জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিপাত ও ঝড়ে চলতি মৌসুমের আমন ধান ও শীতকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠের পাকা ও আধপাকা ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে ও গাছের ডগা ফেটে গেছে। অনেক ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে, ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলায় বৃষ্টির কারণে পাকা ও আধাপাকা ধানগাছ নুয়ে পড়েছে। ফলে ফলন ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি আগাম আলু ও শীতকালীন সবজির বহু ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা নালা কেটে জমি থেকে পানি বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কালাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।২০২৫-২৬ চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির বীজ বপন করা হয়েছে। আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, শাকসহ শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়েছে।
কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হাতিয়র গ্রামের কৃষক কাজী মফিদুল ইসলাম বলেন, দুই দিন আগে ৭ বিঘা জমির ধান কেটে শুকানোর জন্য মাঠে রেখেছি। কিন্তু, অসময়ের বৃষ্টিতে আমন খেতে কর্তনকৃত ধান এখন পানিতে ভিজে নষ্ট হতে বসেছে।’
কৃষক জুয়েল বলেন, ‘কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে আমার দুই বিঘা জমির পাকা ধান নুয়ে পড়েছে। এতে যে পরিমাণ উৎপাদন আশা করেছিলাম, সেটি হবে না।’
‘বৃষ্টির কারণে ধান নুয়ে পড়েছে। এভাবে আধাপাকা ধান নুয়ে পড়ে থাকলে ফলন ভালো হবে না।’
শাহাজাহান আলী বলেন, ‘কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির কারণে শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমি প্রতি বছর শীতকালীন সবজি চাষ করে থাকি। তবে, এবার সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার কারণে ক্ষতির আশঙ্কা করছি।’
কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাত ও ঝড় হাওয়ার কারণে উপজেলার কিছু এলাকায় ধান ও শীতকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা কৃষকদের দ্রুত পানি নিষ্কাশন, নুয়ে পড়া ধানগাছ বাঁধা ও অতিরিক্ত পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।’
কেকে/ এমএ