঘোষিত দামের তুলনায় অনেক কম।

কালাই উপজেলার কৃষক কাজী মো. জুয়েল হোসেন বলেন, ‘আমার জমিতে এবার রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আশপাশের সবারই ভালো ফলন হয়েছে। তারপরেও খরচের কারণে কারও খুশি নেই। কারণ খরচের তুলনায় ধানের দাম বাড়েনি, বরং দিন দিন কমছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আবাদের ব্যয় ছাড়া, প্রতি বিঘায় ধান কাটতে খরচ পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। চলতি মৌসুমের শুরুতে ধানের দাম ছিল আশানুরূপ। দিন যাচ্ছে আর অসাধু ধান ব্যবসায়ী আড়ৎদারদের কারণে কৃষকদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।

এ উপজেলার আরেক কৃষক শাহীন মণ্ডল বলেন, ‘আমি এবার ৫বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। সার ও কীটনাশকের দাম এমনিতে বেশি। উচ্চ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় আমরা যদি ধানের ন্যায্য দাম না পাই তাহলে কোথায় যাব! আমরা কৃষকরা কী করব!’

কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে আবার ধান কাটাও পুরো শেষ হয়নি। বাজারে দাম আরও কমতে পারে-এ ভাবনায় দিনরাত দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।’

অন্যদিকে ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘বাজারে সরবরাহ বাড়ছে, নগদ টাকার সংকট এবং মিল মালিকদের কম কেনার কারণে দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না।’

হাতিয়র বাজারে ধান ব্যবসায়ী এনামুল বলেন, ‘গত মৌসুমের ধান-চাল এখনো মজুত থেকে গেছে। মিলাররাও এখনো নতুন ধান কেনা শুরু করেননি। এ জন্য ধানের বাজার নিম্নমুখী।’

কালাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুনুর রশিদ  বলেন, ‘এখনো উপজেলার প্রায় অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে, মাড়াই বাকি। ধান কাটার গতি বাড়ায় বাজারে সরবরাহও বাড়ছে। আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। 

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি রোপা আমন মৌসুমে ১১ হাজার ৫শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।’

কেকে/বি



মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close