সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫,
২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
শিরোনাম: খালেদা জিয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসছে মঙ্গলবার      এনসিপিকে বয়কট করে বিএনপিতে যোগ দিতে চান হাত হারানো সেই আতিক      নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে ইসি প্রস্তুত, প্রধান উপদেষ্টাকে সিইসি      কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়েছে : কৃষি উপদেষ্টা      নতুনদের জন্য সুখবর, এক সপ্তাহে পাবেন মনিটাইজেশন যেভাবে      যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির লাগাম টানতে হবে : তারেক রহমান      জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ আটক      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সরকারের প্রশ্রয়ে বাড়ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৪ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়েই চলেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উপদ্রব। যত্রতত্র তৈরি হচ্ছে এসব রিকশা। চীন ও ভারত থেকে অবাধে আমদানি হচ্ছে এই যান তৈরির যন্ত্রাংশ এবং স্থানীয়ভাবে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার অটোরিকশা। যেগুলো যাত্রী পরিবহনের জন্য নিরাপদ নয়, অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা।

গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এ অটোরিকশার সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ৯০ শতাংশই চলাচল করছে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। চালকদের অধিকাংশই নতুন ও অনভিজ্ঞ। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নতুনদের বড় একটি অংশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মী। গত বছরের ৫ আগস্টের পর নিজেদের আত্মগোপন থাকার কৌশল হিসেবে এই পেশা বেছে নিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের ঘোষিত নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে আড়ালে থেকে তারা কাজ করে যাচ্ছে। সুযোগ বুঝে দেশেকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকার বিভিন্নস্থানে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। যেসব অপরাধের সঙ্গে এসব অটোরিকশা চালকদের কয়েকটি চক্র জড়িত বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে- অটোরিকশার এমন দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো আন্তরিক উদ্যোগ নেই। এর যন্ত্রাংশ আমদানি ও বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্য এসব তৈরি হলেও নিচ্ছে না কার্যকর কোনো ব্যবস্থা। 

অটোচালক সেজে পতিত আওয়ামী লীগের আত্মগোপন প্রসঙ্গে বিশ্লেষকরা বলছেন- যেভাবে অটোরিকশায় ভর করে রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিস্তার ঘটছে, এটি খুবই উদ্বেগের বিষয়। সংখ্যাটা যদি এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে যে কোনো সময় কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। 

সরজমিনে ঢাকার বসিলার একটি দোকানে দেখা যায়- তৈরি করা অনেক নতুন নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। বাইরে থেকে দেখলে এটাকে শুধু বিক্রয় কেন্দ্র মনে হবে। কিন্তু ভেতরে গেলে দেখা মেলে এক ভিন্ন চিত্র- ওয়ার্কশপের মতো ব্যস্ত পরিবেশ। অংশে শ্রমিকরা ঝালাই করছেন লোহার কাঠামো, লাগাচ্ছেন চাকা, ব্যাটারি আর মোটর। এখানেই এক একটি নতুন রিকশা তৈরি হয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তুত হয়। দোকানের মালিক জানান, এসব রিকশার যন্ত্রাংশ তারা আনেন খোলা বাজার থেকে। এরমধ্যে মোটর, ব্রেক সিস্টেম, হর্ন, ব্যাটারি সবই চাইনিজ পার্টস। এগুলো সবই আমদানি হয়। তারা শুধু ফিটিং করে পুরো রিকশাটা তৈরি করে বিক্রি করছে। 

তবে এমন ওয়ার্কশপ এখন শুধু বসিলায় নয়। ঢাকার মোহাম্মদপুর, পুরান ঢাকা, কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, মুগদা, মান্ডা, মিরপুর থেকে শুরু করে উত্তরার অলিগলিতেও প্রকাশ্য তৈরি হচ্ছে এসব রিকশা। রাস্তার পাশে ছোট দোকান, বাসার গ্যারেজ, এমনকি ঘরের বারান্দায়ও চলছে অটোরিকশা তৈরির কাজ। প্রতিদিন এসব ওয়ার্কশপ থেকে তৈরি হচ্ছে শত শত ব্যাটারিচালিত রিকশা।

সূত্রমতে- ব্যাটারিচালিত রিকশা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে আমদানি হয় না। দেশীয় কারিগররাই হাতে বানাচ্ছেন এগুলো। বছর দুই আগেও যেখানে অটো ছিল বিরল, এখন সেটিই রিকশাচালকদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে। কারণ- চালাতে পরিশ্রম কম, আয়ে বাড়তি সুবিধা। ফলে অনেকেই পুরোনো পেশা ছেড়ে অটোরিকশা চালাতে নামছেন, আর চাহিদা বাড়ায় একের পর এক নতুন ওয়ার্কশপ গড়ে উঠছে। কেউ বানাচ্ছেন চিকন চাকার অটো, কেউ লোহার কাঠামোয় দিচ্ছেন বেতের ছাউনি। কোথাও পুরোনো রিকশায় মোটর লাগিয়ে ‘অটো’ বানানো হচ্ছে, কোথাও আবার পুরো কাঠামোই নতুন। ঢাকার বাইরের জেলা থেকেও অটোরিকশা ঢুকছে বিপুল হারে। 

যদিও এই অবাধ বিস্তারের ফলে উদ্বেগও বাড়ছে। কারণ, কোনো মানদণ্ড বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তৈরি হচ্ছে এসব যান, আর দুর্বল নিয়ন্ত্রণে এগুলোর গতি ও চলাচলও হয়ে পড়েছে বেপরোয়া। সরকারের পক্ষ থেকে গত এক বছরে অন্তত দুবার অটোরিকশা বন্ধের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবারই চালকদের প্রতিবাদে উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। অটোরিকশার চালক রহমান বলেন, ঋণ করে অটো কিনেছি, হঠাৎ সরকার বন্ধ করলে আমরা খাব কী? আগে তো মোটর আমদানি বন্ধ করুক, ওয়ার্কশপে অভিযান চালাক।

সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত অটোরিকশা নিষিদ্ধ হচ্ছে না, তবে নিয়ন্ত্রণের পথ খোঁজা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, অসংখ্য মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। তাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়, বরং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এগুলোর জন্য আলাদা ক্যাটাগরি তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আংশিক নিয়ন্ত্রণে সমাধান সম্ভব নয়। বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, যদি অটোরিকশা রাখতেই হয়, তাহলে পায়ে চালিত রিকশা তুলে দিতে হবে। একটা শহরে কতসংখ্যক অটোরিকশা চলবে, তার নির্দেশনা থাকতে হবে। কাঠামো, ব্যাটারি, গতি- সব কিছুর মান নির্ধারণ জরুরি। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ১৫ কিলোমিটারের বেশি হওয়া চলবে না। তিনি আরো মনে করেন, ওয়ার্কশপগুলোতেও নজরদারি বাড়াতে হবে। নীতিমালা ছাড়া কোনো নিয়ন্ত্রণই টেকসই হবে না।

কেকে/এআর
মতামত লিখুন:

সর্বশেষ সংবাদ

চলতি সপ্তাহেই তফসিল
খালেদা জিয়াকে বিদেশে না নেওয়ার ভাবনা
ফের ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি
খালেদা জিয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসছে মঙ্গলবার
চট্টগ্রামে ৭ বছরের শিশুর নামে অপহরণ মামলা, তিন দিনেও মেলেনি মুক্তি

সর্বাধিক পঠিত

শ্রীমঙ্গলে জলমহাল ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভা
রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে সহযোগিতা
বোয়ালমারীতে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন
একটি পক্ষ এখন ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর স্বপ্ন দেখছে : আতাউর রহমান
এনসিপিকে বয়কট করে বিএনপিতে যোগ দিতে চান হাত হারানো সেই আতিক
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close