ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪ | ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

নিপার দাদি

তাসনিম সিদ্দিকী আসমি
🕐 ১:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০২১

নিপার দাদি

ছোট্ট মেয়ে নিপা। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী। পড়ার সময় পড়ে এবং খেলার সময় খেলে। নিপা বাবা মায়ের সঙ্গে শহরে থাকে। গ্রামের বাড়ি তেমন যাওয়া হয় না। গ্রামে নিপার দাদা দাদি থাকেন। দাদা দাদি নিপাকে খুব ভালো ভালোবাসেন। সেও দাদা দাদিকে অনেক ভালোবাসে।

 

হঠাৎ একদিন খবর এলো, নিপার দাদি অনেক অসুস্থ। খবর পেয়ে নিপা ওর বাবা মায়ের সঙ্গে গ্রামে চলে যায়। দাদিকে বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখে কান্না শুরু করে। নিপার মাথায় হাত বুলিয়ে দাদি বললেন, কেন কাঁদছ দাদুভাই। আমি শিগগিরই সুস্থ হয়ে যাব। তোমাকে মজার মজার গল্প শোনাব। রাতে ঘুম পাড়িয়ে দেব। ইত্যাদি ইত্যাদি। নিপা দাদির কথা শুনে কান্না বন্ধ করে বলল, সত্যি দাদি!

দাদি বললেন, জি দাদুভাই। দাদির অবস্থা দেখে নিপার বারবার মনে হচ্ছিল, দাদি আর বাঁচবেন না। তাই সে বাবাকে বলল, শিগগিরই দাদিকে হাসপাতালে নিয়ে যাও।

নিপার কথা শুনে আর একমুহূর্তও দেরি করলেন না ওর বাবা। হাসপাতালে নিয়ে গেলেন নিপার দাদিকে। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই ডাক্তার দেখে বললেন, তিনি আর বেঁচে নেই। ডাক্তারের কথা শোনা মাত্র কান্না শুরু করে নিপা। বারবার দাদির শেষ কথা মনে হচ্ছিল ওর। কেঁদে কেঁদে বলতে লাগল, আমাকে গল্প শোনাবে না? রাতে ঘুম পাড়িয়ে দেবে না, দাদি? বল না, দাদি! ও দাদি, চুপ করে রইলে কেন?

নিপার কান্না দেখে কেউ আর স্থির থাকতে পারলেন না। সবাই অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। দাদির প্রতি গভীর ভালোবাসা দেখে ডাক্তার নিপার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, তোমার দাদি মরেনি। দেখো, প্রতি রাতে তোমাকে মজার মজার গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেবেন। নিপার তখনো দু’চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল।

চতুর্থ শ্রেণি, মেরিট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ।

 
Electronic Paper