রাজহাঁসের ডিম

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ১৫ মাঘ ১৪২৭

রাজহাঁসের ডিম

কামরুন্নাহার দিপা ৪:২০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২০

print
রাজহাঁসের ডিম

ধবধবে সাদা বড় ডিমটা হাতে নিয়েও নিশানের ঠিক বিশ্বাস হয় না, সত্যিই রাজহাঁসের ডিম পেয়েছে। দূর থেকে দেখে তো সে ভাবছিল শিমুল তুলো পড়ে আছে গাছতলায়। এসময় পুকুরপাড়ে শিমুল ফল ফেটে প্রায়ই তুলো ছড়িয়ে থাকে। অনেকেই কুড়িয়ে নেয়। কিন্তু ওর তুলোর প্রতি আগ্রহ নেই।

ভাগ্যিস সে সত্যি সত্যিই তুলো ভেবে চলে যায়নি। গেলে খুব পস্তাতে হত। আশপাশে কেউ নেই দেখে দৌড় লাগায়। একটু দম নেওয়ার জন্য ম-লদের বাঁশবাগানে থামে। বাগানটার শেষেই ওদের ছোট্ট মাটির বাড়ি। ওখানে গিয়ে দাদির হাতে ডিমটা দিলেই বাচ্চা ফোটানোর ব্যবস্থা করে দেবে। একটা সাদা রাজহাঁসের বড় শখ তার। রাজহাঁসের বাচ্চার দাম অনেক বলে শখটা মেটাতে পারে না। 

ডিমটা পেয়ে মনটা অনেক দিন পর খুশিতে ভরে ওঠে। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। অন্যের জিনিস না জানিয়ে নেওয়াতে মনের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করে। যদিও সে চুরি করেনি কিন্তু প্রকৃত মালিককে তো ফেরতও দেয়নি। জেনে-শুনে না দিলে তো চুরির পাপ জমা হবে তার নামে। অনেক ভেবে-চিন্তে ঠিক করে সে ডিমটা যাদের হাঁস তাদের দিতে যাবে এবং অনুরোধ করবে যেন তার কাছে বিক্রি করে। ডিম কেনার জন্য ত্রিশ টাকা সে একটু একটু করে জমিয়েছে। এ পাড়ায় শুধু জমির চাচার মায়ের কয়টা রাজহাঁস আছে। নিশান বেশ কয়েকদিন টাকা নিয়ে গিয়ে জমির চাচার মাকে মিনতি করে বলেছে, ও ধলা দাদি, আমাকে একটা ডিম দেও তুমি। এই দেখো আমি টাকা এনেছি।

ধলা দাদি মিষ্টি গলায় বলেছেন, না রে ভাই, ডিম আমি বেচব না। বাচ্চা বেচি ছয় শ’ টাকা জোড়া। তা তুই পাঁচ শ’ টাকা দিস।

নিশান মন খারাপ করে ফিরে এসেছে। এত টাকা সে কোথায় পাবে?

আজ অবশ্য ঘটনা ভিন্ন। সে ইচ্ছা করলেই ডিমটা রেখে দিতে পারত। কিন্তু তা না করে টাকা দিয়ে কিনতে চাইলে ধলা দাদি নিশ্চয় ডিমটা তাকে দেবে। খুব আশা করে নিশান ডিমটা ধলা দাদির হাতে দিয়ে সাহস করে কথাটা বলল। কিন্তু ধলা দাদির সেই এক কথা, ডিম বেচে না সে।

নিশান খুব মন খারাপ করে বাড়ি ফেরার জন্য পা বাড়িয়েছে ঠিক তখন উঠোনে দড়ি পাকাতে ব্যস্ত থাকা জমির চাচা তার মাকে বললেন, ছেলেটা বেশ কয়েকদিন একটা ডিমের জন্য তোমার কাছে আসছে। তুমি দাওনি। এ ডিমটা ও রেখে দিলে তুমি জানতেও না। এইটুকু মানুষ কিন্তু লোভকে জয় করেছে। ওকে উপহার হিসেবে ডিমটা দাও।

নিশান জমির চাচার কথা শুনে খুশি হয় খুব। ছেলের কথা শুনে ধলা দাদি ডিমটা ওর হাতে দিয়ে বললেন, এই ডিমটা গোল আছে। নিশ্চিত হাঁসির হবে রে নিশু। যা, সাবধানে নিয়ে যা। দশ বছরের ছোট্ট জীবনে এত খুশি কখনো হয়নি নিশান। ওরে ডিম পাইছি রে... বলে চিৎকার করতে করতে দু’হাতে ডিমটা ধরে দৌড় দেয়।