মাছ চায় পাখির মতো উড়তে

ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১ | ৩ কার্তিক ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

মাছ চায় পাখির মতো উড়তে

গল্প

নূরনাহার নিপা
🕐 ২:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

মাছ চায় পাখির মতো উড়তে

পাখির খুব জ্বর। জ্বরের তাপে ধড়ফড় করছে। আকাশের দিকে তাকাল। সবকিছু ঝাপসা ঝাপসা লাগছে। টিপটিপ বৃষ্টি ঝরছে। হাওয়ার সঙ্গে দোলে পাখিটার বাসা। ভয়ে পাখি নড়েচড়ে বসে গাছের ডালে। হঠাৎ পাখির মনে রশ্ন জাগে। আমি কেন এই পৃথিবীতে এসেছি?

এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে তো আমাকে অন্য প্রাণীদের সঙ্গে মিশতে হবে। জানতে হবে সব।
সিংহ মামা বনের রাজা। আমি একটু সুস্থ হলে প্রথমেই তার সঙ্গে দেখা করতে হবে।
বিশাল জলরাশিতে ছোট, বড়, মাঝারি মাছ। টলমল জলেতে সাঁতার কাটে। এদিক-ওদিক যায়। দেখে এবার ইচ্ছে হলো মাছের মতো সাঁতার কাটতে। সবার কি আর ইচ্ছা পূরণ হয়? হতেও পারে।
রোজ একটা বাচ্চা মাছ পাখির সঙ্গে গল্প করতে আসে। মাছ পাখিকে বলে, তোমাকে শুকনো লাগছে কেন পাখি? পাখি বলল, আর বলো না, গত কয়দিন আমার অনেক জ্বর ছিল।
‘তাহলে আমাকে বলোনি কেন?’
‘বললে কী হত?’
‘আমি তোমাকে দেখতে আসতাম।’
পাখি খুব খুশি হয়ে বলল, ‘না জানিয়ে তাহলে ভুল করেছি!’ মাছ আর পাখি গল্প করছিল। এমন সময় বনের রাজা সিংহ পাখিকে খুঁজতে আসে। সিংহ বলে, ‘কইরে পাখি, তোর দেখা নাই ক্যান?’ মাছ ভয় পেয়ে গেল। এত বড় প্রাণী পাখির বন্ধু! সিংহ এবার বলল, আমাকে ভয় পেলে হবে না। আমিও তোমাদের আপন হতে চাই। বুঝলে মাছ, বড়দের সাথে মিশতে হবে। ঘুরে দেখতে হবে বিশাল এই আকাশ। কিন্তু কীভাবে। আমি তো পাখি না!
তারপর মাছটির চিন্তার ছেদ পড়েছে। সিংহ বলল, পাখি, মাছ কি তোমার নতুন বন্ধু?
পাখি বলল, ‘হ্যাঁ, সিংহ।’
মাছ সিংহকে বলল, ‘সিংহ দাদু, তুমি কেমন আছ?’
‘আমি ভালো আছি। তুমি কেমন আছ মাছ?’
মাছ বলল, ‘আমিও ভালো আছি।’
সিংহ বলে, ‘আজ থেকে তুমিও আমার বন্ধু।’
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রওনা হলো পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখতে এবং স্বজনদের খবর নিতে। সিংহ আমার চিড়িয়াখানায় থাকতে মন চায় না। তাই পালিয়ে এসেছি এই জঙ্গলে। আমরা সবাই মুক্তমনে চলব। হরিণ বলল, ‘সিংহ মামা আমিও চলে এসেছি। তোমাকে ছাড়া একা কী করে থাকি!’
সিংহ বলল, ‘ভালো করেছিস।’
এই প্রথম খোলা আকাশে নিঃশ্বাস নেওয়ার পর মনে হলো, পৃথিবীটা অনেক সুন্দর।
মাছ বলল, ‘ইস! যদি পাখি হতাম। তাহলে আকাশে উড়ে যেতাম।’
পাখি হা হা হো হো হেসে বলল, ‘আমার মতো উড়তে চাও? তুমি বোধহয় পাগল হয়ে গেছ। কী বোকা তুমি! এটা কি সম্ভব? কোথায় আমি কোথায় তুমি!’
সিংহ বলল, ‘ছোকরা মাছ বলে কী? তুমি তো মাছ। তোমার জীবন বাঁচবে জলে। যার যেখানে স্থান তাকে তো সেখানে মানাবে।’
‘সিংহ দাদু, আমরা কেন মাছ হলাম? যে কোনো সময় জেলেরা ধরে ফেলবে। তারপর রান্না করে তাদের পেট ভরাবে। আমাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া, সম্মান কিছু নেই। সব সময় জলে চিন্তিত থাকি। ধুঁকে ধুঁকে মরার জন্য কি আমাদের জন্ম হয়েছে। এই বিরাট জলাশয়ে নানা রকম পাথর এবং ছোট ছোট গাছপালা, কিছু পোকামাকড় এসব নিয়ে তো আমাদের বসবাস।’
সিংহ বলল, ‘তাহলে দাদু তুমি কী করবে?’
মাছ বলল, ‘সিংহ দাদু, তুমি তো বনের রাজা। তুমি তোমার বুদ্ধি দিয়েই একটু সাহায্য করতে পারো।’
সিংহ কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায়।
পাখি বলে, ‘সিংহ মামা, উপায় কী?’
সিংহ বলল, ‘পাখি, তুমি তোমার পাখনাতে ভর করে মাছকে নিয়েই আকাশটা ঘুরে দেখাও। তাহলে তো হয়ে যায়।’
মাছ আনন্দের আতিশয্যে বলল, ‘কী মজা, কী মজা!’ এভাবে প্রত্যেক দিন কাজ শেষে পাখি মাছকে নিয়ে সন্ধ্যায় ঘুরে বেড়ায়। মাছ আনন্দে আতœহারা হয় যথারীতি!

 
Electronic Paper