আইসক্রিম!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৭

আইসক্রিম!

অলোক আচার্য ১২:০৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১

print
আইসক্রিম!

তোমরা নিশ্চয়ই সবাই আইসক্রিম খুব পছন্দ করো। শীত, গ্রীষ্ম বা বর্ষা সব ঋতুতেই পছন্দের তালিকায় থাকে আইসক্রিম। পছন্দ করারই কথা। আমাদের গ্রামে-গঞ্জে কিন্তু আইসক্রিমকে আজও ‘বরফ’ নামেই ডাকে। আজ থেকে দুই তিন দশক আগে যারা কাঠের চৌকোনা বাক্সে বাঁশের কাঠির সঙ্গে সাদা চিনি মেশানো বরফ বিক্রি করত তাদের আমরা বরফওয়ালা বলেই চিনতাম। সে সময় বেশিরভাগ জায়গাতেই এই বরফ আর এর সঙ্গে নারকেল মেশানো আরও এক রকমের বরফ মানে আইসক্রিম বিক্রি হতো। হাতে এখনকার মতোই ঘণ্টা থাকত। স্কুলে হয়তো ক্লাস করছি আর পাশ দিয়ে বরফওয়ালা যাচ্ছে। টুংটাং শব্দ হচ্ছে। আর আইসক্রিম বিক্রেতা জোরসে হাঁক ছাড়তেন, ‘অ্যাঁই, নারকেলি মালা...ই। মনটা স্যারের দিক থেকে চলে যেত সেই বরফওয়ালার দিকে। কখন ক্লাস শেষ হবে আর ছুট দিয়ে যাব বরফ খেতে। তখন তো আমরা ৫০ পয়সা আর এক টাকা দামের বরফ বেশি খেতাম। আবার এক টাকায় চারটি বরফও মাঝে মধ্যে পাওয়া যেত। এখন তা তোমাদের কাছে অবিশ^াস্য মনে হতেই পারে!

আইসক্রিম পছন্দ করে না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য। ছেলে থেকে বুড়ো আইসক্রিম খেতে চায় সবাই। কারণ আইসক্রিমের বাহারি রঙ আর মনভোলানো স্বাদ। বর্তমান সময়ে যত রকমের আইসক্রিম পাওয়া যায় আমাদের সময় এত রকম আইসক্রিম পাওয়া যেত না। যাই হোক, তোমাদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছা হয় কীভাবে এলো এই সুস্বাদু আইসক্রিম? কে-ইবা তৈরি করল এই মুখরোচক খাবার? যা দেখলেই খেয়ে দেখতে ইচ্ছে করে!

জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর একটি ঘটনা। তোমরা কেউ কেউ রোম দেশের কথা অথবা সেই দেশের ইতিহাসের পাতায় থাকা নিরো নামের এক রাজার কথা শুনেছ? না শুনলেও ক্ষতি নেই। তো সেই রাজা একদিন তার বাবুর্চির কাছে মুখরোচক কিছু খেতে চাইলেন। বাবুর্চি তার এক কর্মচারীকে দিয়ে অ্যাপেনাইন নামের পাহাড় থেকে বরফ এনে তার সঙ্গে বাদাম আর মধু মিশিয়ে রাজাকে খেতে দিলেন। ব্যস! রাজা তো দারুণ স্বাদ পেলেন। বলা যায় সেই শুরু। আবার মিসরের ফারাওরা ফলের রসের পাত্র তুষার দ্বারা আবৃত করে ঠা-া করে খেতেন বলেও জানা যায়। রাজা নিরোর খাওয়া সেই বরফ পাহাড়ের হলেও বরফ তো! আজ যে আইসক্রিম খাও সেটাও তো বরফ। বিখ্যাত ইতালীয় পর্যটক মার্কো পোলো আইসক্রিম তৈরির কৌশলটি চীন থেকে ইউরোপে নিয়ে আসেন। দুধের সঙ্গে আইসক্রিমের ব্যবহার তৈরি হয় অনেক পরে। ইতালিয়ানরাই প্রথম আইসক্রিম তৈরিতে দুধের ব্যবহার করেন।
১৯০০ সাল থেকে আইসক্রিমের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যোদ্ধাদের কাছে এবং সারা পৃথিবীতেই আইসক্রিমের ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। সেই জনপ্রিয়তা ক্রমেই বৃদ্ধিই পেয়েছে। আজও যেমন আইসক্রিম জনপ্রিয়। তোমরা বীর আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের নাম শুনেছ? জানা যায়, আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট ফুলের মধুতে বরফ দিয়ে খেতে ভালোবাসতেন। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে এসে আইসক্রিম ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এ সময় ফ্রিজ সহজলভ্য হয়ে ওঠে। ফলে আইসক্রিম আরও সহজলভ্য হয়ে ওঠে। তৈরি হয় আইসক্রিম তৈরির নতুন নতুন পদ্ধতি। আজকাল কত স্বাদের আইসক্রিম পাওয়া যায় তার ইয়ত্তা নেই! দুধের তৈরি আইসক্রিম তো আছেই, সেই সঙ্গে ভ্যানিলা, চকোলেট আরও কত কিছু! তবে তোমাদের আইসক্রিম খেতে একটু সাবধান হতেই হবে। শরীরে ঠাণ্ডা বা টনসিল থাকলে বা জ¦র থাকলে বা ঠাণ্ডাজাতীয় খাবার খেলে সমস্যা হয় এমন নিষেধ থাকলে তোমাদের আইসক্রিম থেকে একটু দূরে থাকাই উত্তম।