ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪ | ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

সবুজ বিপ্লব ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী পুরষ্কার পেলো কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন

বান্দরবান প্রতিনিধি
🕐 ৬:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ০৫, ২০২৪

সবুজ বিপ্লব ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী পুরষ্কার পেলো কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন

৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করে বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার-২০২৩ পেয়েছে বান্দরবানের লামার কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।

 

ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের এগ্রো রিসোর্সের কো-অর্ডিনেটর রাবিয়া নাজরীন। এদিন সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৪ এর উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ও বৃক্ষরোপণে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০২৩ প্রদান করা হয়।

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে রয়েছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বিস্তৃত কোয়ান্টামম। যা এখন প্রকৃতি ও জীববৈচির্ত্য সংরক্ষণের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। কোয়ান্টাম পরিবারের সদস্যদের সঙ্ঘবদ্ধ দান, আন্তরিক শ্রম ও সহযোগিতায় ২৬ বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে উঠেছে এই জনপদ। বাংলাদেশের অন্যতম স্বাস্থ্যকর ও প্রকৃতিবান্ধব এই জনপদটি এখন প্রায় হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ, ৩০০ প্রজাতির পাখি ও ২০০ প্রজাতির প্রজাপতির নিরাপদ আবাসস্থল।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে অল্প কিছু জমি সংগ্রহ করে শুরু হয়েছিল এ জনপদ নির্মাণের কাজ। সে-সময় পুরো জায়গাটা ছিল আগাছায় পূর্ণ, আর পোড়া পাহাড়। শতবর্ষী সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। বর্ষার শেষে আগাছা নির্মূলের জন্যে পাহাড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হতো। জায়গাটি এত অনুর্বর আর অস্বাস্থ্যকর ছিল যে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় জায়গাটিকে বলা হতো ক্যাষ্টা,যার অর্থ নিকৃষ্ট জায়গা। মশা আর ম্যালেরিয়া ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। তাই শুরুর দিকে গাছ লাগানো ও চারাগুলোকে বাঁচানোই ছিল অনেক বড় এক চ্যালেঞ্জ।

তবে এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও হাল ছেড়ে দেননি কোয়ান্টামের কর্মীরা। বর্ষাকালে সারাদেশ থেকে গাছের চারা সংগ্রহের পর তা রোপণ করা হয়। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে পরবর্তীতে স্থানীয় পদ্ধতিতে চলে গাছের পরিচর্যার কাজ। এই পদ্ধতিতে েপ্রতিটি গাছের গোড়ায় মাটির কলসি দিয়ে দেয়া হয়,ফলে কলসিতে ছিদ্র করে কাপড়ের সলতে দিয়ে সারাদিন ধরে চারা গাছে পানি দেয়া হতো। ক্রমাগত বনায়ন ও যত্নায়নের ফলে রূক্ষ, ঊষর লামার কোয়ান্টাম ধীরে ধীরে পরিণত হয়ে উঠতে শুরু করে শীতল আর সবুজে সুশোভিত হয়ে।

পরবর্তী কয়েক বছরে প্রকৃতিকে আরো সমৃদ্ধ করতে নেওয়া হয় ব্যাপক সবুজায়ন কার্যক্রম। সারাদেশের স্বেচ্ছাকর্মীদের সহযোগিতায় প্রতিবছর বর্ষায় লক্ষাধিক ফলদ, বনজ, ভেষজ ও ফুলের চারা রোপণ করা হয়। বর্তমানে কোয়ান্টামে প্রায় এক হাজার প্রজাতির দেশি-বিদেশি, বিরল ও বিলুপ্ত প্রায় উদ্ভিদ রয়েছে। বৈলাম, কুম্ভি, কুরচি, হাড়গোজা, চালমুগরা, ধারমারা, নাগলিঙ্গম, রঙ্গন, কুসুম, মিলেশিয়া, নাইচিচি উদাল, তমাল, হিজল, পাদাউক, কেলিকদম, বান্দরহুলা, সিভিট, কামদেব, চুন্দুল, বাঁশপাতা, লোহাকাঠ, মুসকন্দ, ঢুলিচাঁপা, বরুণ, উদয় পদ্ম, হিমঝুড়ি-সহ বিভিন্ন দেশি বিরল বৃক্ষের পাশাপাশি বাওবাব, কাইজেলিয়া আফ্রিকানা, রাজঅশোক, নেপোলিয়ান হ্যাট, মাদাগাস্কার জেসমিন, সোলান্ড্রা, এজেলিয়া, মেক্সিকান ফ্লেইম ভাইন, বহুনিয়া গ্যালপিনি, ফিডেল উড-ট্রিসহ বিভিন্ন বিদেশি উদ্ভিদ প্রজাতির ফুলের গাছ রোপিত হয়েছে কোয়ান্টামে।

উদ্ভিদ ও জীববৈচির্ত্য সংরক্ষণের জন্যে একদল তরুণ প্রকৃতিপ্রেমী কর্মী রয়েছে এখানে। তারা দেশের বিভিন্ন পার্ক, উদ্যান ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বিরল প্রজাতির গাছের বীজ ও চারা সংগ্রহ করে থাকেন। নিজস্ব নার্সারিতে চারা উৎপাদন করে ঢাকার রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরার রাজউক কলেজ, নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ, কুমিল্লার হামদার্দ ইউনির্ভাসিটি, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে বিরল প্রজাতির চারা সরবরাহ করছে কোয়ান্টাম।

পাহাড়ি প্রকৃতিকে ঠিক রেখে কোয়ান্টামের প্রতিটি স্থাপনা গড়ে উঠেছে আলাদা নির্মাণশৈলীতে। টিলার ধাপে ধাপে নির্মাণ করা করা হয়েছে এখানকার ভবনগুলো। এমনকি কোনো স্থানে গাছকে আবর্তিত করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব আগ্রহ ও উদ্যোগে ক্যা¤পাসে ক্যা¤পাসে গড়ে উঠেছে ফুলের বাগান। যেগুলোর পরিচর্যা শিক্ষার্থীরা নিজেরাই করে থাকে। গড়ে উঠেছে হার্বেরিয়াম ও সীড ব্যাংক।

বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ সংরক্ষণের পাশাপাশি জীববৈচির্ত্যও সমভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে এখানে। পাখির খাবার উপযোগী ফলের গাছ যেমন বট, পাকুর, ঝিড়বট, চ¤পা, ডুমুরসহ অসংখ্য গাছ রোপণ করা হয়েছে পুরো কোয়ান্টামজুড়ে। প্রজাপতির জন্যে রোপণ করা রয়েছে অনেক হোস্ট প্লান্ট। ফলে আশেপাশের যে-কোনো এলাকার চেয়ে হরেক রকম পাখি ও প্রজাপতিরা এখানে খুঁজে পেয়েছে তাদের নিরাপদ আশ্রয়।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Electronic Paper