এলিয়েন ও অরণ্য

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ | ৭ কার্তিক ১৪২৭

এলিয়েন ও অরণ্য

সুজন সাজু ১:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

print
এলিয়েন ও অরণ্য

বিশাল এলাকা, তবে স্থানটা নীরব। চতুর্দিকে গাছগাছালির মেলা। অরণ্য, মাঝে মধ্যে স্থানটাকে বেছে নেয়, সময় কাটানোর জন্য। আজও বসে বসে ভাবে পৃথিবীর সৃষ্টির রহস্য নিয়ে। বইপুস্তক পড়ে জানতে পেরেছে, পৃথিবীর মতো আরো গ্রহ নক্ষত্র আছে। বিজ্ঞানীরা রহস্য উদঘাটনে প্রচুর সময় ব্যয় করছে। কেউ কেউ মনে করে, অন্য গ্রহগুলোতে নাকি মানুষের মতো প্রাণীর অস্তিত্ব আছে। এরা মানুষের চেয়ে বহুগুণে বুদ্ধিমান।

যেগুলোকে আমরা বলি এলিয়েন। আসলে এলিয়েনগুলো দেখতে কেমন, এরা কি কথা বলতে পারে? এদের কি হাত পা আছে? এরা কি মুখ দিয়ে খাবার খায়? প্রশ্নগুলো অরণ্যের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তাদের দেশটিই বা কেমন? ভাবতে ভাবতে আনমনা হয়ে যায় অরণ্য। এলিয়েনটা কী জিনিস, জানতে ইচ্ছে জাগে অরণ্যের। ভাবনা যখন এলিয়েন, তখন আর কিছু অনুভবে আসছে না অরণ্যের। চোখ দুটোয় ঘুম ঘুম রেশ। হঠাৎ একটা হাওয়ার বেগ খুব জোরে ধাক্কা দিয়ে চলে গেল। অরণ্য বুঝতে চেষ্টা করে, হাওয়ার গতিটা। অনতি দূরে কিছু একটার অস্তিত্ব আবছা আবছা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে পুরোপুরি অবয়ব লক্ষ করার মতো নয়। অস্তিত্বটা কেমন জানি, অরণ্যের প্রতি আগ্রহী লাগছে। আগ্রহী হয়ে উঠল অরণ্যও। এবার হাওয়াটা যেন চতুর্দিকে ঘুরছে। এমন লাগছে অরণ্যের। আসলে কি তাই? খানিক এগিয়ে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে অরণ্য, এমন সময় ফিসফিসিয়ে একটা আওয়াজ কানে বাজল। আসিও না, আমিই আসছি তোমার নিকটে। একটু ভড়কে গেল অরণ্য। কিছু দেখতে পাচ্ছে না, অথচ কথা বলছে আসিও না! তাহলে জিনিসটা কী?

আমি কী, কেন এসেছি, সব বলব। একটু অপেক্ষা করো অরণ্য।

আরও অবাক হয়ে গেল, নামও বলছে, আর যা ভাবছে সবই অনায়াসে ঠিক ঠিক বলে দিচ্ছে! অরণ্য এবার সিদ্ধান্ত নিল, পরিচয় জানতে হবে আগে। না হলে সে কীভাবে বুঝবে, কার সঙ্গে কথা বলছে? যখন অরণ্য জিজ্ঞেস করল- তুমি কে, কোথায় থেকে এসেছ, তোমার অস্তিত্ব কি? আগে তোমার অস্তিত্বের স্বরূপ উন্মোচন করো, আমি দেখতে চাই তোমার অবয়ব। প্রতি উত্তরে বলে ওঠে, অরণ্য, এত অধৈর্য হচ্ছো কেন তুমি? এসেছি যখন তোমাকে সব খুলেই বলব এবং তোমার ভাবনার সব প্রশ্নের উত্তরও দেব। তবে এটাও জেনে রাখো, খালি চোখে আমাদের দেখতে পাবে না। শুধু তুমি নয়, কেউ দেখতে পায় না আমাদের। আমরাই দেখি এবং তোমাদের সব কিছু সম্পর্কে আমরা অবগত ও জানতে পারি। আমাদের দৃষ্টিশক্তি তোমাদের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। চলার গতি বাতাসের গতি, এমনকি আলোর গতি থেকেও তীব্রতর।
বলে কী এসব! অরণ্য ভাবে। তাহলে, তুমি কি এলিয়েন?

তোমরা, মানুষরা এলিয়েন বলো আর যা বলো, আমরা কিন্তু এই গ্রহের বাসিন্দা নই। আমাদের গ্রহ তোমাদের পৃথিবীর চেয়ে লক্ষ কোটি গুণ বড়। তবে তোমাদের মতো মানুষের ন্যায় প্রাণীদের কোনো ভিড় নেই। পৃথিবীর মতো ভয়ানক ও দূষিত যান্ত্রিকতার নিদর্শন বলতে কিছু নেই। আমরা নিজেরাই সবকিছু করার ক্ষমতা রাখি। এমনকি গ্রহ থেকে গ্রহে, চাইলে সেকেন্ডে পৌঁছাতে পারি। এই যে মন চাইল পৃথিবীতে ঘুরতে এলাম। ঘুরতে ঘুরতে দেখলাম তুমি আনমনা হয়ে কী ভাবছ? তাই তোমার দ্বারে ছুটে এলাম। এবার বলো, তুমি আমাদের সম্পর্কে কী জানতে চাও? সাহস সঞ্চার করে অরণ্য। আচ্ছা, তুমি যে বললে অন্য গ্রহের বাসিন্দা, তাহলে আমাদের গ্রহে তোমাদের কাজটা কী? কেন তোমরা আমাদের পৃথিবীতে আসো?

তাহলে শোনো। প্রথমেই বলেছি, আবারও বলছি, আমরা তোমাদের মতো মানুষ নয়। যদিও আমাদের প্রাণ আছে। আমাদের গ্রহ তোমাদের পৃথিবী নামক গ্রহ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের ওখানে কোনো শাসনকর্তা নেই। তোমাদের মতো এত জোর জুলুম, ধর্ম, কর্ম নিয়ে নেই কোনো বাড়াবাড়ি। নেই কোনো হিংসা বিদ্বেষ। আমরা আমাদের মতো করে যেমন খুশি ওভাবেই চলাফেরা করার স্বাধীনতা আছে। কেউ বড়, কেউ ছোট এমন কোনো ভেদাভেদ আমাদের মাঝে নেই। এজন্যই আমরা তোমাদের চেয়ে এগিয়ে। তোমরা, মনুষ্যরা একে অপরের ক্ষতি করতে একটুও কুণ্ঠাবোধ করো না। কেউ এগোতে চাইলে তোমরা তাকে টেনে ধরো সেই যেন এগোনোর সুযোগ না পায়। এটাই তোমাদের মনুষ্য জাতির বৈশিষ্ট্য। এমন বৈশিষ্ট্য আমাদের বিন্দুমাত্র নেই।

আসলেই তাই, অরণ্য ভাবে। যা বলেছে তার কোনোটাই মিথ্যে নয়। ভাবতে ভাবতে অরণ্য নিজের মাঝে হারিয়ে যায়। আর কিছু জিজ্ঞেস করবে, এমন সাহসও কুলাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর সংবিত ফিরে পায় অরণ্য, দেখে আগের মতোই একা বসে আছে, আশপাশে কিছুই নেই!