ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪ | ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ছোটদের কাছেও শিখতে পারি

মালেক মাহমুদ
🕐 ৩:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০২১

ছোটদের কাছেও শিখতে পারি

শেখার কোনো বয়স নেই। নেই ছোট-বড় ভেদাভেদ। ছোটদের কাছ থেকেও জ্ঞান সংগ্রহ করা যেতে পারে, যা আমি জানি না, তা জেনে নেওয়া যেতে পারে।

যা জানি না, তা জেনে নেওয়াই উত্তম।

যা জানলে অধঃপতন হওয়ার আশঙ্কা থাকে তা না জানাই ভালো। তবুও জানার বিকল্প নেই। জানতে চায়। বুঝতে চায় বাবলু।
বাড়ি থেকে বের হলো বাবলু। পড়ন্ত বিকেলের রোদ ঝিলমিল করছে। সবুজের সমাহারে হাঁটতে থাকে মেঠোপথ ধরে। অদূরে দাঁড়িয়ে আছে তালগাছ। বাবলু তাকিয়ে দ্যাখে তালগাছ। তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তালগাছের পাতার সঙ্গে বাতাসে দোল খাচ্ছে বাবুই পাখির বাসা। বাসার দিকে তাকিয়ে ছোট্ট পাখি বাবুইয়ের কথা মনে পড়ে যায় বাবলুর।

শুধু বাবুই-ই নয় আরও ছোট ছোট পাখির কথা মনে পড়ে- বাবুই, টুনটুনি, চড়ুই ও হ্যামিং বার্ড। এই চার ছোট্ট প্রজাতির পাখি। চারটি পাখির কথা মনে পড়েছে বাবলুর। ছোট পাখি আরও আছে। পাখি আর পাখি। পাখির কাছেও শেখার আছে। ওদের জীবনধারায় আছে বৈচিত্র্য।

ছোট্ট পাখির ভেতরে সবচেয়ে ছোট্ট পাখি হ্যামিং বার্ড। ছোট্ট এই চারটি পাখির বুদ্ধির ধরন আবার এক নয়। চলার গতিও এক নয়।
বাসা তৈরি করার ধরন এক নয়।
তবে, ওদের জীবনধারণের গতি সুন্দর।
ওরা কারও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় না।
জীবনধারণে নেয় না কারও সহযোগিতা। নিজের মতো করে জীবনধারণ করে ওরা।
ছোট্ট পাখি হলেও পরের উপর নির্ভর করে না।
নিজের মতো করে বাসা বোনে নিজে।
ওদের রুচিবোধ খুবই চমৎকার।
ওদের রুচিবোধের ভেতর শিক্ষার ছাপ দেখা মেলে।

বাবলুর মনে হতে লাগল- এই ছোট্ট পাখির কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু।
পাখি ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ উড়ে। এই দেখি এই নাই। এই পাখির নাম বাবুই। পাখিটি ছোট্ট হলে কী হবে, বেশ বুদ্ধিমান। এরকম বুদ্ধিমান, টুনটুনি, চড়ুই, হ্যামিং বার্ড। কিন্তু ওরা বাবুই পাখির মতো এত বুদ্ধিমান নয়। তবে ছোট্ট বলে ওদের হেলা করা যায় না। ওরাও বাসা বুনতে পারে। চড়ুই পাখিও বাসা বুনতে পারে কিন্তু পরের ঘরে।

টুনটুনি নিজে বাসা বুনতে পারে। পাতার বাসায় আনন্দ অনুভব করে টুনটুনি।
হ্যামিং বার্ড, চড়ুই পাখির মতো সারা দিন ডানা ঝাপটে ওড়াওড়িতে পারে। এই ওড়াওড়িতে তাদের মোটেও ক্লান্তি নেই। মজার ব্যাপার হলো, এই পাখি যখন ওড়ে তখন তার ডানার দ্রুত সঞ্চালন ঘটে, এর ফলে বাতাসে গুনগুন শব্দ হয়। গুনগুন করাকে ইংরেজিতে হ্যামিং বলে।

ওরাও মোলায়েম করে বাসা বানাতে পারে কিন্তু বাবুই পাখির মতো এত সুন্দর করে নয়।
আগেই বলেছি তাল গাছের ডালে বাসা করে বাবুই পাখি। খড়কুটোর বাসা। বাবুই পাখির বুনন ক্ষমতা দেখে মন ভরে যায়। এত ছোট্ট একটি পাখি। নিজের মেধা মনন দিয়ে কত সুন্দর বাসা তৈরি করে।

বাবলু দ্যাখে, বেশ মোলায়েম করে বাসা বানিয়েছে বাবুই। নিজের বাসস্থান বলে কথা। আরাম করে যাতে ঘুমাতে পারে। সেই জন্য নিজের মতো করে বানিয়েছে। রাতে আরামের ঘুম। একটি মাত্র বাসা চোখে পড়ে। বাবলু জানে একটি তাল গাছে অনেক বাবুই বাসা বানায়। কিন্তু এই তালগাছে একটি মাত্র বাসা। সকালের সূর্যের দেখা মিললেই বাসা ছাড়ে পাখি।

উড়ে যায় নদীর ধারে। জীবন বাঁচায়। আনন্দে সময় পার করে পাখি। সারাদিন খাবার খোঁজাখুঁজি করে। রাতে নিজের বাসায় আনন্দের ঘুম দেয়।

গাছটিতে পাখি একাই থাকে। যে পাখির সঙ্গে এই পাখির বন্ধুত্ব হয়েছিল সেই পাখিটি এই বাসায় আসেনি। তাতে পাখিটির মনে দুঃখ নেই। পাখি গান গাইতে জানে। সে গান করে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান।
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে...।

বাবলুর কাছে মনে হতে লাগল পাখি গান করছে। অদ্ভুত ব্যাপার! বাবুই গান করছে! সেই গান আবার বাবলু শুনছে। খুব মজা পেয়েছে বাবলু। বাবুই পাখির কাছে, এই এলাকা অনেকটা নির্ঝঞ্ঝাট এলাকা হিসেবে পরিচিত পেয়েছে।
রাতের ঘুম শরীরে শক্তির জোগান দেয়।
আজ রাতে ঘুমাতে পারেনি বাবুই।

কী করে ঘুমাবে?

পাশের বাসার পাখি দুটি ভীষণ ঝগড়াটে। ওরা সারারাত ঝগড়া করেছে। ওদের আওয়াজে কর্কশ ভাব আছে। রসকসহীন ঝগড়া। এই ঝগড়ার কারণে বাবুই ঘুমাতে পারেনি। বাবুই পাখি মনে রাগ নিয়ে, সকালবেলা উড়ে যায় পাখি দুটির কাছে।
বাবুই পাখিকে দেখে পাখি দুটি চুপচাপ হয়ে গেল। এত কর্কশ মেজাজের পাখি এত তাড়াতাড়ি চুপ হলো দেখে ভালো লাগে বাবুই পাখি।
তবুও বাবুই তাদের জিজ্ঞেস করে- রাতে আপনাদের কী হয়েছে, এত ঝগড়া করলেন যে?
কই? না তো।
আমি সারারাত আপনাদের ঝগড়া করার শব্দ পেলাম।
কী বলেন?
আপনাদের কথা শুনে মনে হচ্ছে যেন, আকাশ থেকে পড়েছেন! রাতের ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
বিব্রত ভাব নিয়ে চুপচাপ পাখি দুটি।
বাবুই বলে, এই ডালের খোপের ভেতর বসে আছেন, তা নিজে বাসা করতে পারোনি?
না, আমরা নিজে বাসা করতে পারি না।
ঝগড়া করতে পারেন তো?
কোনো কথা নেই পাখি দুটির।
তা, আপনাদের ঝগড়া হলো কী নিয়ে?
হঠাৎ মেয়ে পাখিটি বলে ফেলে- বাসা নিয়ে।

তাই বলো!
মেয়ে পাখি বলে, আমি আগে এসেছি এই খোপে, ও শক্তির জোরে আমাকে তাড়িয়ে দিতে চায়। তাই বাকবিতণ্ডায় রাত পার।
নিজে বাসা বুনতে পারো না, এই খোপটুকুর জন্য, কে আগে এসেছেন, এই নিয়ে রাত পার করে দিলেন? একজন বলছেন, আমি দেখে গিয়েছি। একজন বলছেন, আমি আগে এসেছি।
এই শান্তিময় এলাকায় অশান্তির বীজ বুনে দিলেন যে?
কী করব আমি তো দেখে গিয়েছি?
দেখলেই কী এই খোপ আপনার হবে?
না, হবে কেন?
আর আপনাকে বলছি, আগে দখল করেছেন বলেই কী আপনি এই খোপের মালিক?
না।

তা হলে আপনারাই বলেন, কেন সারারাত ঝগড়া করেছেন?
বাবুই পাখির কথা শুনে পাখি দুটি বোকা হয়ে গেল। বুঝতে পারল নিজের তৈরি করা ঘরই নিজের, পরের ঘর নিজের বলে দাবি করা শুধু ঝগড়াই বাড়ে।
পরদিন পাখি দুটি খড়কুটো সংগ্রহ করে নিজের মতো এবড়োথেবড়ো ঘর বানায়। জীবনের সঙ্গে লড়াই করে কাটায়। নিজের পায় নিজেই দাঁড়ায়।

 
Electronic Paper