আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে লেটার বক্স বা ডাকবাক্স এখন হারিয়ে যাচ্ছে। এখন আর আগের মতো ডাক অফিসে লোকজনের আনাগোনা দেখা যায় না। ফলে ব্যক্তিগত চিঠির গুরুত্ব অনেক কমে গেছে। সেই সাথে এলাকার ডাকঘর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবাক্স।
জানা যায়, মাত্র এক যুগ আগেও সারাদেশের মত ফরিদপুর জেলায় ডাক বিভাগের ডাকবাক্স ছিল জীবনের অপরিহার্য অংশ। অথচ এক সময় দূর থেকে পরিবার পরিজনের সাথে যোগাযোগ করার একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি। এমনকি স্ত্রী, প্রেমিক, প্রেমিকার বা কাছের কাউকে মুখ খুলে বলতে না পারা কথাগুলোও সযত্নে সাজিয়ে লেখা হতো চিঠিতে।
মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ফেজবুক, মেসেঞ্জার, whatsapp, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রাম যুগের আগে চিঠি ছিল যোগাযোগের সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম। টেলিফোন আবিষ্কৃত হলেও তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ মানুষ যোগাযোগের জন্য চিঠির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
এখন আর সেই দিন নেই। নানা তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে দিন বদলের ন্যায় পাল্টে গেছে সবকিছু। এখন এক নিমিশে খবরা খবর পৌঁছে যাচ্ছে ঘর থেকে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে। প্রতি সেকেন্ডে আলাপ চলছে অত্যাধুনিক মোবাইলে।
কলেজ ছাত্র অর্ক বলেন, ‘জীবনে কোন দিন ঠিঠি লিখি নাই। কারো সাথে কথা বলতে হলে, ফোন ব্যবহার করি। সেই জন্য ডাকবাক্সর সাথে পরিচিত নই।’
ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘চিঠিই ছিল প্রাচীন বা আগের দিনের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। নানা ধরনের কথোপকথন হতো এই চিঠির মাধ্যমে। আর চিঠিপত্র আদান-প্রদানের সব ব্যবস্থায় ছিল পোস্ট অফিসনির্ভর। তা ছাড়া ভাই বোনকে, মা ছেলেকে, বাবা ছেলেকে, ছেলে বাবা-মাকে নিজের অবস্থান জানাতে চিঠি লিখতেন। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে তা আজ হারিয়ে যাচ্ছে।
কেকে/বি