অনুমতি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০ | ৭ কার্তিক ১৪২৭

অনুমতি

আলী এরশাদ ১:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

print
অনুমতি

খোকন এসে কোলে বসে বলল হেসে, ‘বাবা
সারাটাদিন আপনমনে খেলছ বসে দাবা।
এতে তোমার হয় না কী গো সময় অপচয়?
এতে কী নেই মোটেও তোমার নষ্ট হওয়ার ভয়?
আমি যখন ঘুড়ি উড়াই, পুড়াই ম্যাচের কাঠি
তুমি তখন তেড়ে আসো হাতে নিয়ে লাঠি।

নষ্ট হয়ে গেছি বলে চোখটি করো লাল
ইতর, পাজি, পচা বলে করো গালাগাল।
আর যেন না দেখি তোমায় ঘুরতে মাঠে মাঠে
পড়তে যদি ইচ্ছে না হয় থাকবে শুয়ে খাটে।
পড়া রেখে সারাটাদিন কীসের খেলাধুলা?
পাঠে যদি মন না বসাও বন্ধ হবে চুলা।
আমায় তুমি ধমক দিয়ে খেলতে করো মানা
অথচ সেই তুমিই খেলার পাগল ষোলোআনা।
তুমি খেলাও বারান্দাতে বন্ধু নিয়ে বসে
তখন আমার সময় কাটে অংক কষে কষে।
ভাল্লাগে না এত পড়া মন করে আনচান
কানের ভেতর বাজে আমার হরেক পাখির গান।
প্রজাপতি, ফড়িং আমায় ডাকে সুরে সুরে
আকুল করা সে সুর শুনে যায় না থাকা দূরে।
ইচ্ছে করে ছুটে গিয়ে নদীতে দিই ঝাঁপ
কিন্তু তোমার সংবিধানে এটা ভীষণ পাপ!
শিথিল করো আইন তোমার দাও না অনুমতি
একটুখানি খেললে বলো এমন কী আর ক্ষতি।
খেললে আমার মন ভালো হয় পড়ায় বসে মন
খেলার শেষে পড়ব আমি এই করলাম পণ।’
সবটা শুনে অবশেষে দিলাম অনুমতি
ঠিক হবে না বন্ধ করা ওর স্বাভাবিক গতি।
কিন্তু দিলাম শর্তজুড়ে সীমিত হোক খেলা
পাঠের প্রতি কোনোভাবেই হয় না যেন হেলা।