আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনের হওয়া বইতে শুরু করেছে। এরইমধ্যে বিএনপি ২৩৭ আসনে তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। জামায়াতে ইসলামীও বেশিরভাগ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনয়নপত্র বিক্রি করছে। সরকারও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারপরও নির্বাচন নিয়ে সংশয় কাটছে না। বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে গণভোট প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিশেষ করে গণভোট প্রশ্নে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি চায় গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হোক। অন্যদিকে জামায়াতের দাবি আগে গণভোট তারপরে নির্বাচন। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে। এরই মধ্যে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, নির্বাচন নিয়ে সরকার ও দলগুলোর মধ্যে ভেতরে ভেতরে আলোচনা চলছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনের আগে দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতা হয়ে যেতে পারে। প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রে অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির প্রার্থী না রাখা সেই ইঙ্গিতই দেয়। এ ছাড়া ঢাকা-১০ আসনে আসিফ মাহমুদের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও সেই সমঝোতার বিষয়টিকেই শক্তিশালী করে।
সূত্র বলছে, দলগুলো একে অপরের ওপর বিভিন্ন ইস্যুতে চাপ সৃষ্টি করছে। যেমন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট ও সংস্কার ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীসহ একাধিক ধর্মভিত্তিক দল। এটা আসলে আসন সমঝোতার কৌশল। কারণ নির্বচন হলে এখনই সরকার গঠনের অবস্থায় নেই জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে বৃহত্তর ইসলামী ঐক্যের কোনো চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা যায়নি। কিন্তু জামায়াত বিরোধী দলে যেতেও আগ্রহী নয়। তাই আসন সমঝোতায় একটি জাতীয় সরকারের দিকেই যেতে চায় তারা।
অন্যদিকে এনসিপিও উল্লেখযোগ্য আসন পাবে, মাঠের বাস্তবতা সেরকম নয়। বরং এককভাবে ভোট করলে দলটি অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে। তাই তারাও বড় দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে সংসদে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে চায়। জানা গেছে, দলটি অন্তত ২০ আসনের নিশ্চয়তা চায়।
বিএনপির এক নেতা জানান, বিএনপি এককভাবে নির্বাচনে প্রস্তুত। কিছু আসন জোট ও সমমনাদের ছেড়ে দেবে তারা। তবে কোনো সমঝোতার নির্বাচন বিএনপি মেনে নেবে না। তবে এই নেতা স্বীকার করেন, নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। নানামুখী হিসাব-নিকাশ চলছে রাজনীতিতে। বিএনপিও অবস্থা বুঝে তার কৌশল নির্ধারণ করবে।
এদিকে সম্প্রতি জুলাই শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বিএনপিতে যোগদান করে। গুঞ্জন রয়েছে, তিনি ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি হয়ে নির্বাচন করতে পারে। অবশ্য বগুড়া-২ আসনেও তার নির্বচানের কথা শোনা যাচ্ছে। দুই আসনেই জনসংযোগ করেছেন স্নিগ্ধ। বিএনপিতে স্নিগ্ধ যোগদান ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টিকে আসন সমঝোতার কৌশল মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন বানচালে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। পতিত শক্তিও নির্বাচন বানচালে মরিয়া। এরই মধ্যে তারা নভেম্বর মাসকেন্দ্রিক কথিত কর্মসূচি দিয়েছে যা নির্বাচনি পরিবেশ বানচালেরই পাঁয়তারা। অন্যদিকে কিছু রাজনৈতিক দল গণভোটের দাবির অজুহাতে নির্বাচন পেছানোর কথা বলছে। এ ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। সব মিলিয়ে নির্বাচন কিছুটা ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের মধ্য দিয়েই কেবলমাত্র সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে মতভেদ ভুলে নির্বাচনের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে।
তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন হয়, তাহলে দেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ ব্যাহত হবে।
কেকে/এআর