‘লেখা থেকে শিশুরা যেন কিছু শিখতে পারে’

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ | ৭ কার্তিক ১৪২৭

সাক্ষাৎকার

‘লেখা থেকে শিশুরা যেন কিছু শিখতে পারে’

সুমন্ত আসলাম ১:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

print
‘লেখা থেকে শিশুরা যেন কিছু শিখতে পারে’

এখনকার শিশুসাহিত্য চর্চা কেমন হচ্ছে?
খুবই ভালো চলছে। বড়দের জন্য লেখার পাশাপাশি তরুণ-প্রবীণ সব লেখকই শিশুদের জন্য নিয়মিত লিখছেন। এতে বিভিন্ন ধরনের, বিভিন্ন আমেজের লেখা পাচ্ছে পাঠক। শিশুসাহিত্য চর্চা যে ভালো চলছে, এটার আরও একটা প্রমাণ হচ্ছেÑ কেবল শিশুবিষয়ক লেখা প্রকাশের জন্য অনেকগুলো প্রকাশনা সংস্থা গড়ে উঠেছে আমাদের দেশে। এবং তারা সফল।

উল্লেখযোগ্য শিশুসাহিত্যিক কারা; কী বৈশিষ্ট্যে তাদের শনাক্ত করবেন?
সুনির্দিষ্টভাবে শিশুসাহিত্যিক আমাদের দেশে তেমন নেই বললেই চলে। সবাই কম-বেশি সব বয়সী পাঠকদের জন্য লিখছেন। এবং যারা ভালো লিখছেন, সবকিছুই ভালো লিখছেন তারা। যারা উপন্যাস লিখছেন, এটা তাদের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, তেমনি যারা গল্প-কবিতা-ছড়া লিখছেন, তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে তাদের আলাদা করে শিশুসাহিত্যিক বলা সমীচীন হবে না।

আপনার প্রথম শিশুতোষ বই কোনটি; পাঠক কীভাবে গ্রহণ করেছিল?
আমার লেখা প্রথম শিশুতোষ বইটি হচ্ছে- ‘দস্যি ছেলের দল’। এখানে একটা কথা বলা প্রয়োজন- শিশুতোষ বই পড়ে শিশুরা। কিন্তু শিশুরা কি আদৌ পড়তে পারে? আসলে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য বই কিনে দেওয়া হয় তাদের। আর এটা করেন তার বাবা-মা। সে হিসেবে এই বাবা-মায়েদের যারা আমার বই পছন্দ করেন, কেনেন, পড়েন; এই বইটিও তারাই কিনেছেন। বলা যায়- শিশু নিজে নয়, তার বাবা-মা পাঠক হিসেবে ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন।

শিশুসাহিত্যিক হওয়ার নেপথ্যের অনুপ্রেরণা কী?
আমি মূলত কেবল শিশুসাহিত্যিক নই। সাহিত্যের সব ক্ষেত্রেই কলম চালাতে ভালো লাগে আমার। প্রতি বছর শিশুদের জন্য বই লিখি। আমার মনে হয় একটা লেখককে নির্দিষ্ট একটা গণ্ডিতে ফেলা ঠিক নয়। যারা লিখতে পারেন, তারা সব বিষয়েই প্রায় লিখতে পারেন। আর লেখকদের অনুপ্রেরণা তো অনেক বিষয় থেকে আসে।

একজন আদর্শ শিশুসাহিত্যিকের কী গুণ থাকা উচিত?
শিশুদের মন বোঝার অপরিসীম একটা গুণ থাকা দরকার তাদের। শিশুরা মূলত সব বিষয়ে কৌতূহলী, এটাও লেখককে খেয়াল রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা- শিশুদের জন্য যে লেখাটি লেখা হয়, সেটা যেন এমনি-সেমনি লেখা না হয়, লেখাটি থেকে সে যেন কিছু একটা শিখতে পারে।

শিশুর মানস গঠনে সাহিত্য পাঠ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম কতটা জরুরি?
একটা দেশের মেরুদ-ই গড়ে ওঠে সে দেশের সংস্কৃতির ওপর। সাহিত্য আর সংস্কৃতি মিলেই একটি জাতির পরিচয় সৃষ্টি হয়। সেখানে শিশুর মানস গঠনে সাহিত্য পাঠ অতীব জরুরি। এর সঙ্গে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে তো তার যোগসূত্র থাকতেই হবে। আরও একটা জিনিস খুব প্রয়োজন- ক্রীড়ার পরিপূর্ণ চর্চা করা।

অতীতের জনপ্রিয় শিশু-কিশোর সংগঠনগুলো নিষ্ক্রিয়; বর্তমানেও শিশুবান্ধব সংগঠন সৃষ্টি হচ্ছে না। এটা ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
কৃত্রিমভাবে বেড়ে উঠবে শিশুরা, যেটা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এতে তারা কেবল অমানবিক মানুষ হয়েই কেবল গড়ে উঠছে না, তারা নিজের পরিচয় ‘মানুষ’ শব্দটার প্রকৃত অর্থ জানছে না। কিশোর গ্যাং শব্দটার সঙ্গে পরিচয় আমাদের আট-দশ বছর আগেও ছিল না। এখন রাস্তায় রাস্তায়, পাড়ায় পাড়ায় দুষ্ট কিশোরদের দৌরাত্ম্য। আমরা ভালো প্রজন্ম পাচ্ছি না, ভবিষ্যতে আরও পাব না।

স্মৃতিতে উজ্জ্বল ম্যাগাজিন ও দৈনিক পত্রিকার শিশুপাতা কোনগুলো? বর্তমানে দৈনিকগুলোর শিশুপাতার আয়োজন ও কার্যক্রম নিয়ে কতটুকু সন্তুষ্ট আপনি?
আমার লেখালেখিই শুরু হয়েছে সেবা প্রকাশনীর ‘কিশোরপত্রিকা’ থেকে। চমৎকার একটা বই আকারের পত্রিকা ছিল। এত চমৎকার চমৎকার সব লেখা ছাপা হত! কচি-কাঁচার আসর নামে যে পাতা বের হয় ইত্তেফাক থেকে, সেটার নাম এখনো ভালোই শোনা যায়, তবে মানের দিক থেকে খুবই অস্বস্তিকর। প্রথম আলোর ‘গোল্লাছুট’, সমকাল-এর ‘ঘাসফড়িং’ পাতা দুটো বেশ ভালো। আরও একটা ম্যাগাজিন বেশ সাড়া জাগিয়েছে শিশু-কিশোরদের মধ্যে- প্রথম আলোর ‘কিশোর আলো।’ আমি এবং আমার মেয়ে এর নিয়মিত পাঠক।

লেখালেখিতে উৎসাহী নবীনদের কী পরামর্শ দেবেন?
ক্রমাগত পড়তে থাকা, ক্রমাগত লিখতে থাকা। আশপাশের মানুষজন অনেক কিছুই বলবে, কিন্তু সেসব কানে না নেওয়া। তবে ঝট করেই বই বের করা উচিত না। একটু বুঝে একটু শুনে ‘বইয়ের লেখক’ হওয়া উচিত। তাতে টিকে থাকা যায়।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ
শফিক হাসান