ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে মো. জুয়েল শেখ নামে এক উদ্যোক্তার ৬০ শতাংশের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে ১০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের শ্রীপুরজিথর গ্রামে ঘটেছে। জুয়েল ওই গ্রামের প্রয়াত নজরুল শেখের ছেলে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে মৎস্য উদ্যোক্তা জুয়েল শেখ বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে গত শুক্রবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টায় জুয়েলের পুকুরে বিষ দেওয়া হয়।
অভিযোগে উল্লিখিত আসামিরা হলেন- শ্রীপুরজিথর গ্রামের প্রয়াত কদ্দুস শেখের ছেলে রতন শেখ, মো. খলিল শেখ, মো. মানিক শেখ, রতনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন ও দুই ছেলে রাকিব শেখ ও শাকিব শেখ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুকুরে বিষ প্রয়োগের ফলে রুই, কাতলা, সিলভার কার্প, শরপুটি ও শিংসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এমন ক্ষতিতে ভেঙ্গে পড়েছেন উদ্যোক্তা জুয়েল শেখ। জুয়েল শেখ বলেন, “প্রতিপক্ষের রতন শেখ ও তার সহযোগীরা পুকুরে পানি বিষ বা কিটনাশক জাতীয় কোনো পদার্থ মিশিয়ে আমার সর্বনাশ করেছে। এতে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী আমার ১০ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে কোনো পুরুষকে পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করেও নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। মানিক শেখের স্ত্রী মাসিদা বেগম বলেন, “রতন শেখের মনিহারী দোকান থেকে বাজার ক্রয় নিয়ে জুয়েলদের সাথে দোকানের সামনেই ঝগড়া হয়।” এছাড়া আর কিছু বলতে পারেননি তিনি।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, “যদি কেউ মানুষের সাথে শত্রুতা করে বিষ দিয়ে মাছ নিধন করে থাকে এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিকে রবিবার অফিসে আসতে বলা হয়েছে। তিনি আসলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হবে।”
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কেকে/ আরআই