দেশকে অস্থিতিশীল করতে দীর্ঘদিন ধরেই পাঁয়তারা চালাচ্ছে পতিত আওয়ামী লীগ। চলতি নভেম্বর মাসে কথিত কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দলটি। আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকা লকডাউনের ডাক দিয়েছে দলটি। আর এ কর্মসূচিকে ঘিরে গোপনে ঢাকায় নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের জড়ো করছে ফ্যাসিস্ট শক্তিটি। এদিকে আজ রাজধানীতে জনসভার ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ৮ দল। এ উপলক্ষে সারা দেশ থেকে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হচ্ছেন রাজধানীতে। এতে রাজধানীতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীকেন্দ্রিক নাশকতার পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি তারা ‘ঢাকা লকডাউনের’ ডাক দিয়েছে। এ কর্মসূচিকে সামনে রেখে সামাজিক মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ফ্যাসিস্টের দোসররা। এতে করে ১৩ নভেম্বর ঘিরে জনমনে এক ধরনের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, এ কর্মসূচি ঘিরে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। কিন্তু এরই মধ্যে রাজধানী বেশ কয়েকটি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর শাহজাহানপুরে দুই বাসে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ঢাকার একাধিক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের চেষ্টা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা। এখন তারা তাদের কথিত ঢাকা লকডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে নানা উপায়ে সারা দেশ থেকে কর্মী-সমর্থকদের ঢাকা জড়ো করবে।
এর মধ্যেই আইনি ভিত্তির মাধ্যমে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের আলোকে অবিলম্বে জরুরি আদেশ জারি এবং জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবিকে আজ বেলা ২টায় জনসভার ডাক দিয়েছে জামায়াত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের এ কর্মসূচি আওয়ামী লীগের জন্য শাপে বর হয়েছে। তারা এখন জামায়াত কর্মীর ছদ্মবেশে রাজধানীতে জড়ো হবে। ফলে নাশকতার উদ্দেশ্যে ঢাকায় প্রবেশ করা আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের চিহ্নিত করাটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, এ মুহূর্তে পতিত আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে সরকারকে যেমন সক্রিয় হতে হবে, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোকেও ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু জামায়াতের কর্মসূচি আওয়ামী লীগকে সুবিধা করে দেবে।
সূত্র বলছে, এরই মধ্যে নানা ছদ্মবেশে রাজধানীতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাজধানীতে অবস্থান করছেন। তারা দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। জামায়াতের সমাবেশ ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ সমাবেশের জমায়েতের অংশ হিসেবে সারা দেশের আওয়ামী, যুব-ছাত্রলীগ ঢাকায় আসছে। এরাই ১৩ তারিখ নাশকতা করবে ঢাকায়। শুধু ১৩ তারিখ না, সম্ভবত নির্বাচনের আগ পর্যন্ত চলবে এই নাশকতা।
এদিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম-নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ও সহযোগী সংগঠনের ৩৪ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক খুদে বার্তায় বলা হয়, রাজধানীতে ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অংশগ্রহণকারী কার্যক্রম-নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরো ৩৪ নেতা-কর্মী গ্রেফতার করেছে ডিবি।
এর আগে ঢাকার আকাশে এক লাখ বেলুন ওড়ানোর পরিকল্পনা করার অভিযোগে গত রোববার আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ২৫ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
কেকে/এআর