ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪ | ২ শ্রাবণ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

কুবির ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কুবি প্রতিনিধি
🕐 ২:০১ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০২৪

কুবির ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা সমাধান কিংবা দাবিদাওয়া পূরণের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে ছাত্রপরামর্শক ও নির্দেশনা কার্যালয়। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কার্যালয়ের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহা. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধেই এবার অভিনব কায়দায় শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের পারিশ্রমিক বাবদ প্রায় ৪২ হাজার টাকা নিজেই ভোগ করে তিনি বলেন এই অর্থ শিক্ষার্থীদের নয়। তবে ফার্মের এমডি বলছেন প্রজেক্টের খরচ ও শিক্ষার্থীদের পারিশ্রমিকসহ ৭০০০০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জব ফেয়ার অথবা নবীন বরণ আয়োজনে স্পন্সর করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে প্রীতি রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেডের মৌখিকভাবে একটি চুক্তি হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে ছাত্রপরামর্শক ও নির্দেশনা কার্যালয়ের প্রধান ভিসি কর্তৃক নিযুক্ত হন। চুক্তি অনুযায়ী ফার্মের একটি প্রজেক্টের (কোমলপানীয় নিয়ে বাজার গবেষণা) জন্য শিক্ষার্থীদের দ্বারা ৫০০ স্যাম্পল সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা বলা হয়। যার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের পারিশ্রমিকসহ প্রায় একলক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেন ফার্মের এমডি। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিমান্ড ছিল দেড় লক্ষ টাকা।

এরপর ২০২৩ সালের ৭ জুন একটি কর্মশালার মাধ্যমে প্রজেক্টের কাজ শুরু হয় যা ১৯ জুনের মধ্যে শেষ হয়। এতে ৪ জন তথ্যদাতা সংগ্রাহকের পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে ৮ জন শিক্ষার্থী কাজ করেন। যারা হলেন, তন্ময় সরকার, আমিন, জয়, সোমা, মৌ, সুরুপা, মাওয়া, মুনমুন। এছাড়াও প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেন আহনাফ শাহরিয়ার রিকি।

এদিকে প্রজেক্ট বাস্তবায়নের পর এক লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও কনসালটেন্সির এমডি নাঈমুর রহমান শিক্ষার্থীদের পারিশ্রমিকসহ ৭০ হাজার টাকার বেশি দিতে পারবেন না বলে জানান। এই বিষয়ে তিনি বলেন, প্রজেক্টটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের সম্মানে অতিরিক্ত ২০-৩০ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু ছাত্রপরামর্শক ও প্রজেক্ট বাস্তবায়নকারীদের অসহযোগিতায় আমাদের অনেক স্যাম্পল বাদ পড়ে যায়। তাই আমরা অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।

তবে প্রজেক্ট বাস্তবায়নে অসহযোগিতার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানান। তাদের ভাষ্য, প্রজেক্ট চলাকালীন ফার্মের প্রতিনিধি হিসেবে সার্বক্ষণিক একজন নিয়োজিত ছিল। যিনি সেসময় শিক্ষার্থীদের কিছু জানাননি।

কনসালটেন্সি ফার্ম ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর ছাত্রপরামর্শক ও নির্দেশনা কার্যালয়ের অ্যাকাউন্টে ৭০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। যেখান থেকে শিক্ষার্থীদের পারিশ্রমিক বাবদ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরের ৫ হাজার টাকা পাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু অর্থপ্রাপ্তির প্রায় এক বছর পার হয়ে গেলেও ছাত্র উপদেষ্টা ড. হাবিবুর রহমান শিক্ষার্থীদের অর্থ পরিশোধ করেননি। এমনকি কোন জব ফেয়ার কিংবা নবীন বরনেরও আয়োজন করা হয়নি।

এবিষয়ে কো-অর্ডিনেটর আহনাফ শাহরিয়ার রিকি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জব ফেয়ার আয়োজনের জন্য স্পন্সর হিসেবে প্রজেক্টটি ক্যাম্পাসে আনার ব্যবস্থা করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আমরা কম টাকায় প্রজেক্টটি করে দেই। যেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লাভবান হওয়ার পাশাপাশি জুনিয়রদেরও যেন গবেষণায় হাতেখড়ি হয় সেটিও আমলে নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ছাত্র পরামর্শক দপ্তরের অসহযোগিতার কারণে আমাদের বেগ পোহাতে হয়। এতকিছুর পর কোম্পানি আমাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিলেও স্যার তা গোপন করেন। যা অর্থ আত্মসাতের শামিল। অনেক সময় পার হলেও আমরা চাই, আমাদের প্রাপ্য দ্রুত বুঝিয়ে দেয়া হোক। নয়তো আমরা আইনি ব্যবস্থায় বিষয়টি নিয়ে আগাবো।

তথ্য সংগ্রহকারী তন্ময় সরকার বলেন, আমরা এই বিষয়ে স্যারের সাথে পাঁচবারের বেশি দেখা করি। শুরুর দিকে স্যার বলতেন, কনসালটেন্সি ফার্ম ওনার কাছে টাকা দিলে আমাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিবেন। কিন্তু ওই প্রজেক্টের প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও স্যার আমাদের অর্থপ্রাপ্তির বিষয়ে কিছু জানাননি। ৪-৫ মাস আগেও আমরা স্যারের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি আমাদের সময় নেই বলে এড়িয়ে যান।

তবে এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, আমার সাথে কেউ দেখা করেনি এই বিষয়ে। একজন এসেছিল তাকে বলেছি, তোমরা প্রজেক্ট ফেল করেছো।

এদিকে ফার্মের এমডি অর্থ প্রেরণের বিষয়ে বলেন, আমরা যখন টাকা দিতে চাই ওই শিক্ষক প্রথমে হ্যান্ড ক্যাশ নিতে চান কিন্তু আমরা ডকুমেন্ট ছাড়া দিবোনা বলে জানাই। পরবর্তীতে তিনি বলেন, ওনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দিতে আমরা তাতেও আপত্তি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে দেওয়ার কথা বলি। তারপর উনি ছাত্রপরিচালনা দপ্তরের নামে জনতা ব্যাংকের একটি নম্বর দিলে আমরা স্টুডেন্টদের পারিশ্রমিকসহ ৭০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেই।

তবে অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি ছাত্র উপদেষ্টা ড. মোহা. হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করলেও প্রাপ্ত অর্থ শিক্ষার্থীদের নয় বলে জানান। তিনি বলেন, ফার্ম কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা প্রজেক্টে ফেল করেছে। তারা কাজ ঠিকভাবে করে নি। তাই তাঁরা শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে টাকা দিয়েছে।

তবে ফার্মের এমডি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কাজ করেছে শিক্ষার্থীরা। আমি কেন বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু শুধু টাকা দিবো। যেহেতু ছাত্রপরামর্শক এর সাথে যুক্ত তাই ওনাকেই পুরো টাকাটা দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাৎ করাটা অগ্রহণযোগ্য। যদি এধরনের কিছু হয়ে থাকে ওই শিক্ষককে বিচারের আওতায় আনা উচিত।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি আমি মাত্রই শুনলাম। অভিযুক্ত শিক্ষকের সাথে আমি কথা বলবো। যদি বিষয়টি সত্যি হয় তাহলে দ্রুত এর সমাধান করে নিতে বলবো।

জেএস/খোলা কাগজ

 
Electronic Paper